গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

কিশমিশ খাওয়া কি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৫১ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০০:২৯ এএম ২০২৬
কিশমিশ খাওয়া কি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো
ছবি

ছবি সংগৃহীত

সকালে খালি পেটে কয়েকটি ভেজানো কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কেউ বলেন হজম ভালো থাকে, কেউ বলেন রক্তস্বল্পতা কমে, আবার কেউ একে ত্বকের জন্য ন্যাচারাল টনিক মনে করেন।

কিন্তু এটা কি শুধু লোকজ ধারণা, নাকি সত্যিই এর পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে? পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখলে, সকালে কিশমিশ খাওয়ার কিছু বাস্তব উপকারিতা আছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতাও জরুরি।

কিশমিশ মূলত শুকনো আঙুর। শুকানোর ফলে এতে প্রাকৃতিক শর্করা, ফাইবার, আয়রন, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘনত্ব বেড়ে যায়। সকালে ভেজানো কিশমিশ খেলে শরীর সহজে এসব পুষ্টি শোষণ করতে পারে। বিশেষ করে রাতে ভিজিয়ে রাখলে কিশমিশ নরম হয় এবং হজমের জন্য আরো উপযোগী হয়ে ওঠে।

১. হজমের বন্ধু
সকালে কিশমিশ খাওয়ার সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো হজমে সহায়তা। এতে থাকা ডায়েটারি ফাইবার অন্ত্রের গতিশীলতা বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে এবং গাট হেলথ ভালো রাখে। নিয়মিত সকালে অল্প পরিমাণ কিশমিশ খেলে অনেকের গ্যাস ও পেট ফাঁপার সমস্যা কমে।

২. হিমোগ্লোবিন তৈরি
রক্তস্বল্পতা বা আয়রনের ঘাটতিতে ভোগা মানুষের জন্যও কিশমিশ উপকারী হতে পারে। এতে উদ্ভিজ্জ আয়রন থাকে, যা নিয়মিত গ্রহণ করলে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়তা করে। ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে কিশমিশ খেলে আয়রন শোষণ আরও ভালো হয়।

৩. ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য
কিশমিশে থাকা পটাশিয়াম শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি র‌্যাডিক্যালের ক্ষতি কমিয়ে কোষের সুরক্ষা দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌যন্ত্র ও ত্বকের জন্য ভালো।

সবার জন্য নিরাপদ নয়
১. ডায়াবেটিস
কিছু উপকারীতা থাকলেও সব জিনিস সবার জন্য নয়। যেমন - ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। কিশমিশে প্রাকৃতিক চিনি অনেক বেশি থাকে এবং এর গ্লাইসেমিক লোড তুলনামূলকভাবে উচ্চ। সকালে খালি পেটে বেশি কিসমিস খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া কিশমিশ খাওয়া উচিত নয়।

২. স্থূলতা
যাদের ওজন বেশি বা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদেরও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। কিশমিশ ক্যালোরি-ঘন খাবার, যা অল্প খেলেও ক্যালোরি দ্রুত যোগ হয়। দিনে ৮–১০টির বেশি না খাওয়াই নিরাপদ।

৩. পেটের সমস্যা
এ ছাড়া যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস , দীর্ঘদিনের গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে কিশমিশ পেটের অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

৪. কিডনির অসুখ
কিডনির সমস্যা থাকলে উচ্চ পটাশিয়ামের কারণে কিশমিশ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সকালে ভেজানো কিশমিশ খাওয়া সুস্থ মানুষের জন্য উপকারী হতে পারে, যদি পরিমাণ কম ও নিয়মিত হয়। তবে এটি কোনো ম্যাজিক ফুড নয়। নিজের শরীরের অবস্থা বুঝে, প্রয়োজন অনুযায়ী কিশমিশকে খাদ্যতালিকায় রাখাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

সূত্র: হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার (ইউএসডিএ) ফুডডাটা সেন্ট্রাল, এনএইচএস ইউকে

এসি/আপ্র/১৭/০১/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

সম্প্রীতির বাংলাদেশে এখন বিরাজ করছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ
১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্প্রীতির বাংলাদেশে এখন বিরাজ করছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ

দেশজুড়ে মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজ...

পোশাক বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়েই ভিন্নতাকে জানানো হয় সম্মান
১৯ অক্টোবর ২০২৬

পোশাক বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়েই ভিন্নতাকে জানানো হয় সম্মান

‘লাউড শার্ট ডে’র মূল উদ্দেশ্য হলো শ্রবণশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রয়োজ...

ভ্রমণে গিয়ে হোটেল-রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষায় সতর্কতা
১৯ অক্টোবর ২০২৬

ভ্রমণে গিয়ে হোটেল-রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষায় সতর্কতা

ভ্রমণে গিয়ে অনেক সময় নানা রকম বিপদের মুখে পড়তে হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে অগ্নিকাণ্ড। তাই অগ্নি...

শারদীয় দুর্গাপূজার অন্যতম আকর্ষণ সুস্বাদু খাবার
১৯ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজার অন্যতম আকর্ষণ সুস্বাদু খাবার

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজার অন্যতম আকর্ষণ হলো সুস্বাদু সব খাবার। আর...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই