গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

তেল-গ্যাসের বাড়তি দামে মাথা গরমসহ আছে মনের অস্বস্তি

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৩৮ পিএম, ১২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২২:৪৮ এএম ২০২৬
তেল-গ্যাসের বাড়তি দামে মাথা গরমসহ আছে মনের অস্বস্তি
ছবি

ছবি সংগৃহীত

সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন; কখন গ্যাস পাবেন, আদৌ ট্যাংক ভরতে পারবেন কি না- তা নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে। আবার গাড়িতে তেল নিতে গিয়ে মিটারের অঙ্ক দ্রুত বাড়তে দেখছেন। রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে শুনছেন, নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি টাকা দিতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে বিরক্তি, উদ্বেগ কিংবা অসহায় লাগা অস্বাভাবিক নয়। বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে মানুষের এই অভিজ্ঞতা এখন আরও তীব্র। কিন্তু জ্বালানির দাম বাড়লে এত অস্বস্তি লাগে কেন? এর উত্তর শুধু পকেটের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের মনস্তত্ত্বও।

খরচের অঙ্ক চোখের সামনে বাড়তে থাকা: মনোবিজ্ঞানে টাকা খরচ করার সময় যে অস্বস্তি তৈরি হয়, তাকে বলা হয় ‘পেইন অব পেইং’ অর্থাৎ খরচের মানসিক যন্ত্রণা। সাধারণত কোনও পণ্য কেনার পর আমরা সেটি ব্যবহার করি। কেনার সময় কত টাকা দিয়েছি, সেই হিসাব পরে ধীরে ধীরে মন থেকে সরে যায়। কিন্তু জ্বালানি কেনার অভিজ্ঞতা আলাদা। পাম্পে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়ার সময় মিটারের অঙ্ক চোখের সামনেই বাড়তে থাকে। যতক্ষণ জ্বালানি ভরা হয়, ততক্ষণই টের পাওয়া যায় কত টাকা খরচ হচ্ছে। অর্থাৎ, টাকা দেওয়া আর কেনা জিনিস ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা এখানে প্রায় একই সময়ে ঘটে। ফলে খরচের বিষয়টি বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হয়।

গবেষক ড্যানিয়েল প্রিলেক ও জর্জ লোয়েনস্টাইন ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই মানসিক অস্বস্তির বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তাদের আলোচনার মূল কথা হলো, টাকা খরচ করার অনুভূতি যত সরাসরি ও তাৎক্ষণিক হয়; অস্বস্তিও তত বেশি হতে পারে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও সহজে বোঝা যায়। গাড়িতে তেল নেওয়ার সময় বাড়তি কয়েকশ টাকা খরচের হিসাব যেমন চোখে পড়ে, তেমনি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি টাকা দিতে হলে ওই চাপও তাৎক্ষণিকভাবে অনুভূত হয়।

দাম বাড়লে শুরু হয় সস্তা বিকল্পের খোঁজ: জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে মানুষ সাধারণত কম খরচে তা কেনার উপায় খোঁজে। কোথায় তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাবে, কোন পথে গেলে কম জ্বালানি লাগবে, কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে অন্য পরিবহন ব্যবহার করা যায় কি না- এসব ভাবনা বাড়ে। তবে সস্তা জ্বালানি খুঁজতে গিয়ে দূরের কোনও স্টেশনে চলে যাওয়াই সব সময় লাভজনক নয়। সেখানে যেতে যে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হবে, তা সাশ্রয়ের চেয়ে বেশি হয়ে যেতে পারে। আবার দাম কমতে শুরু করলে সস্তা বিকল্প খোঁজার আগ্রহও কমে যেতে পারে। গবেষকেরা দেখেছেন, জ্বালানির দাম বাড়ার সময় মানুষ দামের তুলনা করতে বেশি আগ্রহী হয়; দাম কমার সময় সেই তৎপরতা কমে আসে।

বাংলাদেশে অবশ্য সিএনজি বা এলপিজির ক্ষেত্রে বিষয়টি কেবল কম দামে কেনার সুযোগ খোঁজার নয়। অনেক সময় কোথাও গ্যাস পাওয়া যাবে কিনা, সেটিই বড় প্রশ্ন। ফলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা, এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে যাওয়া কিংবা বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করার বাড়তি খরচও মানুষের উদ্বেগ বাড়াতে পারে।

জ্বালানির দাম বাড়লে অন্য খরচ নিয়েও ভয়: জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব শুধু গাড়ির ট্যাংক বা রান্নাঘরের সিলিন্ডারে সীমাবদ্ধ থাকে না। মানুষের মনে আশঙ্কা তৈরি হয়, এবার হয়তো পরিবহন ভাড়া, খাবার কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্য পণ্যের দামও বাড়বে। ২০২৬ সালে প্রকাশিত সান ফ্রান্সিসকো ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ যখন জ্বালানির দাম বাড়বে বলে আশা করে, তখন অন্য পণ্যের দামও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করার প্রবণতা দেখা যায়। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর মধ্যে এই প্রভাব তুলনামূলক বেশি।

বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে অনেক পরিবারের আয়ের বড় অংশই খাবার, যাতায়াত ও বাসাভাড়ার মতো প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় হয়, সেখানে জ্বালানির দাম নিয়ে উদ্বেগ আরও বিস্তৃত হতে পারে। মাসের বাজেট মেলাতে হিমশিম খাওয়া মানুষ তখন শুধু বর্তমান খরচ নয়, সামনে আরও কত টাকা লাগতে পারে- সেই হিসাবও করতে থাকে। তবে জ্বালানির দাম বাড়লেই সব পণ্যের দাম একই হারে বাড়বে, এমন নয়। কিন্তু বাড়তি খরচের আশঙ্কাটিও মানুষের বর্তমান মানসিক চাপ বাড়াতে পারে।

অস্বস্তি কমাতে কী করা যায়: জ্বালানির দাম বা সরবরাহের সংকট ব্যক্তিগতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা কিছু বিষয়ে নজর দেওয়া যায়। অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমানো, সম্ভব হলে একসঙ্গে কয়েকটি কাজ সেরে ফেলা, যাত্রাপথ পরিকল্পনা করা এবং বাস্তবসম্মত মাসিক বাজেট তৈরি করা খরচ সামলাতে সাহায্য করতে পারে।

জ্বালানির দাম বাড়লে মানুষের বিরক্তি নিছক হিসাবি অসন্তোষ নয়। প্রতিবার টাকা খরচের দৃশ্যমান চাপ, সামনে আরও খরচ বাড়ার আশঙ্কা এবং দৈনন্দিন জীবন চালানোর অনিশ্চয়তা- সব মিলিয়েই তৈরি হয় এই অস্বস্তি। সংকটের সময়ে মানুষের মানসিক চাপ বুঝতে হলে পাম্পের মিটার কিংবা গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম দেখার পাশাপাশি সেই খরচ সামলাতে গিয়ে তার মনে কী চলছে, সেটিও বোঝা প্রয়োজন।

কেএমএএ/আপ্র/০৪.১০.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

দাম্পত্য কলহ ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ই পরকীয়া বিস্তারের কারণ
১২ অক্টোবর ২০২৬

দাম্পত্য কলহ ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ই পরকীয়া বিস্তারের কারণ

পরকীয়া বর্তমানে ক্রমবর্ধমান একটি সামাজিক ও নৈতিক সমস্যা। এক সময় যে বিষয়টি সমাজে অত্যন্ত গোপন ও নিন্দ...

দুর্গা প্রতিমায় লাগে গোবর, গোমূত্র, গঙ্গাপলির সঙ্গে পতিতালয়ের মাটিও
১২ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গা প্রতিমায় লাগে গোবর, গোমূত্র, গঙ্গাপলির সঙ্গে পতিতালয়ের মাটিও

শারদীয় দুর্গাপূজা মানেই ঢাকের বাদ্যি, ধূপের গন্ধ, আলোর সাজ আর মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দুর্গার আরাধনা। প্র...

প্রযুক্তির বিস্তারে হারিয়েছে ডাকপিয়ন আর চিঠি আসার অপেক্ষা
১২ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তির বিস্তারে হারিয়েছে ডাকপিয়ন আর চিঠি আসার অপেক্ষা

‘চিঠি এসেছে চিঠি’- এক সময় ডাকপিয়নের এমন ডাকাডাকি শুনলেই বাড়ির উঠানে ছুটে আসতেন অনেকেই। কারো অপেক্ষা...

ভিন্ন স্বাদের সাবুদানার মজাদার খিচুড়ি ও পাকোড়া
১২ অক্টোবর ২০২৬

ভিন্ন স্বাদের সাবুদানার মজাদার খিচুড়ি ও পাকোড়া

একটা সময় ছিল সাবুদানাকে মনে করা হতো শুধু রোগীর পথ্য। অথচ এ সাবুদানা দিয়েই বানানো যায় মজাদার নানা পদ।...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

অটোরিকশার দাবির পক্ষে বলা নেতার আছে ৭০০ বাহন

অটোরিকশা চালকদের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, জনগণের কাছে বারবার খোলস বদলে পার পাওয়া যাবে না। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের পিলারে জুলাইয়ের চিত্রাঙ্কন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সাত শ অটোরিকশা থাকার অভিযোগকে কাল্পনিক, অসত্য ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ চেয়েছে দলটি| প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন প্রশাসক সত্য বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে