ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রতিবাদে দেশজুড়ে সমন্বিত বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে ফিলিস্তিনপন্থি বিভিন্ন সংগঠন। বাড়তি নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তা উপেক্ষা করেই কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আয়োজকেরা।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়াস্থ ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক এক বিবৃতিতে বলেছে, আইজ্যাক হারজোগ কোনো আনুষ্ঠানিক অতিথি নন। তিনি গাজায় গণহত্যা চালানো একটি সরকারের রাষ্ট্রপ্রধান। তাদের এই আহ্বানে একাত্মতা জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া।
সংগঠনটি বলেছে, হারজোগকে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে স্বাগত জানানো জবাবদিহিতা ও ন্যায়ের প্রতি অস্ট্রেলিয়ার অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সিডনিতে যাওয়ার কথা রয়েছে হারজোগের। তিনি গত ডিসেম্বরে বন্ডি বিচে ইহুদি ধর্মীয় উৎসব হানুকা উদ্যাপনকালে সংঘটিত বন্দুক হামলায় নিহত ১৫ জনের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এ উপলক্ষে নিউ সাউথ ওয়েলস কর্তৃপক্ষ সিডনির কেন্দ্রীয় কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তবে আয়োজকদের দাবি, তারা সিটি টাউন হলেই সমাবেশ করবেন।
বিক্ষোভকারীরা টাউন হল থেকে ম্যাকোয়ারি স্ট্রিটের দিকে মিছিলের পরিকল্পনা করেছেন, যদিও ওই এলাকা নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। একই দিনে মেলবোর্ন, পার্থ ও রাজধানী ক্যানবেরাতেও বিক্ষোভের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা হারজোগের সফরের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিরোধিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ফিলিস্তিনপন্থি ইহুদিদের সংগঠন প্রগ্রেসিভ জুয়িশ কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়াও এই সফরের বিরোধিতা করেছে। সংগঠনটির মতে, বন্ডি বিচ হামলায় নিহতদের প্রতি শোককে ব্যবহার করে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা একজন ইসরায়েলি নেতাকে বৈধতা দেওয়া উচিত নয়।
এ ছাড়া একাধিক নাগরিক সমাজ সংগঠন হারজোগকে ভিসা না দিতে কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি আবেদন জানিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার মানবাধিকার আইনজীবী ক্রিস সিদোতি হারজোগকে গ্রেফতারের আহ্বান জানালেও ফেডারেল পুলিশ তা নাকচ করে দিয়েছে। তাদের যুক্তি, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি পূর্ণ আইনি দায়মুক্তি ভোগ করেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের সফরের শোকাবহ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে বিক্ষোভকারীদের সংযম দেখানো এবং জাতীয় ঐক্যের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, দায়মুক্তির অজুহাতে হারজোগকে বিক্ষোভের বাইরে রাখা যায় না। তারা জাতিসংঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেছেন, হারজোগ গণহত্যায় উসকানি দিয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধে অন্তত ৭১ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন; ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সানা/মেহেদী/৮/২/২০৬