ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় দুর্গাপূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় পূজা কমিটির কর্মকর্তাসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অনিচ্ছাকৃত প্রাণহানির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর কলকাতার একাধিক বড় পূজামণ্ডপ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজামণ্ডপে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হিন্দুদের ১০ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের সপ্তমী তিথিতে সেখানে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছিল। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চোরবাগান দুর্গাপূজা কমিটির সম্পাদক রাজকুমার সেওদা ও সহসভাপতি শান্তনু দুবে। এ ছাড়া বাঁশের কাঠামো নির্মাণের দায়িত্বে থাকা বিপ্লব মুখার্জি, ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা কৌশিক সাহা ও পিন্টু দে এবং বেসরকারি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সুমন চক্রবর্তী ও রাজেশ পালকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আহত ব্যক্তিদের দেখতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের বলেন, পূজামণ্ডপের আয়োজকদের মাইকে দেওয়া একটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তবে মাইকে ঠিক কী ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
অধিকারী আরো বলেন, নিহত দুজনের পরিবারের সদস্যদের দাবি, পূজামণ্ডপ এলাকায় বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের বাঁশি বাজানোর কারণে ভেতরে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ: দুর্ঘটনার পর থিমভিত্তিক দুর্গাপূজার আয়োজকদের মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য যথেষ্টসংখ্যক ফটক রাখার আহ্বান জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘অনেক মণ্ডপে থিম পূজার নামে আলো কম রাখা হয়।’ এ ধরনের আয়োজনের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের পরামর্শ মেনে চলারও আহ্বান জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘থিমের চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য বেশি।’ তিনি জানান, দুর্ঘটনাস্থল তদন্তের জন্য ফরেনসিক বিভাগ, পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স এবং দমকল বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ দুর্ঘটনার কারণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কর্মসূচিসহ সব সরকারি কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতায় পৌঁছানোর পর রোববার তাঁর কয়েকটি দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কথা ছিল।
একাধিক পূজামণ্ডপে প্রবেশ বন্ধ: পদদলনের ঘটনার পর কলকাতার একাধিক বড় দুর্গাপূজামণ্ডপ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। বার্তা সংস্থা পিটিআই এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের কাছে জনপ্রিয় তালা প্রত্যয়, আলিপুর সর্বজনীন, চেতলা অগ্রণী ও বালিগঞ্জ সর্বজনীনের মতো পূজামণ্ডপেও প্রবেশ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কলকাতায় এবার প্রায় তিন হাজার ৫০০টি দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগমের মধ্যে এ দুর্ঘটনা পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সূত্র: এনডিটিভি, পিটিআই
সানা/আপ্র/১৮/১০/২০২৬