দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামজনিত কারণে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের হাম শনাক্ত হয়েছিল, আর বাকি তিনজনের হাম উপসর্গ ছিল। এ নিয়ে চলতি বছর হাম উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২ জনে। আর হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ১০২ জন। সব মিলিয়ে হামজনিত কারণে এ বছর ১ হাজার ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, হাম উপসর্গে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে - ৪৫৫ জন। এরপর সিলেট বিভাগে মারা গেছে ১৭৯ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮০, চট্টগ্রামে ৮৬, বরিশালে ৬০, খুলনায় ৪৪ ও রংপুর বিভাগে ১৫ জন মারা গেছে।
বুলেটিন অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ১ হাজার ২২১ জন হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৪৪ জন।
এ সময়ে ঢাকা বিভাগে উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৩৭৭ জন, চট্টগ্রামে ২৬১, সিলেটে ১৪৩, বরিশালে ১৩৯, খুলনায় ১১৩, ময়মনসিংহে ৬৩, রাজশাহীতে ২৪ এবং রংপুরে ২৪ জন।
সব মিলিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ২১ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৩৩ জন।
বুলেটিনে আরো বলা হয়, উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪ জন। আর হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে মোট ১ হাজার ৬২৩ জন।
চলতি বছরের শুরুতেই দেশের কিছু এলাকায় হামের প্রকোপ দেখা দেয়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তা ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। এরপর ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাম নিয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ শুরু করে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাসপাতালে আসা সব রোগী কিংবা হাসপাতালের বাইরে থাকা সব রোগীর হাম পরীক্ষা করা হয় না। ফলে হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না। কেবল হাসপাতালে আসা বা ভর্তি রোগীদের তথ্যই নথিভুক্ত করা হচ্ছে।
সানা/আপ্র/২/১০/২০২৬