ডেঙ্গু জ্বর হলে শরীরের অন্যতম বড় ঝুঁকি হলো পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন। উচ্চ জ্বর, ক্ষুধামন্দা, বমি, পর্যাপ্ত তরল না খাওয়া এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল বেরিয়ে যাওয়ার কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডিহাইড্রেশন শুধু দুর্বলতাই বৃদ্ধি না, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে রোগীর অবস্থাও জটিল হতে পারে। তাই ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে পানি কমে যাওয়ার লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি। তা হলো-
অতিরিক্ত তৃষ্ণা অনুভব করা: শরীরে পানি কমে গেলে সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো বারবার পিপাসা লাগা। রোগী স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পানি পান করতে চাইতে পারেন। তবে শুধু তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে অল্প অল্প করে নিয়মিত পানি, ওআরএস, ডাবের পানি বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অন্যান্য তরল পান করা উচিত।
মুখ ও ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া: ডিহাইড্রেশনের কারণে মুখ, জিহ্বা ও ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় মুখ আঠালো লাগতে পারে এবং কথা বলতেও অস্বস্তি হয়। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত তরল গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রস্রাব কম হওয়া: ডেঙ্গুতে শরীরে পানি কমে গেলে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যেতে পারে। এর পাশাপাশি প্রস্রাবের রং স্বাভাবিকের তুলনায় গাঢ় হলুদ হতে পারে। এটি শরীরে পানির ঘাটতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। দীর্ঘ সময় প্রস্রাব না হলে বা খুব কম হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
অতিরিক্ত দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা: পানিশূন্যতার কারণে রোগী অস্বাভাবিক দুর্বল অনুভব করতে পারেন। বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে হঠাৎ দাঁড়ালে মাথা ঘোরা, ঝিমঝিম করা বা ভারসাম্য হারানোর মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণকে অবহেলা করা ঠিক নয়।
ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া: পর্যাপ্ত পানি না থাকলে ত্বক স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারাতে শুরু করে। ত্বক শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ দেখাতে পারে। যদিও ডেঙ্গুতে ত্বকের পরিবর্তন সব সময় ডিহাইড্রেশনের একমাত্র লক্ষণ নয়, তবুও অন্যান্য উপসর্গের সঙ্গে এটি থাকলে সতর্ক হওয়া দরকার।
চোখ বসে যাওয়া: বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে শরীরে পানি কমে গেলে চোখ কিছুটা বসে যাওয়া বা ক্লান্ত দেখাতে পারে। এটি মাঝারি থেকে গুরুতর ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
বারবার বমি হওয়া: ডেঙ্গু রোগীর যদি বারবার বমি হয়, তাহলে শরীর থেকে দ্রুত পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। ফলে পানিশূন্যতা আরও বেড়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় শুধু পানি নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওআরএস বা অন্যান্য তরলও গ্রহণ করা জরুরি।
যখন দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে: ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। তা হলো রোগী খুব দুর্বল হয়ে পড়া, প্রস্রাব অনেক কমে যাওয়া, বারবার বমি হওয়া, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অনুভূতি, তীব্র পেটব্যথা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, নাক-মাড়ি বা শরীরের অন্য কোথাও রক্তক্ষরণ। এসব লক্ষণ ডেঙ্গুর জটিল পর্যায়ের ইঙ্গিত হতে পারে।
যেভাবে পানিশূন্যতা এড়ানো যায়: ডেঙ্গু হলে পর্যাপ্ত বিশ্রামের পাশাপাশি নিয়মিত তরল গ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারা দিনে অল্প অল্প করে বারবার পানি পান করুন। ওআরএস, ডাবের পানি, লেবুর শরবত, স্যুপ বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অন্যান্য তরল গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে কিডনি, হৃদ্রোগ বা অন্য কোনো জটিল রোগ থাকলে কতটুকু তরল গ্রহণ করবেন, এ বিষয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করুন।
ডেঙ্গুতে শুধু জ্বর কমানোই যথেষ্ট নয়, শরীরে পর্যাপ্ত পানি বজায় রাখাও চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই পানিশূন্যতার প্রাথমিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকুন এবং কোনো সতর্কতামূলক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। সময়মতো সঠিক যত্ন ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ অনেক ক্ষেত্রেই জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
কেএমএএ/আপ্র/১০.০৯.২০২৬