গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার দৃঢ় নিশ্চয়তাই হোক সম্প্রীতিময় রাষ্ট্রের ভিত্তি

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১৩:৫৯ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৪:৪০ এএম ২০২৬
ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার দৃঢ় নিশ্চয়তাই হোক সম্প্রীতিময় রাষ্ট্রের ভিত্তি
ছবি

ছবি সংগৃহীত

শারদীয় দুর্গোৎসব বাঙালির ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বহুত্ববাদী সমাজজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। দেবীর বোধন ও আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ উৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতি ও আনন্দের প্রকাশ ঘটায়। একই সঙ্গে এটি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি জোরদার করার সুযোগ সৃষ্টি করে। উৎসবের প্রকৃত সার্থকতা তাই শুধু আনন্দ উদযাপনে নয়; প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার মধ্যেও নিহিত।

এবার সারাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন উৎসবটির ব্যাপকতা তুলে ধরেছে। গত বছরের তুলনায় মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে দেড় হাজার। রাজধানীতে ২৫৮টি মন্দির ও মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিপুল এই আয়োজন শান্তিপূর্ণ রাখতে সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর সমন্বিত প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি ও কোস্ট গার্ডের সদস্য মোতায়েন, নজরদারি, টহল এবং বিসর্জনকেন্দ্রিক নিরাপত্তার উদ্যোগ উৎসব ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়। এসব প্রস্তুতির পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ এবং ‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার’। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এসব বক্তব্যের তাৎপর্য হলো, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি অনুগ্রহ নয়; বরং প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য অধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাফল্য শুধু কতজন সদস্য মোতায়েন হলেন বা কতটি মণ্ডপে নজরদারি রাখা হলো, তার ওপর নির্ভর করে না। সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করা, অভিযোগের গুরুত্ব অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনো মণ্ডপকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা না হলেও সতর্কতা বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আচার পালন ও স্বাভাবিক চলাচল যেন অযথা বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

উৎসবের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে গুজব ও উসকানিমূলক তথ্যের বিস্তার রোধ করা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইহীন বক্তব্য প্রচার সাম্প্রদায়িক ভুল-বোঝাবুঝি বাড়াতে পারে। তাই কোনো ঘটনা ঘটলে উত্তেজনা না ছড়িয়ে তথ্য যাচাই করা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং দায়িত্বশীলভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা উচিত। পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সচল রাখা এবং বিসর্জনের সময় সতর্কতা অবলম্বনও গুরুত্বপূর্ণ। অন্য ধর্মের মানুষের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং স্থানীয় পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখলে সম্প্রীতির বন্ধন আরো দৃঢ় হবে।

পূজা উপলক্ষে সরকারি অনুদান চার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করার উদ্যোগ ধর্মীয় আয়োজনের সহায়তায় ইতিবাচক পদক্ষেপ। একই সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন, কল্যাণমূলক অনুদান ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ধর্মীয় স্বাধীনতার সুরক্ষা যেন কেবল উৎসবের কয়েকটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; সারা বছর সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ধারাবাহিক উদ্যোগ থাকতে হবে।

দুর্গোৎসবের অন্তর্নিহিত শিক্ষা অশুভের বিনাশ, সত্যের প্রতিষ্ঠা ও মানবকল্যাণ। সেই চেতনাকে বাস্তব জীবনে ধারণ করাই হোক উৎসবের অন্যতম অঙ্গীকার। সরকারের কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, পূজা উদযাপন কমিটির সহযোগিতা এবং নাগরিকদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা মিলেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে। ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা কোনো একক পক্ষের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত অঙ্গীকার। এমন বাংলাদেশই প্রত্যাশিত, যেখানে প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন নির্ভয়ে, অন্যের বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং নাগরিক হিসেবে সমান মর্যাদা নিয়ে।
সানা/আপ্র/১৮/১০/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

শিশুদের খাদ্যনিরাপত্তায় নজরদারিহীনতা সুশাসন ও উন্নয়নের বড় অন্তরায়
১৭ অক্টোবর ২০২৬

শিশুদের খাদ্যনিরাপত্তায় নজরদারিহীনতা সুশাসন ও উন্নয়নের বড় অন্তরায়

যে বয়সে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ভিত্তি গড়ে ওঠে, যে সময়ে ভবিষ্যতের সুস্থ, কর্মক্ষম ও মেধাবী না...

ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার বাধ্যে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত জরুরি
১৫ অক্টোবর ২০২৬

ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার বাধ্যে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত জরুরি

ফুট ওভারব্রিজ বা আন্ডারপাস থাকা সত্ত্বেও সামান্য শারীরিক পরিশ্রম বা অলসতার অজুহাতে চলন্ত গাড়ির সামনে...

দারিদ্র্য বিমোচনের ঋণ যখন দারিদ্র্যেরই নতুন ফাঁদ
১৫ অক্টোবর ২০২৬

দারিদ্র্য বিমোচনের ঋণ যখন দারিদ্র্যেরই নতুন ফাঁদ

ক্ষুদ্রঋণের মূল দর্শন ছিল দরিদ্র মানুষের হাতে পুঁজি তুলে দিয়ে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি, আত্ম...

নির্ধারিত দামে এলপিজি নিশ্চিত করুন, ভোক্তাকে জিম্মি করা বন্ধ হোক
১৪ অক্টোবর ২০২৬

নির্ধারিত দামে এলপিজি নিশ্চিত করুন, ভোক্তাকে জিম্মি করা বন্ধ হোক

জ্বালানি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য উপকরণ। অথচ সরকার নির্ধারিত দামেও যদি রান্নার গ্যাস না মেল...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই