স্নেহেন্দু বিকাশ, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ২৬ হাজার ১৪ ভোটের ব্যবধানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পীকে পরাজিত করেছেন।
খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত ফলাফলে মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৩২ জন। পোস্টাল ভোটসহ ১৫৬টি কেন্দ্রে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৮৮ হাজার ১৯১টি, যা মোট ভোটারের ৬৬ দশমিক ৮ শতাংশ। এর মধ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ৭২৪ ভোট এবং ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৪ হাজার ৭১০ ভোট। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৫ হাজার ৫১৯টি।
এ নির্বাচনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) প্রার্থী অ্যাডভোকেট প্রশান্ত কুমার মণ্ডল (কাস্তে) পেয়েছেন ১ হাজার ৫৭১ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আসাদুল ইসলাম ফকির (হাতপাখা) পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫০ ভোট এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত সাংবাদিক মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর (লাঙ্গল) পেয়েছেন ২ হাজার ৭১৭ ভোট। এ তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচনী এলাকায় দিনভর আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে। নির্বাচিত হওয়ার পর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ভোটার, দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিজয় মিছিল থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়ে সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে পরাজিত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা কেউ ভেঙে পড়বেন না, আমি সব সময় আপনাদের পাশে আছি।”
তবে বিএনপির কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরাজয়ের পেছনে এলাকা ভিত্তিক কিছু বিতর্কিত নেতা-কর্মীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের ঘাটতি ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
অন্যদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সংগঠিতভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। এ আসনে দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি পূর্ব থেকেই শক্তিশালী ছিল। নির্বাচনী প্রচারে নারী কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণও বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া প্রচারণায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, জুলাই শহীদদের মর্যাদা ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়। প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাও বিজয়ে ভূমিকা রেখেছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
সানা/আপ্র/১৪/২/২০২৬