গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

সরকার নির্ধারিত দামে মিলছে না এলপিজি, বাড়তি ভোক্তা চাপে

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী

প্রকাশিত: ১২:৩৬ পিএম, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:১২ এএম ২০২৬
সরকার নির্ধারিত দামে মিলছে না এলপিজি, বাড়তি ভোক্তা চাপে
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ফেনীর বাজারে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। কোথাও কোথাও এর চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। ফলে সরকারি দামের তুলনায় ক্রেতাকে অতিরিক্ত ৬৩ থেকে ১৬৩ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের কেউ সরবরাহ সংকটের কথা বলছেন, কেউ দায় দিচ্ছেন ডিলারদের। আবার ডিলারদের দাবি, কোম্পানি থেকেই তাদের বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। ফলে সরকারি মূল্য নির্ধারণের পরও বাজারে এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ফেনী শহর ও বিভিন্ন উপজেলার বাজার ঘুরে ক্রেতা, খুচরা বিক্রেতা ও ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার একেক দোকানে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও ১ হাজার ৯০০ টাকা, কোথাও ২ হাজার টাকা। সরবরাহ কম থাকায় অনেক ক্রেতাকে একাধিক দোকানে ঘুরেও পছন্দের ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার টাকা

ফেনী শহরের মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা সাইফুর রহমান বলেন, সরকারি নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘আমি অল্প বেতনে চাকরি করি। পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকি। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ২ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি। এভাবে চললে সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাবে।’

শহরের একাডেমি সড়কের বাসিন্দা বিবি আমেনার সংসারও এলপিজিনির্ভর। তিনি বলেন, ‘স্বামীর অল্প আয়ে সংসার চলে। বাসায় লাকড়ির চুলা ব্যবহারের সুযোগ নেই। তাই বাধ্য হয়েই গ্যাস কিনতে হয়। দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সংসার চালানো কঠিন।’

শুধু গৃহস্থালি নয়, এলপিজির বাড়তি দাম চাপে ফেলেছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও। ট্রাংক রোডের চা-সিঙ্গারা দোকানি আবু ইসমাইল বলেন, বাড়তি দামে গ্যাস কিনেও পণ্যের দাম বাড়াতে পারছেন না। তাঁর ভাষায়, ‘সিলিন্ডারের দাম বাড়ছে, কিন্তু সিঙ্গারা ১০ টাকাতেই বিক্রি করছি। ১৫ টাকা করলে ক্রেতা কমে যাবে। বাড়তি খরচটা আমাদেরই বহন করতে হচ্ছে।’

ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারিতেই দাম বেশি

দাগনভূঞার ব্যবসায়ী একরামুল হক জানান, মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর তিনি ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার পাইকারি পর্যায়ে ১ হাজার ৯০০ টাকা দরে কিনেছেন। তাই ২ হাজার টাকার কমে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি তাঁর।

তিনি বলেন, ‘ডিলাররা সরকার নির্ধারিত দামে দিলে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারতাম।’

খুচরা বিক্রেতা হারুন অর রশিদ বলেন, গত দুই মাস ধরে বসুন্ধরা গ্যাসের সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। অন্য একটি কোম্পানির সিলিন্ডারও স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২০০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

ডিলারদের বক্তব্যে মিলছে ভিন্ন তথ্য

খুচরা ব্যবসায়ীদের বক্তব্যের সঙ্গে ডিলার পর্যায়ের তথ্য পুরোপুরি মিলছে না। ফেনীতে বসুন্ধরা গ্যাসের ডিলার মেসার্স রাসেল এন্টারপ্রাইজের ক্যাশিয়ার শাহাদাত হোসেন তারেক বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ১২ কেজির এলপিজির দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করলেও কোম্পানি থেকে তাঁদের প্রতি সিলিন্ডার ১ হাজার ৯০০ থেকে ১ হাজার ৯৫০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রায় ৫০ টাকা লাভে বিক্রি করছি। কিন্তু গ্রামগঞ্জে কিছু খুচরা বিক্রেতা নিজেদের মতো করে দাম নির্ধারণ করছেন। তাঁরা প্রতি বোতলে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত লাভ করছেন।’

তারেক দাবি করেন, শুধু দাম নয়, সরবরাহ সংকটও প্রকট। গত দুই মাস ধরে দুটি কোম্পানির গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

সরবরাহ সংকট, নাকি মূল্য কারসাজি

এলপিজি বাজারের এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে। যদি ডিলার পর্যায়েই সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়, তাহলে নির্ধারিত খুচরা মূল্য কার্যকর হবে কীভাবে? আবার কোনো কোনো খুচরা বিক্রেতা যদি অতিরিক্ত মুনাফা করেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে নজরদারি কতটা কার্যকর, সেটিও প্রশ্নের মুখে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের ফেনী জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ হোসেন বলেন, অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত নিয়মিত বাজার তদারকি দরকার। মানুষ এমনিতেই অর্থকষ্টে আছে। অনেক পরিবারের জন্য অতিরিক্ত কয়েক টাকা ব্যয়ও বড় চাপ।

অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা: ভোক্তা অধিকার

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ফেনীর সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম বলেন, এলপিজির দাম নিয়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার বিষয়ে কোনো ভোক্তা অভিযোগ করলে প্রতিটি ঘটনা শুনানি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি দামে বিক্রি নিশ্চিত করতে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।

ফেনী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকা দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে অভিযান চলছে।

তিনি জানান, ফেনীর ১৮ জন সরবরাহকারী প্রশাসনকে জানিয়েছেন, তাঁরাও নির্ধারিত দামে এলপিজি কিনতে পারছেন না। কোথাও ১ হাজার ৯০০ টাকা বা তারও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসক বলেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে।

ফেনীর এলপিজি বাজারের চিত্র তাই একদিকে সরকারি নির্ধারিত মূল্য, অন্যদিকে সরবরাহকারী ও বিক্রেতাদের দাবির মাঝখানে আটকে আছে সাধারণ ভোক্তা। দাম বাড়ার প্রকৃত কারণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার কোথায় সংকট, সেটি পরিষ্কার না হলে সরকারি মূল্য নির্ধারণ করেও বাজারে তার সুফল পৌঁছানো কঠিন।

এসি/আপ্র/০৮/১০/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

মেহেরপুরে পূজা উদযাপন পরিষদের নতুন আহ্বায়ক কমিটি
০৮ অক্টোবর ২০২৬

মেহেরপুরে পূজা উদযাপন পরিষদের নতুন আহ্বায়ক কমিটি

এস এ খান শিল্টু: বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের মেহেরপুর জেলা শাখার পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্ব...

টঙ্গীতে ছিনতাইকারীর হামলায় পুলিশ কর্মকর্তা আহত
০৭ অক্টোবর ২০২৬

টঙ্গীতে ছিনতাইকারীর হামলায় পুলিশ কর্মকর্তা আহত

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের টঙ্গীতে ছিনতাইবিরোধী অভিযানে গিয়ে ছিনতাইকারীর ধারালো অস্ত্রের আ...

ঠাকুরগাঁওয়ে ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির কমিটি বাতিলের দাবিতে স্মারকলিপি
০৭ অক্টোবর ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির কমিটি বাতিলের দাবিতে স্মারকলিপি

বিশাল রহমান: ঠাকুরগাঁওয়ে বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির জেলা শাখার চলমান কমিটি বাতিলের...

আহছান উল্লাহর স্মরণে জামান মেমোরিয়াল একাডেমিতে মিলাদ ও দোয়া
০৭ অক্টোবর ২০২৬

আহছান উল্লাহর স্মরণে জামান মেমোরিয়াল একাডেমিতে মিলাদ ও দোয়া

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি: জামান মেমোরিয়াল একাডেমির পরিচালনা কমিটির সদস্য, টঙ্গী উন্নয়ন পরিষদের সাধা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই