গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত কৃষকদল নেতা হেলাল উদ্দিনকে (৫০) হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছেন। তিনি কাপাসিয়া উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের কোটবাজালিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে এবং উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কাপাসিয়া থানার ওসি শাহীনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১০টার দিকে কোটবাজালিয়া গ্রামে হেলাল উদ্দিনকে পেছন থেকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার মাথায় আঘাত করে তাকে আহত করে।
কাপাসিয়া থানার ওসি শাহীনুর আলম নিহতের পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে বলেন, গত কয়েকদিন আগে হেলাল উদ্দিনের পরিবারের কোনো এক সদস্যর মোবাইল হারানো যায়। ওই ঘটনা নিয়ে তাদের স্বজনদের নিয়ে বাড়িতেই আলোচনায় বসে। আলোচনার এক পর্যায়ে হেলাল তার নাতিকে সবার সামনে ধমক ও গালিগালাজ করে। এতে তার নাতি অপমানবোধ করে এবং বিষয়টি মনে রাখে। শনিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে হেলাল উদ্দিন বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। কোটবাজালিয়ায় পৌঁছা মাত্র কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে পেছন থাকে মাথায় ও পিঠে আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওই হাসপাতালে চিকিৎসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রোববার ভোরে তার মৃত্যু হয়। তার পরিবারের লোকজন ধারণা, ওই ঘটনার জেরে হেলালের নাতি লোকজন নিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশে পেছন থেকে আঘাত করে দৌড়ে পালিয়ে যায়। তার নাতি খারাপ প্রকৃতির ছেলে বলেও ওসিকে জানায় হেলালের স্বজনেরা।
গাজীপুর জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, হেলাল উদ্দিন কাপাসিয়া উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং খুবই ভালো লোক হিসেবেই জানি। যেহেতু তাকে পেছন থেকে হামলা করা হয়েছে এতেই মনে হচ্ছে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দোষীদেরকে আইন অনুযায়ী শাস্তির দাবি করছি।
কাপাসিয়া থানার ওসি শাহীনুর আলম আরো জানান, নিহত হেলাল উদ্দিনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় এখনও কোনো অভিযোগ দেয়নি। নিহতের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কেএমএএ/আপ্র
০১.০২.২৬