নব্বই দশকের চিত্রনায়ক ওমর সানীর ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জের অরঙ্গবাদ এলাকায় একটি রেস্টুরেন্ট চালু করেছেন। ‘চাপওয়ালা শ্বশুরবাড়ি’ নামের সেই রেস্টুরেন্টে এক ক্রেতা কুপিয়ে জখমসহ কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাত আটটার দিকে সদর উপজেলার অরঙ্গবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান খানের চাচা খলিলুল রহমান খান বাদল বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো সাতজনকে আসামি করে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেছেন।
ওমর সানী জানান, মামলায় উল্লেখিত আসামিরা হলেন মো. ইমরান (২৪), মো. লিখন (২২), হাসান (২৭), জীবন (২৫), মুন্না (২২) ও মঞ্জুর (২৬)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আতিকুর রহমান চার-পাঁচজন বন্ধুকে নিয়ে ওই রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যান। সেখানে কয়েকজন নারী কাস্টমারের সঙ্গে আসামিরা দুর্ব্যবহার ও অনৈতিক আচরণ করছেন—এমন অভিযোগে তিনি ও তার বন্ধুরা প্রতিবাদ করেন। এতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসামিরা লোহার রড, হাতুড়ি, চাপাতি, ধারালো ছুরি, কুড়াল, বেলচা ও বাঁশের লাঠিসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভুক্তভোগীরা দৌড়ে মূল সড়কের দিকে যান। এ সময় আসামি ইমরান ধারালো ছুরি দিয়ে আতিকুর রহমানের পিঠে আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে লিখন লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।
অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় তার পকেটে থাকা টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আতিকুর রহমানকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। মামলার বাদী খলিলুল রহমান খান বাদল অভিযোগ করেন, রেস্টুরেন্টে একদল সন্ত্রাসীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তার ভাতিজা প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
‘চাপওয়ালা শ্বশুরবাড়ি’ রেস্টুরেন্টের মালিক চিত্রনায়ক ওমর সানী আজ সোমবার সকালে প্রথম আলোকে বললেন, ‘আমার রেস্টুরেন্টে নানরুটি বানানোর একজন কারিগর হঠাৎ চলে যায়। এতে একটা সংকট তৈরি হয়। ঠিক এই সময়ে লিখন নামের একজন কর্মচারীকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়, ওর বাসা হচ্ছে রেস্টুরেন্টের কাছেই। একজন কাস্টমারের কাছে নানরুটি পছন্দ না হওয়ায় তিনি তা জানাতেই লিখন প্রতিবাদ করে, চিল্লাচিল্লি করে। একপর্যায়ে নারী কাস্টমারের সঙ্গে বাগ্বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। আমার রেস্টুরেন্টের অন্য কর্মচারীদের মধ্যে মুন্না, জীবনসহ কয়েকজন তা মিটমাটের চেষ্টা করে। যদিও আমি নিজে সেখানে ছিলাম না, তবে সিসিটিভির ক্যামেরায় যা দেখেছি, তাতে পরিস্কার—লিখন কাস্টমারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছিল। হাতাহাতি করেছে। একপর্যায়ে তারা রেস্টুরেন্টের সীমানার অনেক বাইরে চলে যায়। এরপর শুনি, রেস্টুরেন্টে দুর্ব্যবহারের সূত্র ধরে একজনকে লিখন ও তার সঙ্গে থাকা লোকজনের কেউ সেই কাস্টমারের পিঠে ছুরিকাঘাত করে। এটা কিন্তু আমার রেস্টুরেন্টের ভেতরে ঘটেনি। আজকে ওমর সানীর দেখে হয়তো সংবাদ হচ্ছে, বড় ইস্যু করে দেখা হচ্ছে; কিন্তু যারা ছুরিকাঘাতের মতো এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। লিখনের শাস্তি চাই, এর সঙ্গে জড়িত যারা তাদেরও শাস্তিও চাই।’
এসি/১৬/০২/২০২৬