যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সম্মত হওয়ার পর বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অ্যালেশ বিয়ালিয়াতস্কি ও শীর্ষ বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কালেসনাইকভাসহ ১২৩ জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিশেষ দূতের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তির আলোকে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
বেলারুশের বন্দি মুক্তির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পটাশের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সম্মত হয়েছে। পটাশ সারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আর সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র বেলারুশ বিশ্বে এর নেতৃস্থানীয় উৎপাদক।
রয়টার্স লিখেছে, ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছর অভিজ্ঞ কর্তৃত্ববাদী নেতা লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত বন্দি মুক্তি তার দিক থেকে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। লুকাশেঙ্কো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র। এর আগে পশ্চিমা সরকারগুলো ভিন্নমত দমন ও ইউক্রেইনের যুদ্ধে রাশিয়ার প্রতি সমর্থন দেওয়ায় বেলারুশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেছিল।
ট্রাম্পের দূত জন কোল রয়টার্সকে বলেছেন, আরো প্রায় ১০০০ রাজনৈতিক বন্দিকে বেলারুশ মুক্তি দিতে পারে। আসছে মাসগুলোতে একটি বড় দলের অংশ হিসেবে তাদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। তিনি বলেন, আমার মনে হয়, আমরা এটি করতে পারবো এটা নিশ্চিত। আমি মনে করি এটা সম্ভব, আমরা সঠিক পথে আছি, গতিতে আছি। তিনি জানান, যদি আর কোনো রাজনৈতিক বন্দি না থাকে তাহলে অধিকাংশ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে। আমার মনে হয় এটা একটা ন্যায্য লেনদেন -বলেন তিনি।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে ১২৩ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে নয়জন বেলারুশ থেকে লিথুয়ানিয়া চলে গেছেন আর বাকি ১১৪ জনকে ইউক্রেইনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বিয়ালিয়াতস্কি ২০২২ সালে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন। তিনি একজন মানবাধিকার কর্মী। তিনি বছরের পর বছর ধরে রাজনৈতিক বন্দিদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করেছেন। পরে তাকে আটক করে ২০২১ সালের জুলাই থেকে কারাবন্দি হিসেবে রাখা হয়। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বেলারুশের প্রতিবেশী লিথুয়ানিয়ার মার্কিন দূতাবাসে চলে যান। সেখানে বেলারুশের নির্বাসিত বিরোধীদলীয় নেত্রী স্বিয়াতলানা তিখানোউস্কায়া তাকে স্বাগত জানান। ২০২০ সালে লুকাশেঙ্কোর বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভের অন্যতম নেত্রী কালেসনাইকভা বাসযোগে ইউক্রেইনে যাওয়া বড় একটি দলের সঙ্গে ছিলেন।
সানা/ওআ/আপ্র/১৪/১২/২০২৫