গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

মেনু

শিশুর একাকিত্ব অবসানে সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:১৮ পিএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৫০ এএম ২০২৬
শিশুর একাকিত্ব অবসানে সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন
ছবি

ছবি সংগৃহীত

শিশুর প্রতিভা বিকাশের প্রথম সোপান হলো তার শিক্ষা। এই শিক্ষা শিশু বিভিন্নভাবে গ্রহণ করতে পারে। এক সময় শিশুকে নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার মধ্যে রেখে বিদ্যা অর্জন করার পদ্ধতি আমাদের দেশে প্রচলিত ছিল। তবে বর্তমানে তা নেই বললেই চলে। এ ধরনের শিক্ষাকে আধুনিক শিক্ষাবিদরা সংকীর্ণ শিক্ষা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

শিশুকে জোর করে বিদ্যার্জন করানোর নাম শিক্ষা নয়, বরং শিশুর গ্রহণ উপযোগী আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষাদান হলো প্রকৃত শিক্ষা। বিদ্যালয় হবে শিশুর আনন্দের জায়গা- যেখানে যেতে সে আগ্রহী থাকবে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের পাঠদান যেন তাকে নিজেকে ‘কেজেড বার্ড’ ভাবতে বাধ্য না করে। শিশুরা কৌতূহলী হয়। শিশুর কৌতূহল কাটিয়ে সহজ-সুন্দর করে তার কাছে বিষয়বস্তু উপস্থাপন করতে হবে। শিশুর সুষ্ঠু বিনোদন কেন্দ্রের ব্যবস্থা করতে হবে। গ্রামে সাধারণত এই পরিবেশের অভাব হয় না।

খেলার মাঠে সমবয়সি সঙ্গীদের সঙ্গে খেলাধুলাই শিশুর জীবনের শ্রেষ্ঠ বিনোদন। সমবয়সিদের সঙ্গে সুস্থ প্রতিযোগিতা শিশুর মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে আমাদের জীবনের আধুনিকতার ছোঁয়া প্রত্যেক শিশুর সামাজিকীকরণে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মা-বাবা উভয়েই চাকরিজীবী হওয়ায় শিশু মানুষ হচ্ছে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির হাতে। একাকিত্ব তাকে ঘিরে রাখছে। মায়ের কাছ থেকে যে শিশুর হাতেখড়ি হওয়ার কথা ছিল, সে অ আ ক খ থেকে অ ই ঈ উ শিখছে প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতার জন্য শিশুরা এখন আর রঙিন মলাটের পশুপাখি আঁকা বইয়ে মজা পায় না। তারা মোবাইলে কার্টুন কিংবা গেম খেলায় অভ্যস্ত। এখন আর তারা জন্মদিনে শক্ত পাতার গল্পের বই আশা করে না, বরং স্মার্টফোন কিংবা ট্যাব পেলে বেশি খুশি হয়। বাড়ির বাইরে গিয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা, সহপাঠীদের সঙ্গে হাতে হাত মেলানো, কোলাকুলি করা থেকে তারা বিনোদন খুঁজে নিয়েছে কম্পিউটারের ভিডিও গেমে। এসব কিছুই শিশুর বিকাশের অন্তরায়। শিশুর প্রতিভা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হলে তা সমাজ কিংবা দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না। তাই শিশুর বিকাশে যথাসম্ভব সামর্থ্য নিয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে।

আজকের শিশু আগামী দিনের কাণ্ডারি। জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। সন্তানহীন সংসার একটি দম্পতির জন্য বিতৃষ্ণার হয়। একজন সন্তান একটি দম্পতির জীবনে শ্রেষ্ঠ সম্পদ হয়। কিন্তু সেই শিশুর জন্মের পর ক’জন মা-বাবা পারেন তার সুষ্ঠু সামাজিকীকরণের ব্যবস্থা করতে? একটি সুস্থ, সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী শিশুর গড়ে ওঠার পেছনে পরিবার, বিশেষ করে মা-বাবার যত্ন ও দিকনির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর প্রাথমিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে পরিবার।

বলা বাহুল্য, পরিবারের পরিবেশ হতে হবে শিশুর জন্য অনুকূল। হাসি-আনন্দের মাঝে যেন শিশু বড় হতে পারে, তা পরিবারের সদস্যদেরই নিশ্চিত করতে হবে। পারিবারিক ভাঙন তথা মা-বাবার মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ শিশুর মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। শিশুর মনে দাগ কাটে- এমন অশোভন আচরণ থেকে পরিবারের সদস্যদের বিরত থাকতে হবে। একক পরিবার অপেক্ষা যৌথ পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশুরা অধিক সামাজিক হয়। যৌথ পরিবারে দাদা-দাদি, চাচা-চাচি, ফুফু, মামা-খালা প্রমুখ সদস্যের সঙ্গে মেলামেশার ফলে শিশুর সামাজিক দক্ষতা ও যোগাযোগ ক্ষমতা ভালোভাবে গড়ে ওঠে। তারা দায়িত্ববোধ ও শৃঙ্খলা শেখে এবং তাদের মানসিক চাপ ও একাকিত্ব কম থাকে। শিশুরা অনুকরণপ্রিয় হয়। তারা আশপাশের মানুষকে অনুকরণ করে। প্রত্যেক কন্যাশিশুই কোনো না কোনো দিন মায়ের শাড়ি নিজের গায়ে ফেলে দেখে তাকে তার মায়ের মতো লাগছে কি না। এ ছাড়া ও তারা আশপাশের মানুষের বাচনভঙ্গি, হাঁটাচলা, কাজকর্ম সবকিছু অনুকরণ করে। শিশুরা দেখে শেখে।

আজকে আপনি আপনার শিশুকে যতটা পরিচ্ছন্ন পরিবেশে মানুষ করবেন, আগামীতে তার মানসিকতাও ততটা পরিচ্ছন্ন হবে। এ কারণে শিশুর পারিপার্শ্বিক পরিবেশ যাতে নিরাপদ ও অনুকূল হয় সেদিকে পরিবারকে সচেতন হতে হবে। তাই আমাদের প্রত্যাশা, শিশুর একাকিত্ব অবসানে সবাই সামাজিকীকরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।  

কেএমএএ/এসি/আপ্র/২৯/০১/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

‘থ্রি জিরো’ দর্শন ও অন্তর্বর্তী সরকারের জবাবদিহির প্রশ্ন
২৮ জানুয়ারি ২০২৬

‘থ্রি জিরো’ দর্শন ও অন্তর্বর্তী সরকারের জবাবদিহির প্রশ্ন

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যে ‘থ্রি জিরো’ দর্শন-শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এব...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই