থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরু করেছে। দুই দেশের মধ্যে লড়াই বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীর প্রচেষ্টার মধ্যেই রোববার (১৪ ডিসেম্বর) এ অভিযান শুরু হয়েছে।
থাইল্যান্ড বলছে, তাদের ‘সার্বভৌম অঞ্চল পুনরুদ্ধারের জন্য’ এ অভিযান চালানো হচ্ছে। আজ উপকূলীয় ত্রাত প্রদেশে কারফিউ ঘোষণা করেছে তারা।
আগের দিন গত শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) থাইল্যান্ডের সঙ্গে সব সীমান্ত পারাপার বন্ধ করার ঘোষণা দেয় কম্বোডিয়া। এর পরদিনই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ দুটির মধ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরু হলো।
ঔপনিবেশিক যুগের সীমানাসংক্রান্ত দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ থেকে সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের সূচনা হয়। এ লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জন সেনা ও সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন দুই দেশের ৫ লাখের বেশি মানুষ। থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে ৮০০ কিলোমিটার (৫০০ মাইল) দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।
থাইল্যান্ডের নৌবাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল পারাচ রত্তানাচাইয়াপানের বরাতে সংবাদপত্র মাতিচন অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, থাই বাহিনী ত্রাত উপকূলীয় প্রদেশের একটি এলাকায় ‘থাইল্যান্ডের সার্বভৌম অঞ্চল পুনরুদ্ধার করতে’ সামরিক অভিযান শুরু করেছে।
পারাচ রত্তানাচাইয়াপান বলেন, ভোরবেলায় অভিযানটি শুরু হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে আত্মরক্ষা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ নীতির আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।
থাই সেনাবাহিনী বলেছে, ‘তারা বিরোধী বাহিনীগুলো উৎখাত করে সফলভাবে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ও পুনরুদ্ধার করেছে।’
থাইল্যান্ডের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল থাই পিবিএসের খবরে বলা হয়, দেশটির সেনাবাহিনী সব বিরোধী বাহিনীকে উৎখাত করার পর ওই এলাকায় থাইল্যান্ডের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছে।
সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে থাইল্যান্ডের টিভি থ্রি মর্নিং নিউজের খবরে বলা হয়েছে, রোববার ভোরে দেশটির সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী সীমান্ত এলাকায় অভিযান শুরু করেছে। বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ছাড়া ড্রোন হামলাও হয়েছে।
সাম্প্রতিক এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনী এখনো সংঘর্ষের বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে কম্বোডিয়ার সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট কম্বোডিয়ানেস বলছে, অন্তত সাতটি এলাকায় হামলা হয়েছে। এর মধ্যে পুরসাত প্রদেশও রয়েছে। সেখানে থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী থমা দা কমিউনে বোমা ফেলতে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে। থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী বান্তেয় মিঞ্চে প্রদেশের বোইয়ুং ত্রাকুন গ্রামের দিকে গোলা হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। আল-জাজিরা তাৎক্ষণিকভাবে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত হতে পারেনি।
সানা/ওআ/আপ্র/১৪/১২/২০২৫