বিদেশের খবর ডেস্ক : লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর।
বৃহস্পতি-শুক্রবার রাতে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দেশটির আল আহরার টেলিভিশনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন শহরের জরুরি পরিষেবার মুখপাত্র। খবর আল জাজিরার। খবরে বলা হয়েছে, সশস্ত্র ব্যক্তিরা এমন একটি এলাকায় গোলাগুলি করেছে যেখানে কূটনৈতিক মিশনসহ বেশ কয়েকটি সরকারি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার অফিস রয়েছে। শুক্রবার আইন জারা এবং আসবা এলাকায় এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা বাড়ছে যখন থেকে দুই প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার জন্য লড়াই করছেন। পূর্বাঞ্চলের সামরিক প্রধান খলিফা হাফতারের জোরপূর্বক ত্রিপোলি দখল করার একটি ধ্বংসাত্মক প্রচেষ্টা রোধ করার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত এক যুগান্তকারী চুক্তির দুই বছর পর নতুন করে আবার সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পূর্ব ত্রিপোলির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা আইন জারায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আল-রাদা বাহিনী ও ত্রিপলি রেভুলিউশনারি ব্রিগেডের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের মধ্য দিয়ে সর্বসাম্প্রতিক এই লড়াই শুরু হয়। পরে অন্যান্য এলাকায় তা ছড়িয়ে পড়ে। অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের কর্মী ওসামা আলী আল-আহরার সংবাদ চ্যানেলকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবনে ৬০ জন শিক্ষার্থী আটকে পড়েছিল। পরে তাদের উদ্ধার করা হয়। ফরনাজ জেলায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়া শত শত নারীও আটকা পড়েছিলেন। মোখতার আল-মাহমুদি নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা বেসমেন্টে রাত কাটিয়েছি। আমাদের বাচ্চারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।’ ওই লড়াইয়ে জড়িত উভয় গোষ্ঠীই আব্দুল হামিদ ডিবেইবার গভর্ণমেন্ট অফ ন্যাশনাল অ্যাকর্ড এর প্রতি নামমাত্র অনুগত বলে জানা গেছে। গত বছর তেল সমৃদ্ধ লিবিয়ায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সহিংসতার অবসান ঘটাতে জাতিসংঘ-সমর্থিত শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে এই সরকারকে নিযুক্ত করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি পরিষদের একটি বিবৃতিতে উভয় পক্ষকে শত্রুতা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ঘটনার তদন্ত করা হবে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
ত্রিপোলিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে প্রাণ গেলো ১৩ জনের
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

























