ডববিসি : ২০১৪ সালে ক্রাইমিয়া উপদ্বীপ দখলের মতো এবারও একই কৌশল খাটিয়ে ইউক্রেইনের আরও ভূমি দখল করে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র এই সতর্কবার্তা দিয়েছে। বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, রাশিয়া ভূমি অধিগ্রহণের মূল কাজ এরই মধ্যে শুরু করে দিয়েছে। ইউক্রেইনের রুশ বাহিনীর অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দেওয়ার জন্য ‘ভুয়া’ গণভোট অনুষ্ঠান করা হতে পারে সেপ্টেম্বর নাগাদই, বলেন কিরবি। একইভাবে গণভোট করার মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালেও রাশিয়া ইউক্রেইনের ক্রাইমিয়া দখল করে নিয়েছিল। ওই গণভোট ব্যাপকভাবে অবৈধ বলেই বিবেচিত। জন কিরবি সাংবাদিকদের বলেন, “আমেরিকার জনগণের কাছে আমি বিষয়টি সরল করে দিতে চাই। আর তা হচ্ছে, এক্ষেত্রে কেউই বোকা বনবে না। [রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন] ২০১৪ সালের সেই খেলাই আবার খেলছেন।” ইউক্রেইনের অধিকৃত অঞ্চলগুলোর শাসন পরিচালনায় রাশিয়া অবৈধ সব রুশপন্থি কর্মকর্তা নিয়োগ করছে বলেও অভিযোগ করেছেন কিরবি। ইউক্রেইনের ওই অঞ্চলগুলোকে রাশিয়ার অংশ করে নিতে গণভোট আয়োজনের জন্যই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। কিরবি বলেন, ভোটের ফলকে রাশিয়া সার্বভৌম ইউক্রেইনের ভূখন্ড নিজেদের সঙ্গে সংযুক্ত করে নেওয়ার দাবি তোলার চেষ্টায় কাজে লাগাবে। ইউক্রেইনের দখল করে নেওয়া অঞ্চলগুলোতে রাশিয়া এরই মধ্যে নিজস্ব আঞ্চলিক এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদেরকে বসিয়েছে। ২০১৪ সারে তড়িঘড়ি করে অনুষ্ঠান করা এক গণভোটের পর রাশিয়া ইউক্রেইনের ক্রাইমিয়া উপদ্বীপ নিজেদের সঙ্গে সংযুক্ত করে নিয়েছিল। সেই গণভোটে ভোটাররা রাশিয়া ফেডারেশনের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পক্ষে রায় দিলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ ভোটকে অবৈধ হিসাবেই দেখে আসছে। কিইভের অনেক সমর্থকই সেই ভোট বয়কট করেছিল এবং ভোটের প্রচারও অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না। এখন ইউক্রেইনের অন্যান্য অংশে একইরকম গণভোট হলে পরবর্তী পরিস্থিতিটাও একই হবে। আর রাশিয়ার সঙ্গে যোগদানের কোনওরকম বিরোধিতা ব্যাপকভাবে অবদমিত হবে। কিরবি বলেন, তিনি রাশিয়ার পরিকল্পনার কথা ‘প্রকাশ’ করছেন, “যাতে বিশ্ব জানতে পারে যে, রাশিয়ার ইউক্রেইনের ভূখন্ড নেওয়ার কোনওরকম দাবি পূর্বপরিকল্পিত, অবৈধ এবং বেআইনি।” আর এমনকিছু ঘটলে দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্ররা পাল্টা জবাব দেবে বলেও কিরবি অঙ্গীকার করেন। তিনি জানান, ইউক্রেইনের যে অঞ্চলগুলো রাশিয়া নিজেদের দখলে নিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছ, সেগুলোর মধ্যে আছে- খারসন, জেপোরোজিয়া, দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক।


























