ঢাকা ০২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

পথে পথে সৈন্য, কলম্বো শান্ত

  • আপডেট সময় : ০৩:০৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই ২০২২
  • ১৪৭ বার পড়া হয়েছে

প্রত্যাশা ডেস্ক : শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে জারি হয়েছে কারফিউ, পথে পথে টহল দিচ্ছে সৈন্যরা; শৃঙ্খলা রক্ষায় বলপ্রয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তাদের। পুলিশের সঙ্গে দাঙ্গা আর বিক্ষোভে উত্তাল রাজধানী এখন অনেকটাই শান্ত। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ভেতরে ও বাইরে অবস্থান নিয়েছেন, কেউ আবার সড়কের পাশে তাঁবু গেড়ে আসন পেতেছেন। বুধবার কলম্বোতে যে টালমাটাল পরিস্থিতি বিশ্ববাসী দেখেছে, বৃহস্পতিবারের চিত্র তেমন নয়। থমথমে পরিস্থিতিতে ফের কোনো সহিংসতা যেন না ঘটে, সেজন্য সতর্ক রয়েছে সেনাবাহিনী। রয়টার্স জানিয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত দেখালেও বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে এবং প্রধানমন্ত্রী (এখন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট) রনিল বিক্রমাসিংহের পদত্যাগের দাবিতে অপেক্ষা করছেন। দ্বীপ দেশটিকে তিন দশকের গৃহযুদ্ধের কবল থেকে রেহাই দিয়ে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ টেম্পল ট্রি দখল করে হাজারো বিক্ষোভকারী।
এরপর তার পদত্যাগে রাজি হওয়ার খবর এলেও মঙ্গলবার রাতে তিনি পালিয়ে যান মালদ্বীপে। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে পৌঁছেছেন পতিত এই রাষ্ট্রনেতা। বিদেশ থেকেই প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া বুধবার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেন তার পুরনো মিত্র প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের কাঁধে। বিক্রমাসিংহে নিজেও আগে পদত্যাগে রাজি থাকার কথা বলেছিলেন। এখন তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়ে বুধবারই তিনি বিক্ষোভ দমাতে তিনি কারফিউ জারি করেন, তাতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে হাজারো জনতা। পুলিশের টিয়ার গ্যাস আর বাধা উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দখল করে নেন তারা। এখনও তারা সেই এলাকাতেই অবস্থান করছেন। ২৯ বছর বয়সী মালিক পেরেরা নামের এক রিকশাচালক হাজারো বিক্ষোভকারীর সঙ্গে পার্লামেন্ট ভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে তিনি বলেন, “আমরা চাই রনিল পদত্যাগ করুক। তারা দেশকে বিক্রি করে দিয়েছে। আমরা চাই ভালো কোনো ব্যক্তিত্ব ক্ষমতায় আসুক, নাহলে আমরা থামব না।” শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে অর্থনৈতিক সংকটের পরিস্থিতিতে কয়েক মাস ধরেই সেখানে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ঘাটতি, দুর্নীতি এবং খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতির কারণ হিসাবে রাজাপাকসে পরিবারকেই দায়ী করছেন বিক্ষোভকারীরা। রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সারা দিন প্রেসিডেন্ট ভবনের ভেতরে হলগুলোতে ঘুরে বেড়িয়েছেন সাধারণ শ্রীলঙ্কানরা। ভবনের ভেতরে বিশাল শিল্প সংগ্রহ, বিলাসবহুল গাড়ি এবং সুইমিং পুল ঘুরে ঘুরে দেখেন তারা। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া টেরেন্স রদ্রিগো নামের এক যুবক বলেন, “লড়াই এখনও শেষ হয়নি। আমাদের সমাজকে এর থেকে ভালো করতে হবে। সরকার জনগণের সমস্যার সমাধান করছে না।” ২৬ বছর বয়সী রদ্রিগো প্রেসিডেন্ট ভবন দখল নেওয়ার পর থেকেই সেখানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে অবস্থান করছেন। তবে দখল করা ভবনগুলো ধীরে ধীরে আবার সরকারের কাছে হস্তান্তর করার কথা বলেছেন বিক্ষোভের সংগঠকরা। চামেরা ডেডডুওয়াজ নামের একজন রয়টার্সকে বলেন, “ প্রেসিডেন্টকে দেশের বাইরে রেখে… দখল করা জায়গাগুলো আর কোনো প্রতীকী মূল্য রাখে না।” তবে আরেক সংগঠক কালুম অমরাতুঙ্গা বলেন, “আগের সন্ধ্যায় এক ভাষণে বিক্রমাসিংহে কিছু বিক্ষোভকারীকে ‘ফ্যাসিস্ট’ অ্যাখ্যায়িত করায় আরেকটি সাঁড়াশি অভিযান হতে পারে।” নতুন অস্থিরতা ঠেকাতে কলম্বোতে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে আজ শুক্রবার ভোর পর্যন্ত কারফিউ চলছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে দেখা যায়, শহরের রাস্তায় সাঁজোয়া যান নিয়ে টহল দিচ্ছেন সেনারা। সামরিক বাহিনী বলেছ, জনগণ ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সেনাবাহিনীকে বল প্রয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

পথে পথে সৈন্য, কলম্বো শান্ত

আপডেট সময় : ০৩:০৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই ২০২২

প্রত্যাশা ডেস্ক : শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে জারি হয়েছে কারফিউ, পথে পথে টহল দিচ্ছে সৈন্যরা; শৃঙ্খলা রক্ষায় বলপ্রয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তাদের। পুলিশের সঙ্গে দাঙ্গা আর বিক্ষোভে উত্তাল রাজধানী এখন অনেকটাই শান্ত। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ভেতরে ও বাইরে অবস্থান নিয়েছেন, কেউ আবার সড়কের পাশে তাঁবু গেড়ে আসন পেতেছেন। বুধবার কলম্বোতে যে টালমাটাল পরিস্থিতি বিশ্ববাসী দেখেছে, বৃহস্পতিবারের চিত্র তেমন নয়। থমথমে পরিস্থিতিতে ফের কোনো সহিংসতা যেন না ঘটে, সেজন্য সতর্ক রয়েছে সেনাবাহিনী। রয়টার্স জানিয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত দেখালেও বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে এবং প্রধানমন্ত্রী (এখন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট) রনিল বিক্রমাসিংহের পদত্যাগের দাবিতে অপেক্ষা করছেন। দ্বীপ দেশটিকে তিন দশকের গৃহযুদ্ধের কবল থেকে রেহাই দিয়ে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ টেম্পল ট্রি দখল করে হাজারো বিক্ষোভকারী।
এরপর তার পদত্যাগে রাজি হওয়ার খবর এলেও মঙ্গলবার রাতে তিনি পালিয়ে যান মালদ্বীপে। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে পৌঁছেছেন পতিত এই রাষ্ট্রনেতা। বিদেশ থেকেই প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া বুধবার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেন তার পুরনো মিত্র প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের কাঁধে। বিক্রমাসিংহে নিজেও আগে পদত্যাগে রাজি থাকার কথা বলেছিলেন। এখন তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়ে বুধবারই তিনি বিক্ষোভ দমাতে তিনি কারফিউ জারি করেন, তাতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে হাজারো জনতা। পুলিশের টিয়ার গ্যাস আর বাধা উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দখল করে নেন তারা। এখনও তারা সেই এলাকাতেই অবস্থান করছেন। ২৯ বছর বয়সী মালিক পেরেরা নামের এক রিকশাচালক হাজারো বিক্ষোভকারীর সঙ্গে পার্লামেন্ট ভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে তিনি বলেন, “আমরা চাই রনিল পদত্যাগ করুক। তারা দেশকে বিক্রি করে দিয়েছে। আমরা চাই ভালো কোনো ব্যক্তিত্ব ক্ষমতায় আসুক, নাহলে আমরা থামব না।” শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে অর্থনৈতিক সংকটের পরিস্থিতিতে কয়েক মাস ধরেই সেখানে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ঘাটতি, দুর্নীতি এবং খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতির কারণ হিসাবে রাজাপাকসে পরিবারকেই দায়ী করছেন বিক্ষোভকারীরা। রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সারা দিন প্রেসিডেন্ট ভবনের ভেতরে হলগুলোতে ঘুরে বেড়িয়েছেন সাধারণ শ্রীলঙ্কানরা। ভবনের ভেতরে বিশাল শিল্প সংগ্রহ, বিলাসবহুল গাড়ি এবং সুইমিং পুল ঘুরে ঘুরে দেখেন তারা। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া টেরেন্স রদ্রিগো নামের এক যুবক বলেন, “লড়াই এখনও শেষ হয়নি। আমাদের সমাজকে এর থেকে ভালো করতে হবে। সরকার জনগণের সমস্যার সমাধান করছে না।” ২৬ বছর বয়সী রদ্রিগো প্রেসিডেন্ট ভবন দখল নেওয়ার পর থেকেই সেখানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে অবস্থান করছেন। তবে দখল করা ভবনগুলো ধীরে ধীরে আবার সরকারের কাছে হস্তান্তর করার কথা বলেছেন বিক্ষোভের সংগঠকরা। চামেরা ডেডডুওয়াজ নামের একজন রয়টার্সকে বলেন, “ প্রেসিডেন্টকে দেশের বাইরে রেখে… দখল করা জায়গাগুলো আর কোনো প্রতীকী মূল্য রাখে না।” তবে আরেক সংগঠক কালুম অমরাতুঙ্গা বলেন, “আগের সন্ধ্যায় এক ভাষণে বিক্রমাসিংহে কিছু বিক্ষোভকারীকে ‘ফ্যাসিস্ট’ অ্যাখ্যায়িত করায় আরেকটি সাঁড়াশি অভিযান হতে পারে।” নতুন অস্থিরতা ঠেকাতে কলম্বোতে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে আজ শুক্রবার ভোর পর্যন্ত কারফিউ চলছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে দেখা যায়, শহরের রাস্তায় সাঁজোয়া যান নিয়ে টহল দিচ্ছেন সেনারা। সামরিক বাহিনী বলেছ, জনগণ ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সেনাবাহিনীকে বল প্রয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।