ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

কানাডায় ৩০ হাজার বছরের পুরোনো মমি

  • আপডেট সময় : ১২:৫২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুন ২০২২
  • ১৫১ বার পড়া হয়েছে

প্রত্যাশা ডেস্ক : কানাডার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বরফযুগের একটি লোমশ ম্যামথ শাবকের (হাতিজাতীয় বিলুপ্ত জন্তু) সম্পূর্ণ দেহ হিমায়িত ও মমিকৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে এ ধরনের আবিষ্কারের ঘটনা এটাই প্রথম। এর আগে ওই অঞ্চলে মমি অবস্থায় ম্যামথ শাবকের দেহের অংশবিশেষ পাওয়া গিয়েছিল শুধু। খবর বিবিসির।
ম্যামথ হলো হাতির মতো দেখতে অতিকায় লোমশ এক বিলুপ্ত প্রাণীবিশেষ। বরফযুগে এর অস্তিত্ব ছিল। নতুন সন্ধান পাওয়া ম্যামথ শাবকের মমিটি ৩০ হাজার বছরের পুরোনো বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার কানাডার ইয়ুকোন অঞ্চলের ক্লোনদিকে এলাকার একটি স্বর্ণখনির শ্রমিকেরা এর সন্ধান পান। যে এলাকায় মমিটির সন্ধান পাওয়া গেছে, সেটি ত্রোনদেক ওয়েচিন আদিবাসী গোষ্ঠীর মালিকানাধীন। ইয়ুকোনের স্থানীয় সরকার ম্যামথ শাবকের এ মমিকে ২০০৭ সালে সাইবেরিয়ায় ভূগর্ভস্থ চিরহিমায়িত অঞ্চলে পাওয়া ম্যামথ শাবকের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, এটি উত্তর আমেরিকায় এখন পর্যন্ত সন্ধান পাওয়া একমাত্র পূর্ণাঙ্গ মমি। আর বিশ্বে এ ধরনের মমির সন্ধান পাওয়ার দ্বিতীয় ঘটনা এটি।
ধারণা করা হচ্ছে, ম্যামথ শাবকটি মেয়ে। আদিবাসী হান ভাষায় এর নাম দেওয়া হয়েছে নুন চো গা। এর অর্থ ‘বড় পশু শাবক’। ইয়ুকোনের জীবাশ্ম বিশেষজ্ঞ গ্রান্ট জাজুলা বলেন, ‘নুন চো গা দেখতে সুন্দর। বিশ্বে এখন পর্যন্ত বরফযুগের আশ্চর্যজনক যত মমিকৃত প্রাণীর সন্ধান পাওয়া গেছে, তার একটি এটি।’
ইয়ুকোনের স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, এটি ২০০৭ সালে পাওয়া সাইবেরীয় শাবক লিউবার আকারের সমান। লিউবা ছিল প্রায় ৪২ হাজার বছরের পুরোনো। উত্তর আমেরিকায় সন্ধান পাওয়া নুন চো গাকে বেশ ভালোভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর আগে ১৯৪৮ সালে আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে একটি সোনার খনিতে ইফি নামে লোমশ শাবকের সন্ধান মিলেছিল। তবে তার পুরো দেহ পাওয়া যায়নি। আংশিক অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল এটিকে। সিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডাউসন শহরের দক্ষিণে ইউরেকা ক্রিক এলাকার মাটিতে খনন করার সময় নুন চো গার গায়ে খননযন্ত্রের ধাক্কা লাগে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফোন করেন এক খনিশ্রমিক। এরপর মমিটি মাটির নিচ থেকে বের করে আনা হয়।

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

কানাডায় ৩০ হাজার বছরের পুরোনো মমি

আপডেট সময় : ১২:৫২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুন ২০২২

প্রত্যাশা ডেস্ক : কানাডার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বরফযুগের একটি লোমশ ম্যামথ শাবকের (হাতিজাতীয় বিলুপ্ত জন্তু) সম্পূর্ণ দেহ হিমায়িত ও মমিকৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে এ ধরনের আবিষ্কারের ঘটনা এটাই প্রথম। এর আগে ওই অঞ্চলে মমি অবস্থায় ম্যামথ শাবকের দেহের অংশবিশেষ পাওয়া গিয়েছিল শুধু। খবর বিবিসির।
ম্যামথ হলো হাতির মতো দেখতে অতিকায় লোমশ এক বিলুপ্ত প্রাণীবিশেষ। বরফযুগে এর অস্তিত্ব ছিল। নতুন সন্ধান পাওয়া ম্যামথ শাবকের মমিটি ৩০ হাজার বছরের পুরোনো বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার কানাডার ইয়ুকোন অঞ্চলের ক্লোনদিকে এলাকার একটি স্বর্ণখনির শ্রমিকেরা এর সন্ধান পান। যে এলাকায় মমিটির সন্ধান পাওয়া গেছে, সেটি ত্রোনদেক ওয়েচিন আদিবাসী গোষ্ঠীর মালিকানাধীন। ইয়ুকোনের স্থানীয় সরকার ম্যামথ শাবকের এ মমিকে ২০০৭ সালে সাইবেরিয়ায় ভূগর্ভস্থ চিরহিমায়িত অঞ্চলে পাওয়া ম্যামথ শাবকের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, এটি উত্তর আমেরিকায় এখন পর্যন্ত সন্ধান পাওয়া একমাত্র পূর্ণাঙ্গ মমি। আর বিশ্বে এ ধরনের মমির সন্ধান পাওয়ার দ্বিতীয় ঘটনা এটি।
ধারণা করা হচ্ছে, ম্যামথ শাবকটি মেয়ে। আদিবাসী হান ভাষায় এর নাম দেওয়া হয়েছে নুন চো গা। এর অর্থ ‘বড় পশু শাবক’। ইয়ুকোনের জীবাশ্ম বিশেষজ্ঞ গ্রান্ট জাজুলা বলেন, ‘নুন চো গা দেখতে সুন্দর। বিশ্বে এখন পর্যন্ত বরফযুগের আশ্চর্যজনক যত মমিকৃত প্রাণীর সন্ধান পাওয়া গেছে, তার একটি এটি।’
ইয়ুকোনের স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, এটি ২০০৭ সালে পাওয়া সাইবেরীয় শাবক লিউবার আকারের সমান। লিউবা ছিল প্রায় ৪২ হাজার বছরের পুরোনো। উত্তর আমেরিকায় সন্ধান পাওয়া নুন চো গাকে বেশ ভালোভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর আগে ১৯৪৮ সালে আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে একটি সোনার খনিতে ইফি নামে লোমশ শাবকের সন্ধান মিলেছিল। তবে তার পুরো দেহ পাওয়া যায়নি। আংশিক অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল এটিকে। সিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডাউসন শহরের দক্ষিণে ইউরেকা ক্রিক এলাকার মাটিতে খনন করার সময় নুন চো গার গায়ে খননযন্ত্রের ধাক্কা লাগে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফোন করেন এক খনিশ্রমিক। এরপর মমিটি মাটির নিচ থেকে বের করে আনা হয়।