ঢাকা ১২:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

পশ্চিমাদের চাপ থেকে যেভাবে অর্থনীতি গতিশীল রাখছে চীন

  • আপডেট সময় : ১১:২৩:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুন ২০২২
  • ১৪৫ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চলতি মাসের শুরুর দিকে ‘যুব দিবসে’ গবেষক ও মহাকাশ প্রকৌশলীদের বার্তা দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এ সময় তিনি শিল্পখাতে নিজেদের উচ্চ আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়ে বলেছেন, চীনের আত্মনির্ভরশীলতার জন্য তরুণকর্মীদের আরও অগ্রসর হওয়া উচিত। তার পূর্বসূরিরাও নিজেদের প্রচেষ্টায় বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র তৈরিতে অবদান রাখে, যার মধ্যে অন্যতম হলো পারমাণবিক অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও স্যাটেলাইট।
২০০২ সালের দিকে চীন ছিল অল্প কিছু দেশের শীর্ষ ব্যবসায়িক অংশীদার। এখন ৬০টির বেশি দেশের বড় ব্যবসায়িক অংশিদার দেশটি। ১৯৮৫ থেকে ২০১৫ সালে আমেরিকায় চীনের পণ্য রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে। এ সময় মোট ১২৫টি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা হয়। এতে ২০০১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে দেশটির উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি বাড়ে উল্লেখযোগ্য হারে।
তবে লাভজনক অবস্থায় থাকলেও চীনের সরকার কখনোই বিশ্বায়ন নিয়ে স্বস্তিতে ছিল না। ১৯৭০ সালের দেং জিয়াওপিংয়ের সময় থেকে বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়, যার অধীনে চীন উৎপাদন ও বাণিজ্যকে উদারীকরণ করেছিল। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সব সময় অর্থনীতির আধিপত্যের দিকে নজর দিয়েছে। তবে পশ্চিমা ধারণার অনুপ্রবেশ নিয়ে দেশটি উদ্বিগ্ন। তাই বিদেশী পুঁজি ও দক্ষতাকে প্রশ্রয় দেওয়া হলেও তা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট শির আত্মনির্ভরশীলতার মানে হলো বিশ্বায়নের ঝুঁকি ও পুরস্কারের ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, চীন উদার গণতন্ত্রের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অর্থনীতির যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলায় চীনের অবস্থানকে পরিবর্তন করতে চান শি জিনপিং। দুইটি বিষয় তার সময়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রথমত শিল্পখাতের ওপর সরকারের শক্ত অবস্থান বিশেষ করে প্রযুক্তি ও জ্বালানির ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য হলো কেউ যাতে চীনের অর্থনৈতিক উত্থানকে থামাতে না পারে। দ্বিতীয়ত শত্রু পশ্চিমাদেশগুলোর ওপর ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কম নির্ভরশীলতা। নতুন নতুন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতেও সক্ষম হচ্ছে দেশটি। দ্য বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যাপক পরিবর্তনের আশা করছে চীন।
‘উৎপাদন বেশি, আমদানি কম’ এমন বেশ কিছু কৌশল চীনের শিল্পখাতে সফলতা এনে দিয়েছে। ২০২০ সালে গোল্ডম্যান শ্যাস একটি গবেষণা প্রকাশ করেন। যেখানে দেখা গেছে, উচ্চ প্রযুক্তির পণ্যগুলোতে চীনের স্বয়ংসম্পূর্ণতা ব্যাপকভাবে উন্নতি করছে। নিজেরাই নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সক্ষম হচ্ছে। বিদেশ থেকে প্রযুক্তি পণ্য আমদানি করতে হয় না বললেই চলে।
তাছাড়া সৌরশক্তিসহ বেশ কিছু শিল্পেও দেশটি উন্নতি করেছে। সৌর কোষ তৈরির জন্য ব্যবহৃত কাঁচামালের উৎপাদনের ৭০ শতাংশের বেশি চীনের মালিকানায় রয়েছে।
গভেকাল ড্রাগনমিক্সের বিশ্লেষক ড্যান ওয়াং বলেন, সৌর প্রযুক্তিতে চীনের নেতৃত্ব অপরিবর্তনীয় হতে পারে। ঠিক একইভাবে ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারির ক্ষেত্রেও। বায়ু শক্তিও রয়েছে দেশটির শক্তিশালী অবস্থান।
এভাবেই চীন বর্তমান বিশ্বে অনেক ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তার ও পশ্চিমাদের থেকে নিজেদের অর্থনীতি রক্ষা করছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০০৫ সালে চীন উৎপাদন শিল্পের রপ্তানিতে ৪২ শতাংশ অর্থাৎ এক-তৃতীয়াংশ অবদান রেখেছে। ২০১৯ সালে এই হার দাঁড়ায় ৬৭ শতাংশ।

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

পশ্চিমাদের চাপ থেকে যেভাবে অর্থনীতি গতিশীল রাখছে চীন

আপডেট সময় : ১১:২৩:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুন ২০২২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চলতি মাসের শুরুর দিকে ‘যুব দিবসে’ গবেষক ও মহাকাশ প্রকৌশলীদের বার্তা দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এ সময় তিনি শিল্পখাতে নিজেদের উচ্চ আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়ে বলেছেন, চীনের আত্মনির্ভরশীলতার জন্য তরুণকর্মীদের আরও অগ্রসর হওয়া উচিত। তার পূর্বসূরিরাও নিজেদের প্রচেষ্টায় বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র তৈরিতে অবদান রাখে, যার মধ্যে অন্যতম হলো পারমাণবিক অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও স্যাটেলাইট।
২০০২ সালের দিকে চীন ছিল অল্প কিছু দেশের শীর্ষ ব্যবসায়িক অংশীদার। এখন ৬০টির বেশি দেশের বড় ব্যবসায়িক অংশিদার দেশটি। ১৯৮৫ থেকে ২০১৫ সালে আমেরিকায় চীনের পণ্য রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে। এ সময় মোট ১২৫টি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা হয়। এতে ২০০১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে দেশটির উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি বাড়ে উল্লেখযোগ্য হারে।
তবে লাভজনক অবস্থায় থাকলেও চীনের সরকার কখনোই বিশ্বায়ন নিয়ে স্বস্তিতে ছিল না। ১৯৭০ সালের দেং জিয়াওপিংয়ের সময় থেকে বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়, যার অধীনে চীন উৎপাদন ও বাণিজ্যকে উদারীকরণ করেছিল। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সব সময় অর্থনীতির আধিপত্যের দিকে নজর দিয়েছে। তবে পশ্চিমা ধারণার অনুপ্রবেশ নিয়ে দেশটি উদ্বিগ্ন। তাই বিদেশী পুঁজি ও দক্ষতাকে প্রশ্রয় দেওয়া হলেও তা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট শির আত্মনির্ভরশীলতার মানে হলো বিশ্বায়নের ঝুঁকি ও পুরস্কারের ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, চীন উদার গণতন্ত্রের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অর্থনীতির যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলায় চীনের অবস্থানকে পরিবর্তন করতে চান শি জিনপিং। দুইটি বিষয় তার সময়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রথমত শিল্পখাতের ওপর সরকারের শক্ত অবস্থান বিশেষ করে প্রযুক্তি ও জ্বালানির ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য হলো কেউ যাতে চীনের অর্থনৈতিক উত্থানকে থামাতে না পারে। দ্বিতীয়ত শত্রু পশ্চিমাদেশগুলোর ওপর ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কম নির্ভরশীলতা। নতুন নতুন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতেও সক্ষম হচ্ছে দেশটি। দ্য বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যাপক পরিবর্তনের আশা করছে চীন।
‘উৎপাদন বেশি, আমদানি কম’ এমন বেশ কিছু কৌশল চীনের শিল্পখাতে সফলতা এনে দিয়েছে। ২০২০ সালে গোল্ডম্যান শ্যাস একটি গবেষণা প্রকাশ করেন। যেখানে দেখা গেছে, উচ্চ প্রযুক্তির পণ্যগুলোতে চীনের স্বয়ংসম্পূর্ণতা ব্যাপকভাবে উন্নতি করছে। নিজেরাই নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সক্ষম হচ্ছে। বিদেশ থেকে প্রযুক্তি পণ্য আমদানি করতে হয় না বললেই চলে।
তাছাড়া সৌরশক্তিসহ বেশ কিছু শিল্পেও দেশটি উন্নতি করেছে। সৌর কোষ তৈরির জন্য ব্যবহৃত কাঁচামালের উৎপাদনের ৭০ শতাংশের বেশি চীনের মালিকানায় রয়েছে।
গভেকাল ড্রাগনমিক্সের বিশ্লেষক ড্যান ওয়াং বলেন, সৌর প্রযুক্তিতে চীনের নেতৃত্ব অপরিবর্তনীয় হতে পারে। ঠিক একইভাবে ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারির ক্ষেত্রেও। বায়ু শক্তিও রয়েছে দেশটির শক্তিশালী অবস্থান।
এভাবেই চীন বর্তমান বিশ্বে অনেক ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তার ও পশ্চিমাদের থেকে নিজেদের অর্থনীতি রক্ষা করছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০০৫ সালে চীন উৎপাদন শিল্পের রপ্তানিতে ৪২ শতাংশ অর্থাৎ এক-তৃতীয়াংশ অবদান রেখেছে। ২০১৯ সালে এই হার দাঁড়ায় ৬৭ শতাংশ।