আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোর করার দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে এক লাখ মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কংক্রেসকে আইন পাসের আহ্বান জানিয়েছেন।
গত ২৪ মে লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরলিন্স শহরে একটি হাইস্কুলের স্নাতক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গোলাগুলির ঘটনায় বয়স্ক এক নারী নিহত হন। ওই ঘটনায় আহত হন আরও দুজন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের উভালদে রব এলিমেন্টারি স্কুলে এক তরুণ বন্দুকধারীর গুলিতে গত মঙ্গলবার অন্তত ১৯ শিশু শিক্ষার্থীসহ ২১ জন নিহত হন। ওই ঘটনা দুটির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র আইন কঠোর করার দাবি জানিয়ে আসছেন সাধারণ নাগরিকরা।
আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপত্তা বিষয়ক গোষ্ঠী ‘মার্চ ফর আওয়ার লাইভস’ শনিবার (১১ জুন) জানায়, তারা দেশজুড়ে সাড়ে চারশো মিছিল-সমাবেশের আয়োজন করেছে। ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলস ও শিকাগোর মত শহরেও অনুষ্ঠিত হয়েছে এই সমাবেশ।
সংগঠনটির দাবি, রাজনীতিবিদদের অসফলতার কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ মারা যাচ্ছে। আমরা রাজনীতিবিদদের এ বিষয়ে আর চুপ করে বসে থাকার সুযোগ দিতে চাই না।
যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করে চীন বলেছে, তাইওয়ানকে স্বাধীন করার যে কোনো চেষ্টায় বেইজিং সামরিক পদক্ষেপ নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।
সিঙ্গাপুরে এক এশীয় নিরাপত্তা সম্মেলনের সাইডলাইনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের সঙ্গে শুক্রবারের বৈঠকে চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফিংহে এ হুঁশিয়ারি দেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ওয়েই বলেছেন, তাইওয়ানকে চীন থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হলে চীনা সামরিক বাহিনীর হাতে যুদ্ধ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প থাকবে না।
লয়েড অস্টিনও পরে তাইওয়ানের আশপাশে চীনের সামরিক কর্মকা-কে ‘উসকানিমূলক, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী’ অ্যাখ্যা দেন।
তিনি বলেন, এখন প্রায় প্রতিদিনই স্বশাসিত দ্বীপটির কাছ দিয়ে রেকর্ড সংখ্যাক চীনা বিমান উড়ে যাচ্ছে, যা ‘অঞ্চলটির শান্তি ও স্থিতিশীলতায় বিঘœ ঘটাচ্ছে’।
চীন স্বশাসিত তাইওয়ানকে তার অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে; যে অবস্থানের ভিত্তিতে ওয়েই তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির তীব্র নিন্দা জানান।
“কেউ যদি তাইওয়ানকে চীন থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় তাহলে যত মূল্যই দিতে হোক না কেন চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) হাতে যুদ্ধ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প থাকবে না। পিএলও ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতার’ যে কোনো চেষ্টা গুড়িয়ে দেবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখ-তা রক্ষা করবে,” চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী এমনটা বলেছেন বলে জানিয়েছেন তার এক মুখপাত্র।
অস্টিন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র স্থিতাবস্থা বজায় রাখতেই অঙ্গীকারাবদ্ধ, যেখানে বেইজিংয়ের হাতেই কেবল চীনের শাসনভার আছে এর স্বীকৃতি এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করা হয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে উত্তেজনা নিরসনের চেষ্টা করা যাবে না।
সাংগ্রি-লা ডায়লগ নিরাপত্তা সম্মেলনের সাইডলাইনে মার্কিন ও চীনা দুই্ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মধ্যে প্রথম এ বৈঠকটি প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে চলে।
ওয়েই বলেছেন, তাদের আলোচনা ‘নির্বিঘেœই শেষ হয়েছে’। উভয়পক্ষই একে ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক’ অ্যাখ্যা দিয়েছে।
‘ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে’ অস্টিন চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ সার্বক্ষণিক খোলা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
গত মাসের শেষদিকে তাইওয়ান জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা অঞ্চলে চীনের পাঠানো ৩০টি যুদ্ধবিমানকে সতর্ক করতে তারাও জঙ্গিবিমান মোতায়েন করেছিল। জানুয়ারির পর তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা অঞ্চলে এত চীনা বিমান আর দেখা যায়নি।
রোববার সাংগ্রি-লা নিরাপত্তা সম্মেলনে চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভালো করবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের।
তিনি চীনের মর্যাদাহানি এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
শনিবার একই নিরাপত্তা সম্মেলনে চীনের বিরুদ্ধে আনা অস্টিনের অভিযোগ ও হুমকিও উড়িয়ে দিয়েছেন ওয়েই।
তার বক্তব্যে রাশিয়া-ইউক্রেইন প্রসঙ্গও এসেছে। বেইজিংয়ের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি ইউক্রেইনে পশ্চিমাদের অস্ত্র সরবরাহের সমালোচনাও করেছেন।
“এই সংকটের মূল কারণ কী? কে এর মাস্টারমাইন্ড? কে সবচেয়ে বেশি হারাচ্ছে? কে বেশি লাভবান হচ্ছে? কারা শান্তির পক্ষে আর কারা আগুনে ঘি ঢালছে? আমার ধারণা, আমরা সবাই এই উত্তরগুলো জানি,” বলেছেন ওয়েই।
তাইওয়ানের স্বাধীনতার চেষ্টায় বাধবে যুদ্ধ, হুঁশিয়ারি চীনের
জনপ্রিয় সংবাদ


























