ঢাকা ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

‘শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু’ নামকরণের দাবি আওয়ামী লীগ কর্মীদের

  • আপডেট সময় : ০২:৩৮:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২
  • ১৫৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্বব্যাংকের অপবাদ মুছে দিয়ে নিজেদের সামর্থ্যে পদ্মার ওপর নির্মাণের শেষ পর্যায়ে থাকা সেতুটির নাম ‘শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু’ করার দাবি তুলেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দলের আলোচনাসভায় এ দাবি জানানো হয়। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সূচনা বক্তব্যে দক্ষিণ জনপদের মানুষের যোগাযোগের এ সেতুটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে করার প্রস্তাব দিলে নেতাকর্মীরা তাতে সমস্বরে সমর্থন দেন। বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘ টানাপড়েন শেষে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সেতুর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। ঠিক পাঁচ বছরের মাথায় পূর্ণ আকৃতি পায় স্বপ্নের সেতু, যুক্ত হয় পদ্মার দুই পাড়। পদ্মাসেতুর অর্থায়নে সাহসিকতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, “বিশ্বব্যংক আমাদের চোর অপবাদ দিয়ে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করা থেকে সরে গিয়েছিল।
“বঙ্গবন্ধু পরিবারের সবাইকে শেখ রেহানা, জয়, ববি, সবার বিরুদ্ধে চুরির অপবাদ দেয়া হয়েছিল। সেদিন শেখ হাসিনা না থাকলে পদ্মা সেতু করার সামর্থ্য, সাহস হত না।” নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের কাছে জানতে চাই, পদ্মা সেতুর নাম সারা জাতি শেখ হাসিনার নামে নামকরণ করতে চায়। আপনারা কি চান?
উপস্থিত নেতাকর্মীরা সমস্বরে ‘হাঁ’ জানিয়ে তাতে সমর্থ দিলে ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমিও প্রস্তাব দিয়েছি। বলেছি সর্বস্তরের মানুষ প্রস্তাব করেছে, পদ্মাসেতু যেহেতু শেখ হাসিনার সাহসের ফসল, সে কারণে সেতুর নাম শেখ হাসিনা পদ্মাসেতু রাখা হোক। সে দাবি আজও আমরা করছি। আমরা সেতু বিভাগ থেকে সামারি পাঠাচ্ছি। “শেখ হাসিনার নাম ছাড়া পদ্মাসেতু, তাকে অসম্মান করা হয়। কিন্তু তিনি চান না। শেখ রেহানা চান না। তারা বলেন পদ্মাসেতু পদ্মাসেতুর নামেই হোক। আপনারা কি মানেন?”
এসময় নেতাকর্মীরা হাত নেড়ে ‘না’ জানালে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “এটা নেত্রীকে জানিয়ে দেব।”
৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতু নির্মাণে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর সেতু নির্মাণ ও নদী শাসন কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে বসে প্রথম স্প্যান। মাঝে ২২টি খুঁটির নিচে নরম মাটি পাওয়া গেলে নকশা সংশোধনের প্রয়োজন হয়। তাতে বাড়তি সময় লেগে যায় প্রায় এক বছর। এরপর করোনাভাইরাস মহামারী আর বন্যার মধ্যে কাজের গতি কমে যায়। সব বাধা পেরিয়ে অক্টোবরে বসানো হয় ৩২তম স্প্যান। এরপর বাকি স্প্যানগুলো বসানো হয়ে যায় অল্প সময়ের মধ্যেই। সেতু উদ্বোধনের তারিখের প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, “দিনক্ষণ ঠিক করার জন্য। তবে একথা ঠিক জুন মাসেই উদ্বোধন হবে। নেতৃবৃন্দদের বলতে চাই, দয়া করে ধৈর্য্যহারা হবেন না।
“হঠাৎ করে একেক জন একেকটা তারিখ ঘোষণা করছে। সামারি যাচ্ছে নেত্রীর কাছে, তিনি তারিখ দেবেন যখন, তখনই উদ্বোধন হবে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ রেহানা আছেন, তাকেও আমরা বলেছি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকার জন্য।”
এর আগে গত ১১ মে দক্ষিণ জনপদের মানুষের স্বপ্নের এ সেতুর কাজ ৯৮ শতাংশ শেষ হয়েছে জানিয়ে আগামী জুন মাসের শেষ ভাগে তা উদ্বোধন হবে জানিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, মূল সেতুর প্রায় ৯৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। সার্বিক কাজের অগ্রগতি ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। নদী শাসনের কাজ ৯২ শতাংশ ও সেতুর কার্পেটিংয়ের ৯১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আলোচনাসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, “সামনে আছে কঠিন চ্যালেঞ্জ, এই ঝঞ্ঝা, বিক্ষুব্ধ পথ পেরিয়ে যেতেই হবে আমাদের। শেখ হাসিনার সামনে পাথর বিছানো পথ, ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।”

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নুরুল হকের ওপর নৃশংস হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে

‘শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু’ নামকরণের দাবি আওয়ামী লীগ কর্মীদের

আপডেট সময় : ০২:৩৮:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্বব্যাংকের অপবাদ মুছে দিয়ে নিজেদের সামর্থ্যে পদ্মার ওপর নির্মাণের শেষ পর্যায়ে থাকা সেতুটির নাম ‘শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু’ করার দাবি তুলেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দলের আলোচনাসভায় এ দাবি জানানো হয়। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সূচনা বক্তব্যে দক্ষিণ জনপদের মানুষের যোগাযোগের এ সেতুটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে করার প্রস্তাব দিলে নেতাকর্মীরা তাতে সমস্বরে সমর্থন দেন। বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘ টানাপড়েন শেষে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সেতুর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। ঠিক পাঁচ বছরের মাথায় পূর্ণ আকৃতি পায় স্বপ্নের সেতু, যুক্ত হয় পদ্মার দুই পাড়। পদ্মাসেতুর অর্থায়নে সাহসিকতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, “বিশ্বব্যংক আমাদের চোর অপবাদ দিয়ে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করা থেকে সরে গিয়েছিল।
“বঙ্গবন্ধু পরিবারের সবাইকে শেখ রেহানা, জয়, ববি, সবার বিরুদ্ধে চুরির অপবাদ দেয়া হয়েছিল। সেদিন শেখ হাসিনা না থাকলে পদ্মা সেতু করার সামর্থ্য, সাহস হত না।” নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের কাছে জানতে চাই, পদ্মা সেতুর নাম সারা জাতি শেখ হাসিনার নামে নামকরণ করতে চায়। আপনারা কি চান?
উপস্থিত নেতাকর্মীরা সমস্বরে ‘হাঁ’ জানিয়ে তাতে সমর্থ দিলে ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমিও প্রস্তাব দিয়েছি। বলেছি সর্বস্তরের মানুষ প্রস্তাব করেছে, পদ্মাসেতু যেহেতু শেখ হাসিনার সাহসের ফসল, সে কারণে সেতুর নাম শেখ হাসিনা পদ্মাসেতু রাখা হোক। সে দাবি আজও আমরা করছি। আমরা সেতু বিভাগ থেকে সামারি পাঠাচ্ছি। “শেখ হাসিনার নাম ছাড়া পদ্মাসেতু, তাকে অসম্মান করা হয়। কিন্তু তিনি চান না। শেখ রেহানা চান না। তারা বলেন পদ্মাসেতু পদ্মাসেতুর নামেই হোক। আপনারা কি মানেন?”
এসময় নেতাকর্মীরা হাত নেড়ে ‘না’ জানালে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “এটা নেত্রীকে জানিয়ে দেব।”
৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতু নির্মাণে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর সেতু নির্মাণ ও নদী শাসন কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে বসে প্রথম স্প্যান। মাঝে ২২টি খুঁটির নিচে নরম মাটি পাওয়া গেলে নকশা সংশোধনের প্রয়োজন হয়। তাতে বাড়তি সময় লেগে যায় প্রায় এক বছর। এরপর করোনাভাইরাস মহামারী আর বন্যার মধ্যে কাজের গতি কমে যায়। সব বাধা পেরিয়ে অক্টোবরে বসানো হয় ৩২তম স্প্যান। এরপর বাকি স্প্যানগুলো বসানো হয়ে যায় অল্প সময়ের মধ্যেই। সেতু উদ্বোধনের তারিখের প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, “দিনক্ষণ ঠিক করার জন্য। তবে একথা ঠিক জুন মাসেই উদ্বোধন হবে। নেতৃবৃন্দদের বলতে চাই, দয়া করে ধৈর্য্যহারা হবেন না।
“হঠাৎ করে একেক জন একেকটা তারিখ ঘোষণা করছে। সামারি যাচ্ছে নেত্রীর কাছে, তিনি তারিখ দেবেন যখন, তখনই উদ্বোধন হবে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ রেহানা আছেন, তাকেও আমরা বলেছি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকার জন্য।”
এর আগে গত ১১ মে দক্ষিণ জনপদের মানুষের স্বপ্নের এ সেতুর কাজ ৯৮ শতাংশ শেষ হয়েছে জানিয়ে আগামী জুন মাসের শেষ ভাগে তা উদ্বোধন হবে জানিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, মূল সেতুর প্রায় ৯৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। সার্বিক কাজের অগ্রগতি ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। নদী শাসনের কাজ ৯২ শতাংশ ও সেতুর কার্পেটিংয়ের ৯১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আলোচনাসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, “সামনে আছে কঠিন চ্যালেঞ্জ, এই ঝঞ্ঝা, বিক্ষুব্ধ পথ পেরিয়ে যেতেই হবে আমাদের। শেখ হাসিনার সামনে পাথর বিছানো পথ, ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।”