প্রত্যাশা ডেস্ক : ভারতের সবচেয়ে বড় শেয়ার বাজারের গোপনীয় তথ্য জানানো হতো এক যোগীকে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে নেওয়া হতো তার পরামর্শ। এসব করতেন ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (এনএসই) এর সাবেক প্রধান চিত্রা রামকৃষ্ণ। বাজার নিয়ন্ত্রকদের এক তদন্তে এই তথ্য উঠে এসেছে।
‘অদ্ভুত অসদাচরণের’ এই মামলায় নিয়মের ‘মারাত্মক ব্যত্যয়’ ঘটেছে বলে জানিয়েছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (এসইবিআই)। তদন্তে দেখা গেছে, হিমালয়ের আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে আবির্ভূত এক ব্যক্তির কাছে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, বোর্ড এজেন্ডাসহ নানা তথ্য প্রকাশ করেছেন সাবেক এনএসই প্রধান চিত্রা রামকৃষ্ণ। ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে ২০১৬ সালে এনএসই ছাড়েন চিত্রা রামকৃষ্ণ। তার ওপর জরিমানার আদেশ দিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইবিআই এর আদেশে বলা হয়েছে, ‘এনইসিই এর আর্থিক এবং ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রকাশ করা… একটি ষড়যন্ত্র, অকল্পনীয় না হলেও, এই কাজ স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিটি ভিত্তি নাড়িয়ে দিতে পারে।’ তদন্তের সময় এসইবিআই এর হাতে আসা নথিতে দেখা যায় চিত্রা রামকৃষ্ণ এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে মেইল করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি জানান, ওই ব্যক্তি ছিলেন এক আধ্যাত্মিক গুরু। বিগত ২০ বছর ধরে তার কাছ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার কথা দাবি করেন চিত্রা। আত্মপক্ষ সমর্থনে চিত্রা রামকৃষ্ণ দাবি করেন আধ্যাত্মিক প্রকৃতির ওই ব্যক্তির কাছে তথ্য প্রকাশ করায় গোপনীয়তা কিংবা সততার সঙ্গে আপোষ করা হয়নি। তবে এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে তদন্ত সংস্থা। তদন্তে আরও দেখা গেছে, মধ্য-পর্যায়ের কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রেও ব্যাপক প্রভাব ছিল গুরু হিসেবে আবির্ভূত ওই ব্যক্তির। এছাড়া শেয়ার বাজারের কোনও অভিজ্ঞতা না থাকলেও ওই গুরু সরাসরি চিত্রা রামকৃষ্ণের উপদেষ্টা ছিলেন। এই নিয়োগের পর্যাপ্বত তথ্য না থাকলেও এনএসই’র বেশিরভাগ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার চেয়ে গুরুর বেতন ছিল বেশি। এসইবিআই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই গুরু এক্সচেঞ্জ চালাতেন আর চিত্রা রামকৃষ্ণ ছিলেন তার ‘হাতের পুতুল’। সূত্র: এনডিটিভি
ভারতীয় শেয়ার বাজার চালাতেন এক যোগী
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ























