প্রত্যাশা ডেস্ক: অনলাইনে হয়রানি ও মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার কারণে, অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদ সোমবার ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেছে। ফ্রান্সে শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
এই বিলে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল নেটওয়ার্কে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বড় প্ল্যাটফর্মের ভেতরে থাকা সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সুবিধাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে। শিশু-কিশোরদের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে জনমনে বাড়তে থাকা উদ্বেগেরই প্রতিফলন এই আইন।
প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তরুণদের মধ্যে সহিংসতার জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন। তিনি বলেছেন, ফ্রান্স অস্ট্রেলিয়ার পথ অনুসরণ করুক। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ১৬ বছরের নিচে ব্যবহারকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা গত ডিসেম্বরে কার্যকর হয়।
ম্যাক্রোঁ আরো বলেছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই, অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হোক।
বিল উপস্থাপনকালে সংসদ সদস্য লর মিলার বলেছেন, এই আইনের মাধ্যমে আমরা সমাজে একটি স্পষ্ট সীমা টানছি এবং জানিয়ে দিচ্ছি, সোশ্যাল মিডিয়া মোটেও নিরীহ নয়। তিনি আরো বলেছেন, আমাদের শিশুরা কম পড়ছে, কম ঘুমাচ্ছে এবং একে অন্যের সঙ্গে বেশি তুলনা করছে। এটি মুক্ত চিন্তার জন্য একটি লড়াই।
ডানপন্থি আইনপ্রণেতা থিয়েরি পেরেজ বলেছেন, এই বিল একটি স্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতিচ মোকাবিলার অংশ।
তিনি আরো বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়া সবাইকে কথা বলার সুযোগ দিয়েছে, কিন্তু এর মূল্য কি আমাদের শিশুদেরই দিতে হচ্ছে?
উল্লেখ্য, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবেশের জন্য ন্যূনতম বয়স নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছে। তবে তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর নির্ভর করবে। এদিকে ব্রিটেন, ডেনমার্ক, স্পেন ও গ্রিসসহ কয়েকটি দেশ এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কথা বিবেচনা করছে।
সানা/মেহেদী/আপ্র/২৭/০১/২০২৬




















