ঢাকা ১১:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

সবাই মিলে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পারি: জাইমা রহমান

  • আপডেট সময় : ০৮:১৮:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ফিরে প্রথমবারের মতো কোনো আলোচনা সভায় বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক দল ও মত নির্বিশেষে সবার কাছে সার্বজনীন হয়ে উঠেছেন। বক্তৃতা শুনে উপস্থিত সবাই মন্ত্রমুগ্ধ হয়েছেন।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীতে ঢাকা ফোরাম আয়োজিত ‘জাতি গঠনে নারী: নীতি, সম্ভাবনা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ বক্তব্য দেন তিনি। আয়োজনটি নিয়ে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ফেসবুকে জাইমা রহমান এক স্ট্যাটাস দেন।

জাইমা রহমানের সেই পোস্টটি হুবুহু তুলে ধরা হলো—

গতকালের আয়োজনটি মনে হয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কোন কিছুর শুরু- এমন একটি ভবিষ্যৎ, যেখানে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামের, মফস্বলের কিংবা শহরের নারীরা, তাদের পটভূমি, মতাদর্শ কিংবা প্রজন্ম যাই হোক না কেন, কেবল অন্তর্ভুক্তই হবেন না বরং আগামী দিনগুলোতে রূপরেখা তৈরিতেও তাদের ওপর আস্থা রাখা হবে এবং তাদের ক্ষমতায়ন করা হবে। আমি আশা করি, এই ধরনের আরও অনেক ক্ষেত্র বা প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে, যেখান থেকে আমি শিখতে পারব এবং যার মাধ্যমে নারীদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে পারব।

ড. ফাহমিদা খাতুন, তামারা আবেদ হাসান এবং রূপালী চৌধুরীর মতো অগ্রগামী ব্যক্তিত্বদের সাথে একই প্ল্যাটফর্ম শেয়ার করতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত হয়েছি। আপনাদের অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ আলোচনার জন্য এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।

সুমাইয়া আরজু মুহু, সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া, ড. হালিদা হানুম আখতার, তানজিনা, আফরোজা মুক্তা এবং মামুনুর রশিদ ইফতি-সহ বিভিন্ন সেক্টরের এমন সফল, উচ্চাভিলাষী ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নারীদের কথা শোনা এবং তাদের সাথে যুক্ত হতে পারাটাও আমার জন্য ছিল সমান তাৎপর্যপূর্ণ।

আমি বিশেষভাবে স্মরণ করছি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়াকে- প্রশ্নোত্তর পর্বে তার এত গভীর এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করার জন্য। সমাজে আপনার মতো মেধাবী নারীরা সঠিক প্রশ্ন তুলছে দেখে আমার খুব ভালো লাগছে!

আমাদের মডারেটর কাজী জেসিনকে আলোচনার দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য এবং আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আলোচনায় যুক্ত হয়ে উত্থাপিত বিষয়গুলো নিয়ে নীতিনির্ধারণী ভাবনাগুলো তুলে ধরার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

সব থেকে বড় ধন্যবাদটি তারা প্রাপ্য, যারা সময় বের করে উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রগতি তখনই সম্ভব যখন আমরা একে অপরের কথা শুনি এবং মতভেদ থাকা সত্ত্বেও আলোচনার মধ্যে থাকি।

গতকাল আরও একটি বিষয় মনে করিয়ে দিয়েছে যে, নারীরা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু এই বিশ্বাসকে এখন বাস্তবে রূপান্তর করতে হবে। ক্ষমতায়নকে শুধু বক্তৃতা বা নীতিমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; এটিকে আমাদের পরিবার, কর্মক্ষেত্র এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিনিয়ত প্রকাশ্যে আনতে হবে। আর এই কাজের গুরুভার শুধু নারীদের একার উপরে নয়।

আমাদের মাঝে যে পুরুষরা, নেতারা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা আছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আপনাদের সমর্থন শুধু ইচ্ছা দিয়ে নয় বরং তা পরিমাপ করা হবে নিরবচ্ছিন্ন কাজের মাধ্যমে। আমাদের একসাথে, সামগ্রিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। আমরা যে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি, তা কেবল আমরা সবাই মিলে একসাথেই গড়তে পারি।

ওআ/আপ্র/১৯/১/২০২৬

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

সবাই মিলে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পারি: জাইমা রহমান

আপডেট সময় : ০৮:১৮:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ফিরে প্রথমবারের মতো কোনো আলোচনা সভায় বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক দল ও মত নির্বিশেষে সবার কাছে সার্বজনীন হয়ে উঠেছেন। বক্তৃতা শুনে উপস্থিত সবাই মন্ত্রমুগ্ধ হয়েছেন।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীতে ঢাকা ফোরাম আয়োজিত ‘জাতি গঠনে নারী: নীতি, সম্ভাবনা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ বক্তব্য দেন তিনি। আয়োজনটি নিয়ে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ফেসবুকে জাইমা রহমান এক স্ট্যাটাস দেন।

জাইমা রহমানের সেই পোস্টটি হুবুহু তুলে ধরা হলো—

গতকালের আয়োজনটি মনে হয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কোন কিছুর শুরু- এমন একটি ভবিষ্যৎ, যেখানে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামের, মফস্বলের কিংবা শহরের নারীরা, তাদের পটভূমি, মতাদর্শ কিংবা প্রজন্ম যাই হোক না কেন, কেবল অন্তর্ভুক্তই হবেন না বরং আগামী দিনগুলোতে রূপরেখা তৈরিতেও তাদের ওপর আস্থা রাখা হবে এবং তাদের ক্ষমতায়ন করা হবে। আমি আশা করি, এই ধরনের আরও অনেক ক্ষেত্র বা প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে, যেখান থেকে আমি শিখতে পারব এবং যার মাধ্যমে নারীদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে পারব।

ড. ফাহমিদা খাতুন, তামারা আবেদ হাসান এবং রূপালী চৌধুরীর মতো অগ্রগামী ব্যক্তিত্বদের সাথে একই প্ল্যাটফর্ম শেয়ার করতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত হয়েছি। আপনাদের অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ আলোচনার জন্য এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।

সুমাইয়া আরজু মুহু, সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া, ড. হালিদা হানুম আখতার, তানজিনা, আফরোজা মুক্তা এবং মামুনুর রশিদ ইফতি-সহ বিভিন্ন সেক্টরের এমন সফল, উচ্চাভিলাষী ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নারীদের কথা শোনা এবং তাদের সাথে যুক্ত হতে পারাটাও আমার জন্য ছিল সমান তাৎপর্যপূর্ণ।

আমি বিশেষভাবে স্মরণ করছি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়াকে- প্রশ্নোত্তর পর্বে তার এত গভীর এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করার জন্য। সমাজে আপনার মতো মেধাবী নারীরা সঠিক প্রশ্ন তুলছে দেখে আমার খুব ভালো লাগছে!

আমাদের মডারেটর কাজী জেসিনকে আলোচনার দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য এবং আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আলোচনায় যুক্ত হয়ে উত্থাপিত বিষয়গুলো নিয়ে নীতিনির্ধারণী ভাবনাগুলো তুলে ধরার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

সব থেকে বড় ধন্যবাদটি তারা প্রাপ্য, যারা সময় বের করে উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রগতি তখনই সম্ভব যখন আমরা একে অপরের কথা শুনি এবং মতভেদ থাকা সত্ত্বেও আলোচনার মধ্যে থাকি।

গতকাল আরও একটি বিষয় মনে করিয়ে দিয়েছে যে, নারীরা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু এই বিশ্বাসকে এখন বাস্তবে রূপান্তর করতে হবে। ক্ষমতায়নকে শুধু বক্তৃতা বা নীতিমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; এটিকে আমাদের পরিবার, কর্মক্ষেত্র এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিনিয়ত প্রকাশ্যে আনতে হবে। আর এই কাজের গুরুভার শুধু নারীদের একার উপরে নয়।

আমাদের মাঝে যে পুরুষরা, নেতারা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা আছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আপনাদের সমর্থন শুধু ইচ্ছা দিয়ে নয় বরং তা পরিমাপ করা হবে নিরবচ্ছিন্ন কাজের মাধ্যমে। আমাদের একসাথে, সামগ্রিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। আমরা যে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি, তা কেবল আমরা সবাই মিলে একসাথেই গড়তে পারি।

ওআ/আপ্র/১৯/১/২০২৬