ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন

  • আপডেট সময় : ০৭:০১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের শহরগুলোয় যানজট ও জনদুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছে না। এ অসহনীয় যানজটের মূল কারণ শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলোয় রাস্তার দুই পাশে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং ও ফুটপাত দখল। বড় শহরগুলোয় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কার্যালয় ভবন ঘিরে রাস্তার দুই পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ পার্কিং। একাধিক ব্যস্ততম স্থানে ফুটপাতের ওপরও প্রাইভেট কার কিংবা মোটরসাইকেল পার্ক করে রাখা হয়। ব্যক্তিগত ও বেসরকারির পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িও আইন অমান্য করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয় সড়কগুলোয়। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকে এসব এলাকায়। আবার ফুটপাত হকারের দখলে থাকায় পথচারী চলাফেরায় বিঘ্ন ঘটছে। এতে যাতায়াতকারীদের ভোগান্তির শেষ নেই। সড়কেই অবৈধভাবে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং জোন গড়ে তোলা হয়েছে। মানুষের চলমান জীবন স্থবির করে দেয় যানজট। একদিকে বাড়ছে জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা, অন্যদিকে নগর ব্যবস্থাপনায় যথাযথ পরিকল্পনার অভাবের কারণে পার্কিং ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে বিশৃঙ্খল। কিন্তু শৃঙ্খলা ফেরাতে কোনো উদ্যোগ নেই। দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক স্টেশনগুলোয় দীর্ঘদিন ধরেই চলছে চরম অব্যবস্থাপনা ও পার্কিং নৈরাজ্য। এসব এলাকায় প্রতিদিনই লেগে থাকে তীব্র যানজট। কোথাও কার্যকর রোড ডিভাইডার নেই, কোথাও ফুটপাত দখল করে বসেছে ভাসমান দোকান ও অবৈধ পার্কিং। এতে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, ফুটপাতজুড়ে গড়ে উঠেছে ভাসমান দোকানপাট। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ইজারাদার ও মার্কেট মালিক এসব দোকানদারের কাছ থেকে দৈনিক বা মাসিক হারে ভাড়া আদায় করছে। ফলে একপ্রকার ‘অব্যবস্থাপনার বাজার’ গড়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, বাজার এলাকায় নির্ধারিত পার্কিং স্পট না থাকায় চালকরা রাস্তার উভয় পাশে ইচ্ছামতো গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখছে। পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গার অভাব ও আইন প্রয়োগে শিথিলতা শহরবাসীকে যেমন অসহায় করে তুলেছে, তেমনি অসচেতন চালকরা অবৈধ পার্কিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফুটপাতে গাড়ি পার্ক করায় পথচারীদের হাঁটতে হয় রাস্তার ওপর দিয়ে; যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। এ ছাড়াৎ অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি যানবাহন সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় অনেক সময় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। নাগরিক জীবনের স্বাভাবিক গতি যেন প্রতিনিয়ত হোঁচট খাচ্ছে পার্কিং নৈরাজ্যের গ্লানিতে। দুঃখজনক হলেও সত্য- যে রাস্তাটি মানুষের হেঁটে চলার কথা, সেখানে এখন ঠাঁই নেয় চার চাকার জ্যামিতি। হাসপাতালের সামনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ, এমনকি অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর চলার রাস্তাও বন্ধ হয়ে যায় অবৈধভাবে পার্ক করা একাধিক যানবাহনের কারণে। এ যেন শুধুই যানজট নয়, এ এক ভয়াবহ ব্যর্থতা, অব্যবস্থাপনার প্রতিকৃতি।

বলা বাহুল্য, শুধু চালক নয়; কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাও অবৈধ পার্কিং নৈরাজ্যকে প্রশ্রয় দিয়েছে। নির্ধারিত পার্কিংয়ের অভাব, যথাযথ নিয়ম প্রয়োগের ঘাটতি এবং নাগরিক সচেতনতার অভাব মিলেই তৈরি করেছে এই বিষাক্ত চক্র। অথচ নগর পরিকল্পনায় যথাযথ দৃষ্টিভঙ্গি, প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট পার্কিং ব্যবস্থা এবং কঠোর আইন প্রয়োগই পারে এই চক্র ভাঙতে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে যথাযথ পার্কিং সুবিধা গড়ে তোলা, অনলাইনে পার্কিং বুকিংয়ের ব্যবস্থা চালু করা এবং অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ সময়ের দাবি। এর পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়াতে হবে, রাস্তা পার্কিংয়ের জায়গা নয়। শহরের সৌন্দর্য ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পার্কিং নৈরাজ্যের অবসান জরুরি। এই সমস্যাকে আর অবহেলা করার সুযোগ নেই। শহরের সৌন্দর্য, গতি ও গৌরব রক্ষা করতে হলে পার্কিং নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে সামাজিক সচেতনতার আন্দোলন। নইলে শহর হারাবে তার প্রাণ, মানুষ হারাবে চলার পথ। আমরা যদি সত্যিই একটি বাসযোগ্য, মানবিক এবং শৃঙ্খলিত শহর চাই; তাহলে পার্কিং নৈরাজ্য রোধে এখনই নিতে হবে জরুরি উদ্যোগ। প্রতিটি গাড়িচালককে বুঝতে হবে- শুধু গাড়ি চালানোর দক্ষতাই নয়, পার্কিংও নাগরিক দায়িত্বের অংশ। পার্কিং নৈরাজ্য বন্ধ করতে আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি। আমাদের প্রত্যাশা, অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।

আজকের প্রত্যাশা/কেএমএএ

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন

আপডেট সময় : ০৭:০১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের শহরগুলোয় যানজট ও জনদুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছে না। এ অসহনীয় যানজটের মূল কারণ শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলোয় রাস্তার দুই পাশে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং ও ফুটপাত দখল। বড় শহরগুলোয় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কার্যালয় ভবন ঘিরে রাস্তার দুই পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ পার্কিং। একাধিক ব্যস্ততম স্থানে ফুটপাতের ওপরও প্রাইভেট কার কিংবা মোটরসাইকেল পার্ক করে রাখা হয়। ব্যক্তিগত ও বেসরকারির পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িও আইন অমান্য করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয় সড়কগুলোয়। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকে এসব এলাকায়। আবার ফুটপাত হকারের দখলে থাকায় পথচারী চলাফেরায় বিঘ্ন ঘটছে। এতে যাতায়াতকারীদের ভোগান্তির শেষ নেই। সড়কেই অবৈধভাবে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং জোন গড়ে তোলা হয়েছে। মানুষের চলমান জীবন স্থবির করে দেয় যানজট। একদিকে বাড়ছে জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা, অন্যদিকে নগর ব্যবস্থাপনায় যথাযথ পরিকল্পনার অভাবের কারণে পার্কিং ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে বিশৃঙ্খল। কিন্তু শৃঙ্খলা ফেরাতে কোনো উদ্যোগ নেই। দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক স্টেশনগুলোয় দীর্ঘদিন ধরেই চলছে চরম অব্যবস্থাপনা ও পার্কিং নৈরাজ্য। এসব এলাকায় প্রতিদিনই লেগে থাকে তীব্র যানজট। কোথাও কার্যকর রোড ডিভাইডার নেই, কোথাও ফুটপাত দখল করে বসেছে ভাসমান দোকান ও অবৈধ পার্কিং। এতে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, ফুটপাতজুড়ে গড়ে উঠেছে ভাসমান দোকানপাট। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ইজারাদার ও মার্কেট মালিক এসব দোকানদারের কাছ থেকে দৈনিক বা মাসিক হারে ভাড়া আদায় করছে। ফলে একপ্রকার ‘অব্যবস্থাপনার বাজার’ গড়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, বাজার এলাকায় নির্ধারিত পার্কিং স্পট না থাকায় চালকরা রাস্তার উভয় পাশে ইচ্ছামতো গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখছে। পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গার অভাব ও আইন প্রয়োগে শিথিলতা শহরবাসীকে যেমন অসহায় করে তুলেছে, তেমনি অসচেতন চালকরা অবৈধ পার্কিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফুটপাতে গাড়ি পার্ক করায় পথচারীদের হাঁটতে হয় রাস্তার ওপর দিয়ে; যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। এ ছাড়াৎ অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি যানবাহন সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় অনেক সময় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। নাগরিক জীবনের স্বাভাবিক গতি যেন প্রতিনিয়ত হোঁচট খাচ্ছে পার্কিং নৈরাজ্যের গ্লানিতে। দুঃখজনক হলেও সত্য- যে রাস্তাটি মানুষের হেঁটে চলার কথা, সেখানে এখন ঠাঁই নেয় চার চাকার জ্যামিতি। হাসপাতালের সামনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ, এমনকি অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর চলার রাস্তাও বন্ধ হয়ে যায় অবৈধভাবে পার্ক করা একাধিক যানবাহনের কারণে। এ যেন শুধুই যানজট নয়, এ এক ভয়াবহ ব্যর্থতা, অব্যবস্থাপনার প্রতিকৃতি।

বলা বাহুল্য, শুধু চালক নয়; কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাও অবৈধ পার্কিং নৈরাজ্যকে প্রশ্রয় দিয়েছে। নির্ধারিত পার্কিংয়ের অভাব, যথাযথ নিয়ম প্রয়োগের ঘাটতি এবং নাগরিক সচেতনতার অভাব মিলেই তৈরি করেছে এই বিষাক্ত চক্র। অথচ নগর পরিকল্পনায় যথাযথ দৃষ্টিভঙ্গি, প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট পার্কিং ব্যবস্থা এবং কঠোর আইন প্রয়োগই পারে এই চক্র ভাঙতে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে যথাযথ পার্কিং সুবিধা গড়ে তোলা, অনলাইনে পার্কিং বুকিংয়ের ব্যবস্থা চালু করা এবং অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ সময়ের দাবি। এর পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়াতে হবে, রাস্তা পার্কিংয়ের জায়গা নয়। শহরের সৌন্দর্য ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পার্কিং নৈরাজ্যের অবসান জরুরি। এই সমস্যাকে আর অবহেলা করার সুযোগ নেই। শহরের সৌন্দর্য, গতি ও গৌরব রক্ষা করতে হলে পার্কিং নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে সামাজিক সচেতনতার আন্দোলন। নইলে শহর হারাবে তার প্রাণ, মানুষ হারাবে চলার পথ। আমরা যদি সত্যিই একটি বাসযোগ্য, মানবিক এবং শৃঙ্খলিত শহর চাই; তাহলে পার্কিং নৈরাজ্য রোধে এখনই নিতে হবে জরুরি উদ্যোগ। প্রতিটি গাড়িচালককে বুঝতে হবে- শুধু গাড়ি চালানোর দক্ষতাই নয়, পার্কিংও নাগরিক দায়িত্বের অংশ। পার্কিং নৈরাজ্য বন্ধ করতে আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি। আমাদের প্রত্যাশা, অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।

আজকের প্রত্যাশা/কেএমএএ