ঢাকা ০৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

পরিত্যক্ত ভবনে ৬ মরদেহ, সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল সিরিয়াল কিলার

  • আপডেট সময় : ০২:১০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

প্রত্যাশা ডেস্ক: ঢাকার সাভারে একের পর এক রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক মাসে সাভার মডেল থানা ও এর আশপাশের এলাকায় ধারাবাহিকভাবে একাধিক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় অবশেষে সিরিয়াল কিলারের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, থানার আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে ঘোরাফেরা করা সম্রাট নামের এক ভবঘুরেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অন্তত ৬টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত মাস আগে সাভার মডেল মসজিদের সামনে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর গত বছরের ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার হয়। পরে একই স্থান থেকে গত ১৯ ডিসেম্বর আরো একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সর্বশেষ গত ১৮ জানুয়ারি রোববার সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবন থেকে আগুনে পোড়া অবস্থায় দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

একই এলাকার আশপাশে ধারাবাহিকভাবে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় পুলিশ তদন্ত জোরদার করে। তদন্তের এক পর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে সম্রাটকে আটক করা হয়। পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে তার বক্তব্য ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ঘটনাগুলোর মিল পাওয়া যাচ্ছে।

সাভার মডেল থানার এক কর্মকর্তা জানান, আটক ব্যক্তিকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার দেওয়া তথ্যে হত্যাকাণ্ডগুলোর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও নৃশংস। লাশ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করি। ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে দ্রুত আটক করা সম্ভব হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। অধিকতর তদন্ত শেষে আর কেউ এ নৃশংসতার সঙ্গে জড়িত আছে কি না তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে একের পর এক হত্যার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এসি/আপ্র/১৯/০১/২০২৬

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

পরিত্যক্ত ভবনে ৬ মরদেহ, সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল সিরিয়াল কিলার

আপডেট সময় : ০২:১০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

প্রত্যাশা ডেস্ক: ঢাকার সাভারে একের পর এক রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক মাসে সাভার মডেল থানা ও এর আশপাশের এলাকায় ধারাবাহিকভাবে একাধিক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় অবশেষে সিরিয়াল কিলারের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, থানার আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে ঘোরাফেরা করা সম্রাট নামের এক ভবঘুরেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অন্তত ৬টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত মাস আগে সাভার মডেল মসজিদের সামনে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর গত বছরের ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার হয়। পরে একই স্থান থেকে গত ১৯ ডিসেম্বর আরো একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সর্বশেষ গত ১৮ জানুয়ারি রোববার সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবন থেকে আগুনে পোড়া অবস্থায় দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

একই এলাকার আশপাশে ধারাবাহিকভাবে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় পুলিশ তদন্ত জোরদার করে। তদন্তের এক পর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে সম্রাটকে আটক করা হয়। পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে তার বক্তব্য ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ঘটনাগুলোর মিল পাওয়া যাচ্ছে।

সাভার মডেল থানার এক কর্মকর্তা জানান, আটক ব্যক্তিকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার দেওয়া তথ্যে হত্যাকাণ্ডগুলোর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও নৃশংস। লাশ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করি। ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে দ্রুত আটক করা সম্ভব হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। অধিকতর তদন্ত শেষে আর কেউ এ নৃশংসতার সঙ্গে জড়িত আছে কি না তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে একের পর এক হত্যার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এসি/আপ্র/১৯/০১/২০২৬