ঢাকা ০৪:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

উত্তরায় আবাসিক ভব‌নে আগুনে নিহত ৬

  • আপডেট সময় : ০২:৩০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর উত্তরার একটি সাততলা আবাসিক ভবনে লাগা আগুনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সন্তানসহ মোট তিনজন রয়েছেন। ত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের একটি ভবনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় সংঘটিত ঘটনায় নিহত ৬ জনের নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের সদস্য এবং ময়মনসিংহের একই এলাকার বাসিন্দা রয়েছেন।

নিহতরা হলেন— ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), কুমিল্লার কোতোয়ালী থানার নানুয়াদিঘি পশ্চিমপাড়ার কাজীবাড়ির বাসিন্দা কাজী খোরশেদুল আলমের ছেলে। তিনি ঢাকার উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের ৩৪ নম্বর বাসায় সপরিবারে থাকতেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে মারা যান। আফরোজা আক্তার, নিহত ফজলে রাব্বি রিজভীর স্ত্রী। তার বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার সিকারকান্দি গ্রামে। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। মো. রিশান (আড়াই বছর), ফজলে রাব্বি রিজভী ও আফরোজা আক্তার দম্পতির আড়াই বছর বয়সী শিশু সন্তান। সে ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মো. হারিছ (৫২), ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার দড়িপাচাশি গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনিও উত্তরার একই বাসায় (সেক্টর ১১, রোড ১৮) বসবাস করতেন। কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মো. রাহাব (১৭), ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ এলাকার হারিছ উদ্দিনের ছেলে। সেও উত্তরার ওই একই ঠিকানায় বসবাস করত এবং কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে মারা যায়। রোদেলা আক্তার (১৪), ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের দড়িপচাশী এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে। তার মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

নিহত আফরোজার মামাতো ভাই মো. আবু সাইদ জানান, ফজলে রাব্বির বাড়ি কুমিল্লা সদর উপজেলার নানুয়া দিঘিরপাড়। তিনি ওষুধ প্রস্তুতকারক এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। আর তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ। তাদের দুই ছেলে ফাইয়াজ ও রাফসান। স্বামী স্ত্রী দুজনই কর্মজীবী হওয়ায় তাদের দুই ছেলেই উত্তরায় নানির বাসায় থাকত।

আবু সাইদ আরও জানান, শুক্রবার অফিস বন্ধের দিন হওয়ায় গতরাতেই ছোট ছেলেকে নানীর বাসা থেকে মায়ের বাসায় নিয়ে আসে। এরপর আজ সকালে ওই বাসায় আগুনের সংবাদ পান স্বজনরা। প‌রে একে একে হাসপাতালে এসে তাদের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।

উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিক আহমেদ জানান, এখন পর্যন্ত ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। তদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য। একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সন্তান। এই ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ওসি আরও জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজন কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে, দুইজন উত্তরা স্পেশালাইজড হাসপাতালে এবং একজন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এর আগে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছিল, তারা ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

এর আগে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের একটি সাততলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সকাল ১০টার দিকে তা সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনে আটকা পড়া ১৩ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল, যাদের মধ্যে থেকেই পরে নিহতের সংখ্যা বাড়ে। আগুনের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে বিষয়টি তদন্ত করছে।

সানা/আপ্র/১৬/০১/২০২৬

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

উত্তরায় আবাসিক ভব‌নে আগুনে নিহত ৬

আপডেট সময় : ০২:৩০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর উত্তরার একটি সাততলা আবাসিক ভবনে লাগা আগুনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সন্তানসহ মোট তিনজন রয়েছেন। ত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের একটি ভবনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় সংঘটিত ঘটনায় নিহত ৬ জনের নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের সদস্য এবং ময়মনসিংহের একই এলাকার বাসিন্দা রয়েছেন।

নিহতরা হলেন— ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), কুমিল্লার কোতোয়ালী থানার নানুয়াদিঘি পশ্চিমপাড়ার কাজীবাড়ির বাসিন্দা কাজী খোরশেদুল আলমের ছেলে। তিনি ঢাকার উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের ৩৪ নম্বর বাসায় সপরিবারে থাকতেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে মারা যান। আফরোজা আক্তার, নিহত ফজলে রাব্বি রিজভীর স্ত্রী। তার বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার সিকারকান্দি গ্রামে। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। মো. রিশান (আড়াই বছর), ফজলে রাব্বি রিজভী ও আফরোজা আক্তার দম্পতির আড়াই বছর বয়সী শিশু সন্তান। সে ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মো. হারিছ (৫২), ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার দড়িপাচাশি গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনিও উত্তরার একই বাসায় (সেক্টর ১১, রোড ১৮) বসবাস করতেন। কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মো. রাহাব (১৭), ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ এলাকার হারিছ উদ্দিনের ছেলে। সেও উত্তরার ওই একই ঠিকানায় বসবাস করত এবং কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে মারা যায়। রোদেলা আক্তার (১৪), ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের দড়িপচাশী এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে। তার মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

নিহত আফরোজার মামাতো ভাই মো. আবু সাইদ জানান, ফজলে রাব্বির বাড়ি কুমিল্লা সদর উপজেলার নানুয়া দিঘিরপাড়। তিনি ওষুধ প্রস্তুতকারক এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। আর তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ। তাদের দুই ছেলে ফাইয়াজ ও রাফসান। স্বামী স্ত্রী দুজনই কর্মজীবী হওয়ায় তাদের দুই ছেলেই উত্তরায় নানির বাসায় থাকত।

আবু সাইদ আরও জানান, শুক্রবার অফিস বন্ধের দিন হওয়ায় গতরাতেই ছোট ছেলেকে নানীর বাসা থেকে মায়ের বাসায় নিয়ে আসে। এরপর আজ সকালে ওই বাসায় আগুনের সংবাদ পান স্বজনরা। প‌রে একে একে হাসপাতালে এসে তাদের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।

উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিক আহমেদ জানান, এখন পর্যন্ত ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। তদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য। একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সন্তান। এই ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ওসি আরও জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজন কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে, দুইজন উত্তরা স্পেশালাইজড হাসপাতালে এবং একজন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এর আগে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছিল, তারা ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

এর আগে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের একটি সাততলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সকাল ১০টার দিকে তা সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনে আটকা পড়া ১৩ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল, যাদের মধ্যে থেকেই পরে নিহতের সংখ্যা বাড়ে। আগুনের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে বিষয়টি তদন্ত করছে।

সানা/আপ্র/১৬/০১/২০২৬