লাইফস্টাইল ডেস্ক: শসা মানেই গরমের খাবার, এমন ধারণা আমাদের অনেকেরই। তাই শীত এলেই ঠান্ডা লাগা, গ্যাস বা বদহজমের আশঙ্কায় শসা খাওয়া বন্ধ করে দেন অনেকে। কিন্তু বাস্তবে শসা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কখন, কীভাবে এবং কোন উপায়ে শসা খাচ্ছেন সেটাই আসল বিষয়। সঠিক নিয়ম মেনে খেলে শীতকালেও শসা হতে পারে স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার নিরাপদ অংশ। আয়ুর্বেদ বলছে, সামান্য কিছু অভ্যাস বদলালেই শীতেও শসা খেলে ক্ষতির বদলে উপকারই বেশি পাওয়া যায়।
শীতে শসা খাওয়ার উপকারিতা
শরীর ঠান্ডা রাখতে, জলশূন্যতা দূর করতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে শসার জুড়ি নেই। তবে শীতকালে শরীরের হজমক্ষমতা কিছুটা কমে যায় বলে অনেকেই মনে করেন, এই সময়ে শসা হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। কিন্তু শসা খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে এসব সমস্যা সহজেই এড়ানো সম্ভব।
শরীরকে রাখে হাইড্রেটেড: শীতকালে তৃষ্ণা কম লাগে বলে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করেন। এর ফলেই দেখা দেয় শুষ্ক ত্বক, ঠোঁট ফাটা বা মুখ শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা। শসায় প্রায় ৯০ শতাংশই জল, যা শরীরের জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়ক: শীতে পানি কম খাওয়ার কারণে অনেকেরই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়। শসায় থাকা জল ও ফাইবার একসঙ্গে মিলে মল নরম করতে সাহায্য করে এবং মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে: শীতকালে খাবারের পরিমাণ বেড়ে যায়, ফলে ওজন বাড়ার ঝুঁকিও থাকে। নিয়মিত খাবারের সঙ্গে শসার সালাদ রাখলে ক্যালরি গ্রহণ কমানো যায়। পাশাপাশি শসার ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে অপ্রয়োজনীয় খাওয়ার প্রবণতাও কমে।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, শসা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে খোসাসহ শসা খেলে এর উপকারিতা আরও বেশি পাওয়া যেতে পারে।
শসার স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য শীতল এবং এটি হজম হতে তুলনামূলক বেশি সময় নেয়। তাই রাতে শসা খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনে বিশেষ করে দুপুরের খাবারের সঙ্গে শসা খাওয়া বেশি উপযোগী।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শসার সঙ্গে সঠিক মশলার ব্যবহার। শসার সালাদে গোলমরিচ গুঁড়া, ভাজা জিরা গুঁড়া বা সামান্য কালো লবণ যোগ করলে এর শীতল প্রভাব কমে এবং হজম সহজ হয়। এই মশলাগুলো পাচনতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতেও সাহায্য করে।
সঠিক সময়ে এবং সঠিক উপায়ে খেলে শীতকালেও শসা হতে পারে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার একটি নিরাপদ ও উপকারী অংশ।
তথ্যসূত্র: জিও বাংলা
এসি/আপ্র/১৫/০১/২০২৬



















