ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

  • আপডেট সময় : ০৪:১৮:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুসলিম আইনে পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ হলেও বাংলাদেশের বাস্তবতায় দীর্ঘদিন ধরে এটি সামাজিক ও আইনি বিতর্কের বিষয় ছিল। এতদিন প্রচলিত ধারণা ছিল, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না। তবে সম্প্রতি হাইকোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে এই ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

মুসলিম পারিবারিক আইন সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায়ে বলেছেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়। বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতেই দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। আদালতের মতে, মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি কোথাও স্ত্রীর অনুমতিকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

২৪ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার আইন অনুযায়ী আরবিট্রেশন কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত। ফলে কাউন্সিলের অনুমতি থাকলে স্ত্রীর সম্মতি না থাকলেও আইনগতভাবে দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ হবে না।

আইনি প্রেক্ষাপটে আদালত ব্যাখ্যা করেন, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ প্রণীত হলে নারীদের ক্ষেত্রে ওই কঠোর শাস্তি বহাল থাকলেও পুরুষদের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সে ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে এক বছর কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়।

হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন রিটকারীরা। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু বিবাহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন বলে জানান রিটকারীরা।

সমাজবিজ্ঞানীদের একটি অংশ মনে করছেন, আর্থিক সক্ষমতা বা সামাজিক প্রভাবের কারণে অনেক পুরুষ একাধিক বিয়ের সুযোগ অপব্যবহার করতে পারেন। এতে পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক বৈষম্য ও নারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আপিল বিভাগে এই মামলা গড়ালে তা আইন ও সমাজ—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেবে এবং ভবিষ্যতে মুসলিম পারিবারিক আইনের ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

ওআ/আপ্র/১১/০১/২০২৬

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

আপডেট সময় : ০৪:১৮:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুসলিম আইনে পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ হলেও বাংলাদেশের বাস্তবতায় দীর্ঘদিন ধরে এটি সামাজিক ও আইনি বিতর্কের বিষয় ছিল। এতদিন প্রচলিত ধারণা ছিল, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না। তবে সম্প্রতি হাইকোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে এই ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

মুসলিম পারিবারিক আইন সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায়ে বলেছেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়। বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতেই দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। আদালতের মতে, মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি কোথাও স্ত্রীর অনুমতিকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

২৪ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার আইন অনুযায়ী আরবিট্রেশন কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত। ফলে কাউন্সিলের অনুমতি থাকলে স্ত্রীর সম্মতি না থাকলেও আইনগতভাবে দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ হবে না।

আইনি প্রেক্ষাপটে আদালত ব্যাখ্যা করেন, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ প্রণীত হলে নারীদের ক্ষেত্রে ওই কঠোর শাস্তি বহাল থাকলেও পুরুষদের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সে ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে এক বছর কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়।

হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন রিটকারীরা। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু বিবাহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন বলে জানান রিটকারীরা।

সমাজবিজ্ঞানীদের একটি অংশ মনে করছেন, আর্থিক সক্ষমতা বা সামাজিক প্রভাবের কারণে অনেক পুরুষ একাধিক বিয়ের সুযোগ অপব্যবহার করতে পারেন। এতে পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক বৈষম্য ও নারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আপিল বিভাগে এই মামলা গড়ালে তা আইন ও সমাজ—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেবে এবং ভবিষ্যতে মুসলিম পারিবারিক আইনের ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

ওআ/আপ্র/১১/০১/২০২৬