নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত করা হয়েছে। দলটি বলেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বানচাল করার লক্ষ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত করছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি সভা শেষে এসব কথা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, ১১ জানুয়ারি থেকে তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা সফরের কর্মসূচি ছিল। জাতীয় নেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, ২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদসহ অন্য শহীদদের কবর জিয়ারত এবং কিছু পারিবারিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সফরটি নির্ধারিত হয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে সেই সফর স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা সবাই খুব ভালো করে জানেন যে দেশের যে নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সে নির্বাচনকে বিভিন্নভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ও বানচাল করার জন্য একটি মহল বিভিন্নভাবে চক্রান্ত করছে।’
নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক সহিংসতা ঘটানো হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, তারা ইতিমধ্যেই ওসমান হাদিকে (শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি) গুলি করে হত্যা করেছে। একইভাবে বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক দলের নেতাদের, বিশেষ করে বিএনপির কয়েকজন নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কয়েক দিন আগে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মুছাব্বিরকে (আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির) গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
এসব ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের সহিংসতা চলতে থাকলে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে না।
তাঁরা বারবার সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে হবে।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এই জরুরি বৈঠকে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন, দলীয় কর্মসূচি ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা বাড়লে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে, যা দেশের জন্য ইতিবাচক নয়।
সানা/আপ্র/১০/০১/২০২৬






















