ঢাকা ০৪:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

৩৫ জেলায় ছড়িয়েছে নিপাহ ভাইরাস, হাসপাতালকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ

  • আপডেট সময় : ০৩:৩২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪৯ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। গত বছর (২০২৫) দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সবার শরীরেই নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছিল। সর্বশেষ একজন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানায়, ২০২৪ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়। ওই বছর ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হন ৫ জন।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) আইইডিসিআরের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক এক সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক তাহমিনা শিরীন।

সভায় আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, প্রতিবছর শীতকালে বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের প্রকোপ দেখা যায়। এটি একটি অত্যন্ত মারাত্মক রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস। নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ৭২ শতাংশ রোগীর মৃত্যু ঘটে। দেশে সাধারণত শীতকালে কাঁচা খেজুরের রস পান করার মাধ্যমে মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এছাড়া প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, নিপাহ ভাইরাসের জন্য এখনও কার্যকর কোনো চিকিৎসা বা টিকা আবিষ্কৃত হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইইডিসিআর) সংক্রামক রোগ বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ও নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার বলেন, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত জেলার মধ্যে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি।

তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচা খেজুরের রস পান না করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে জনমত গঠনের লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাজমুল হোসেন।

নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়—

কাঁচা খেজুরের রস পান করা যাবে না।

আংশিক খাওয়া বা পোকায় কাটা ফল খাওয়া যাবে না।

ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে।

নিপাহ রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যেতে হবে।

আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

ওআ/আপ্র/০৭/০১/২০২৫

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

ইসির দাঁত আছে, মব দমনে কামড় দিতে হবে: জাপা মহাসচিব

৩৫ জেলায় ছড়িয়েছে নিপাহ ভাইরাস, হাসপাতালকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৩:৩২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। গত বছর (২০২৫) দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সবার শরীরেই নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছিল। সর্বশেষ একজন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানায়, ২০২৪ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়। ওই বছর ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হন ৫ জন।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) আইইডিসিআরের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক এক সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক তাহমিনা শিরীন।

সভায় আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, প্রতিবছর শীতকালে বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের প্রকোপ দেখা যায়। এটি একটি অত্যন্ত মারাত্মক রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস। নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ৭২ শতাংশ রোগীর মৃত্যু ঘটে। দেশে সাধারণত শীতকালে কাঁচা খেজুরের রস পান করার মাধ্যমে মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এছাড়া প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, নিপাহ ভাইরাসের জন্য এখনও কার্যকর কোনো চিকিৎসা বা টিকা আবিষ্কৃত হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইইডিসিআর) সংক্রামক রোগ বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ও নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার বলেন, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত জেলার মধ্যে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি।

তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচা খেজুরের রস পান না করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে জনমত গঠনের লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাজমুল হোসেন।

নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়—

কাঁচা খেজুরের রস পান করা যাবে না।

আংশিক খাওয়া বা পোকায় কাটা ফল খাওয়া যাবে না।

ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে।

নিপাহ রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যেতে হবে।

আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

ওআ/আপ্র/০৭/০১/২০২৫