আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নতুন বছরের সূচনালগ্নে উৎসবে মেতেছিল নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডাম। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নিল ভয়াবহ বিষাদে। শহরটির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত প্রায় ১৫০ বছরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক ভন্দেলপার্ক চার্চে লেগেছে বিধ্বংসী আগুন। উৎসবের আতশবাজি থেকে ছিটকে আসা ফুলকি থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুনের লেলিহান শিখা গির্জাটির বিশাল কাঠামোকে গ্রাস করে ফেলে। চোখের পলকেই ধসে পড়ে ভবনটির সুউচ্চ ঐতিহাসিক চূড়া এবং ছাদের বিশাল একাংশ। আগুনের তীব্রতা এতই ভয়াবহ ছিল যে, আশেপাশের এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করতে বাধ্য হয় স্থানীয় প্রশাসন। বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ভন্দেলপার্ক চার্চটি কেবল একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং আমস্টারডামের স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম নিদর্শন ছিল। আগুনের লেলিহান শিখায় এর শতাব্দী প্রাচীন কাঠের কাজ ও মূল্যবান শিল্পকর্ম ভস্মীভূত হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের ঐতিহাসিক স্থাপত্য রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে জাতীয় সাংস্কৃতিক ক্ষতি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। যদিও এই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
কেবল আমস্টারডামই নয়, নেদারল্যান্ডসের পার্শ্ববর্তী হিলেগম ও গ্রোনিনগেন শহর থেকেও আতশবাজির আগুনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। উৎসবের নামে এমন জীবন ও সম্পদহানির ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ ও প্রশাসন। পরিস্থিতি বিবেচনায় ডাচ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষায় চলতি বছর থেকেই দেশটিতে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আতশবাজি পোড়ানো নিষিদ্ধ করে কঠোর আইন জারির কথা ভাবা হচ্ছে।
ওআ/আপ্র/০১/০১/২০২৬






















