ঢাকা ১২:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

মুচমুচে খাবারে কেন আমাদের আসক্তি কাজ করে

  • আপডেট সময় : ১২:৩০:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • ২ বার পড়া হয়েছে

লাইফস্টাইল ডেস্ক: মুচমুচে খাবারের আকর্ষণ শুধু স্বাদে নয়-তার শব্দেও থাকে। ক্রাঞ্চি খাবারের এই শব্দ মস্তিষ্কের কাছে আনন্দের সংকেত পাঠায়।চকলেট ভাঙার আওয়াজ বা চিপসের প্যাকেটের কর্কশ শব্দ-এসব মিলেই তৈরি হয় এমন এক অনুভূতি, যা খাবার খেতে খুবই তৃপ্তিদায়ক লাগে।

গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের শব্দ আমাদের মনে খাবারটি সতেজ, আরো সুস্বাদু বলে ধারণা দেয়। তাই নরম খাবারের তুলনায় ক্রাঞ্চি খাবারের প্রতি আমাদের টান বেশি। আসলে, মুচমুচে খাবারই স্ন্যাকস শিল্পকে একটি মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।

খাবারের শব্দ আমাদের খাওয়ার অভিজ্ঞতা বদলে দেয়
খাওয়ার সময় সাধারণত স্বাদ ও গন্ধকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, কিন্তু শব্দও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মুচমুচে খাবারের ‘ক্রাঞ্চ’ মস্তিষ্ককে জানায়-এটি সতেজ। আর নরম বা কম শব্দ হলে মনে হয় খাবারটা হয়তো বাসি বা তেমন ভালো নয়। এই কারণেই খাবার একই স্বাদের হলেও ক্রাঞ্চি খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেশি থাকে।

ইটিং উইথ আওয়ার ইয়ারস শিরোনামের ফ্লেভার জার্নাল গবেষণায় দেখা গেছে, একই খাবারের ক্রাঞ্চ শব্দ জোরে বাজালে মানুষ তা বেশি সতেজ, মুচমুচে ও সুস্বাদু মনে করে। শব্দটি খাবারকে আরো উপভোগ্য করে, যা প্রমাণ করে শব্দও খাদ্যের গুণমান সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে প্রভাবিত করে।

প্রাচীনকালে মানুষ খাবারের সতেজতা বোঝার জন্য শব্দ, গন্ধ ও অনুভূতির উপর নির্ভর করত। সতেজ ফল, সবজি বা পোকামাকড় খেতে গেলে এক ধরনের ক্রাঞ্চ শব্দ হতো। সেই শব্দই ছিল নিরাপদ খাবারের সংকেত। আজও আমাদের মস্তিষ্ক সেই পুরোনো অভ্যাস বজায় রেখেছে। এ কারণে মুচমুচে খাবার খেলে মানসিকভাবে প্রশান্তি আসে, টেনশনও কমে।

বিশ্বের জনপ্রিয় ফুড ব্র্যান্ডগুলো জানে ক্রাঞ্চি খাবার মানুষের কাছে বেশি আকর্ষণীয়। তাই তারা বিজ্ঞাপনে এটিকে বড় করে তুলে ধরেন। ফুড ব্র্যান্ডগুলো ‘ক্রাঞ্চ’ তৈরিতে কোটি টাকা বিনিয়োগ করে। এমনকি প্যাকেটও শব্দ অনুযায়ী ডিজাইন করা হয়। এছাড়া ব্যাগ খোলার খসখস শব্দ, বেরিয়ে আসা সুগন্ধ, মসলার গন্ধ-সব মিলিয়ে এমন ভাবে তৈরি করা হয়, যাতে মানুষের খাওয়ার ইচ্ছা জাগে।

মুচমুচে খাবার এখন শুধু খাবার নয়-এটি এক ধরনের অনুভূতি। স্বাদ, গন্ধ, স্পর্শের মতোই শব্দও খাবারের গুণমান সম্পর্কে আমাদের মস্তিষ্ককে সংকেত দেয়। একাধিক গবেষণা প্রমাণ করেছে, খাওয়ার অভিজ্ঞতা একাধিক ইন্দ্রিয়ের সমন্বয়ে গঠিত। আর সেই কারণেই আমরা মুচমুচে খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হই।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

এসি/আপ্র/৩০/১১/২০২৫

 

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

মুচমুচে খাবারে কেন আমাদের আসক্তি কাজ করে

আপডেট সময় : ১২:৩০:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

লাইফস্টাইল ডেস্ক: মুচমুচে খাবারের আকর্ষণ শুধু স্বাদে নয়-তার শব্দেও থাকে। ক্রাঞ্চি খাবারের এই শব্দ মস্তিষ্কের কাছে আনন্দের সংকেত পাঠায়।চকলেট ভাঙার আওয়াজ বা চিপসের প্যাকেটের কর্কশ শব্দ-এসব মিলেই তৈরি হয় এমন এক অনুভূতি, যা খাবার খেতে খুবই তৃপ্তিদায়ক লাগে।

গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের শব্দ আমাদের মনে খাবারটি সতেজ, আরো সুস্বাদু বলে ধারণা দেয়। তাই নরম খাবারের তুলনায় ক্রাঞ্চি খাবারের প্রতি আমাদের টান বেশি। আসলে, মুচমুচে খাবারই স্ন্যাকস শিল্পকে একটি মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।

খাবারের শব্দ আমাদের খাওয়ার অভিজ্ঞতা বদলে দেয়
খাওয়ার সময় সাধারণত স্বাদ ও গন্ধকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, কিন্তু শব্দও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মুচমুচে খাবারের ‘ক্রাঞ্চ’ মস্তিষ্ককে জানায়-এটি সতেজ। আর নরম বা কম শব্দ হলে মনে হয় খাবারটা হয়তো বাসি বা তেমন ভালো নয়। এই কারণেই খাবার একই স্বাদের হলেও ক্রাঞ্চি খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেশি থাকে।

ইটিং উইথ আওয়ার ইয়ারস শিরোনামের ফ্লেভার জার্নাল গবেষণায় দেখা গেছে, একই খাবারের ক্রাঞ্চ শব্দ জোরে বাজালে মানুষ তা বেশি সতেজ, মুচমুচে ও সুস্বাদু মনে করে। শব্দটি খাবারকে আরো উপভোগ্য করে, যা প্রমাণ করে শব্দও খাদ্যের গুণমান সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে প্রভাবিত করে।

প্রাচীনকালে মানুষ খাবারের সতেজতা বোঝার জন্য শব্দ, গন্ধ ও অনুভূতির উপর নির্ভর করত। সতেজ ফল, সবজি বা পোকামাকড় খেতে গেলে এক ধরনের ক্রাঞ্চ শব্দ হতো। সেই শব্দই ছিল নিরাপদ খাবারের সংকেত। আজও আমাদের মস্তিষ্ক সেই পুরোনো অভ্যাস বজায় রেখেছে। এ কারণে মুচমুচে খাবার খেলে মানসিকভাবে প্রশান্তি আসে, টেনশনও কমে।

বিশ্বের জনপ্রিয় ফুড ব্র্যান্ডগুলো জানে ক্রাঞ্চি খাবার মানুষের কাছে বেশি আকর্ষণীয়। তাই তারা বিজ্ঞাপনে এটিকে বড় করে তুলে ধরেন। ফুড ব্র্যান্ডগুলো ‘ক্রাঞ্চ’ তৈরিতে কোটি টাকা বিনিয়োগ করে। এমনকি প্যাকেটও শব্দ অনুযায়ী ডিজাইন করা হয়। এছাড়া ব্যাগ খোলার খসখস শব্দ, বেরিয়ে আসা সুগন্ধ, মসলার গন্ধ-সব মিলিয়ে এমন ভাবে তৈরি করা হয়, যাতে মানুষের খাওয়ার ইচ্ছা জাগে।

মুচমুচে খাবার এখন শুধু খাবার নয়-এটি এক ধরনের অনুভূতি। স্বাদ, গন্ধ, স্পর্শের মতোই শব্দও খাবারের গুণমান সম্পর্কে আমাদের মস্তিষ্ককে সংকেত দেয়। একাধিক গবেষণা প্রমাণ করেছে, খাওয়ার অভিজ্ঞতা একাধিক ইন্দ্রিয়ের সমন্বয়ে গঠিত। আর সেই কারণেই আমরা মুচমুচে খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হই।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

এসি/আপ্র/৩০/১১/২০২৫