ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
স্বাস্থ্য প্রতিদিন====

প্রাকৃতিকভাবে কোলেস্টেরল কমানোর প্রামাণিক উপায়

  • আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৪২ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহীত

প্রত্যাশা ডেস্ক: উচ্চ কোলেস্টেরল একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা; যা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সরলভাবে বললে, কোলেস্টেরল হলো একটি মোমজাতীয় ও চর্বির মতো পদার্থ। তা আমাদের দেহে স্বাস্থ্যের জন্য অত্যাবশ্যক। এটি সেল তৈরি, হরমোন উৎপাদন এবং ভিটামিন ডি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল নানা স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এডিএল কোলেস্টেরল খারাপ হিসেবে পরিচিত এবং এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টেরল বাড়ানোর জন্য ঘি, বাদাম, অ্যাভোকাডো মতো ‘ভালো চবি’যুক্ত খাবার গ্রহণ করা জরুরি। ওষুধের পাশাপাশি কিছু প্রাকৃতিক উপায়ও কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে মনে রাখবেন, এগুলো ঔষধের বিকল্প নয়; বরং ওষুধের সঙ্গে সম্পূরক হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।

ধনে বীজ: ধনে বীজ রান্নায় ব্যবহৃত হয় এবং চিকিৎসায়তেও এর ব্যবহার আছে। গবেষণা দেখিয়েছে যে, ধনে বীজের পানি বা এক্সট্র্যাক্ট এডিএল কমাতে এবং এইচডিএল বাড়াতে সহায়তা করে। ধনে বীজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন রক্তে চর্বি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং হার্টকে সুরক্ষা দেয়। বীজ সরাসরি খাওয়া, গ্রেভিতে মিশিয়ে খাওয়া বা ভোরে ধনে বীজের পানি পান করাও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

ফ্ল্যাক্সসিড (আলসের বীজ): ফ্ল্যাক্সসিড হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। এতে ফাইবার এবং এএলএ নামে একটি ওমেগা‑৩ অ্যাসিড থাকে। ফাইবার এবং এএলএ মিলিতভাবে এডিএল কমাতে এবং হার্টের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। ফাইবার অন্ত্রে কোলেস্টেরল শোষণ ধীর করে এবং অখঅ প্রদাহ কমিয়ে রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করে। গবেষণা দেখিয়েছে, পিষে খাওয়া ফ্ল্যাক্সসিড বা ফ্ল্যাক্সসিড তেল এডিএল কমাতে সহায়তা করে। প্রতিদিন স্মুদি, সেরিয়াল বা বেকর্ড খাদ্যে ফ্ল্যাক্সসিড অন্তর্ভুক্ত করা একটি সহজ ও প্রাকৃতিক উপায়।

আঙুর বীজ এক্সট্র্যাক্ট: আঙুর বীজে থাকা পলিফেনল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে রক্তনালী সুরক্ষা করে। গবেষণা দেখিয়েছে, আঙুর বীজ এক্সট্র্যাক্ট কোলেস্টেরল এবং খউখ কমাতে পারে। এটি রক্তনালিকে শক্তিশালী রাখে এবং কোলেস্টেরল অক্সিডেশন কমিয়ে ধমনী ক্ষতি রোধ করে। যারা এই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেছেন, তাদের কোলেস্টেরল সংখ্যা কমে এবং হার্টের স্বাস্থ্য উন্নত হয়েছে।

গ্রিন টি (সবুজ চা): গ্রিন টিতে প্রচুর ক্যাটেচিন থাকে; যা এডিএল কমাতে এবং মোট কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। নিয়মিত গ্রিন টি পান কোলেস্টেরল সংখ্যা উন্নত করতে এবং হার্টের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন কয়েক কাপ চিনি ছাড়া গ্রিন টি পান করলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক সহায়তা পাওয়া যায়।

দারুচিনি: দারুচিনি শুধু স্বাদের জন্য নয়। এটি কোলেস্টেরলও কমাতে সাহায্য করে। বিভিন্ন গবেষণা দেখিয়েছে, দারুচিনি মোট কোলেস্টেরল, এডিএল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সক্ষম। অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মিলিয়ে দারচিনি এইচডিএল বাড়াতেও সহায়তা করে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ গ্রাম পর্যন্ত দারুচিনি গ্রহণ করা যেতে পারে।

হলুদ: হলুদ বা কুরকুমিন প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। গবেষকরা দীর্ঘ সময় ধরে কুরকুমিন নিয়ে গবেষণা করেছেন। কুরকুমিন লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং ধমনী ব্লক রোধে সহায়তা করে। প্রতিদিন হলুদ বা কুরকুমিন গ্রহণ করলে মোট এবং খউখ কোলেস্টেরল কমে। এটি দৈনন্দিন খাবারে, দুধ বা চায়ে মিশিয়ে গ্রহণ করা যায়। তবে সাপ্লিমেন্ট ডাক্তারি পরামর্শে গ্রহণ করা উচিত।

কাঁচা রসুন: ৩৯টি গবেষণা থেকে দেখা গেছে, প্রতিদিন দুই মাসের বেশি কাঁচা রসুন গ্রহণ মোট কোলেস্টেরল প্রায় ১৭ মিলিগ্রাম প্রতি ডেলি কমাতে এবং এডিএল প্রায় ৯ মিলিগ্রাম প্রতি ডেলি কমাতে সাহায্য করে। এটি হার্ট সমস্যা এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। রসুনকে সরাসরি খাবারে, চাটনি বা তড়কা হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কাঁচা রসুন খাওয়ার ক্ষেত্রে একটি রসুন কোয়া ক্রাশ করে কয়েক মিনিট রেখে খাওয়া উপকারী।

উপরের ওইসব প্রাকৃতিক উপায় কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। তবে যে কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা বা ওষুধের সঙ্গে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজকের প্রত্যাশা/কেএমএএ

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

স্বাস্থ্য প্রতিদিন====

প্রাকৃতিকভাবে কোলেস্টেরল কমানোর প্রামাণিক উপায়

আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

প্রত্যাশা ডেস্ক: উচ্চ কোলেস্টেরল একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা; যা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সরলভাবে বললে, কোলেস্টেরল হলো একটি মোমজাতীয় ও চর্বির মতো পদার্থ। তা আমাদের দেহে স্বাস্থ্যের জন্য অত্যাবশ্যক। এটি সেল তৈরি, হরমোন উৎপাদন এবং ভিটামিন ডি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল নানা স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এডিএল কোলেস্টেরল খারাপ হিসেবে পরিচিত এবং এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টেরল বাড়ানোর জন্য ঘি, বাদাম, অ্যাভোকাডো মতো ‘ভালো চবি’যুক্ত খাবার গ্রহণ করা জরুরি। ওষুধের পাশাপাশি কিছু প্রাকৃতিক উপায়ও কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে মনে রাখবেন, এগুলো ঔষধের বিকল্প নয়; বরং ওষুধের সঙ্গে সম্পূরক হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।

ধনে বীজ: ধনে বীজ রান্নায় ব্যবহৃত হয় এবং চিকিৎসায়তেও এর ব্যবহার আছে। গবেষণা দেখিয়েছে যে, ধনে বীজের পানি বা এক্সট্র্যাক্ট এডিএল কমাতে এবং এইচডিএল বাড়াতে সহায়তা করে। ধনে বীজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন রক্তে চর্বি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং হার্টকে সুরক্ষা দেয়। বীজ সরাসরি খাওয়া, গ্রেভিতে মিশিয়ে খাওয়া বা ভোরে ধনে বীজের পানি পান করাও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

ফ্ল্যাক্সসিড (আলসের বীজ): ফ্ল্যাক্সসিড হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। এতে ফাইবার এবং এএলএ নামে একটি ওমেগা‑৩ অ্যাসিড থাকে। ফাইবার এবং এএলএ মিলিতভাবে এডিএল কমাতে এবং হার্টের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। ফাইবার অন্ত্রে কোলেস্টেরল শোষণ ধীর করে এবং অখঅ প্রদাহ কমিয়ে রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করে। গবেষণা দেখিয়েছে, পিষে খাওয়া ফ্ল্যাক্সসিড বা ফ্ল্যাক্সসিড তেল এডিএল কমাতে সহায়তা করে। প্রতিদিন স্মুদি, সেরিয়াল বা বেকর্ড খাদ্যে ফ্ল্যাক্সসিড অন্তর্ভুক্ত করা একটি সহজ ও প্রাকৃতিক উপায়।

আঙুর বীজ এক্সট্র্যাক্ট: আঙুর বীজে থাকা পলিফেনল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে রক্তনালী সুরক্ষা করে। গবেষণা দেখিয়েছে, আঙুর বীজ এক্সট্র্যাক্ট কোলেস্টেরল এবং খউখ কমাতে পারে। এটি রক্তনালিকে শক্তিশালী রাখে এবং কোলেস্টেরল অক্সিডেশন কমিয়ে ধমনী ক্ষতি রোধ করে। যারা এই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেছেন, তাদের কোলেস্টেরল সংখ্যা কমে এবং হার্টের স্বাস্থ্য উন্নত হয়েছে।

গ্রিন টি (সবুজ চা): গ্রিন টিতে প্রচুর ক্যাটেচিন থাকে; যা এডিএল কমাতে এবং মোট কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। নিয়মিত গ্রিন টি পান কোলেস্টেরল সংখ্যা উন্নত করতে এবং হার্টের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন কয়েক কাপ চিনি ছাড়া গ্রিন টি পান করলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক সহায়তা পাওয়া যায়।

দারুচিনি: দারুচিনি শুধু স্বাদের জন্য নয়। এটি কোলেস্টেরলও কমাতে সাহায্য করে। বিভিন্ন গবেষণা দেখিয়েছে, দারুচিনি মোট কোলেস্টেরল, এডিএল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সক্ষম। অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মিলিয়ে দারচিনি এইচডিএল বাড়াতেও সহায়তা করে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ গ্রাম পর্যন্ত দারুচিনি গ্রহণ করা যেতে পারে।

হলুদ: হলুদ বা কুরকুমিন প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। গবেষকরা দীর্ঘ সময় ধরে কুরকুমিন নিয়ে গবেষণা করেছেন। কুরকুমিন লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং ধমনী ব্লক রোধে সহায়তা করে। প্রতিদিন হলুদ বা কুরকুমিন গ্রহণ করলে মোট এবং খউখ কোলেস্টেরল কমে। এটি দৈনন্দিন খাবারে, দুধ বা চায়ে মিশিয়ে গ্রহণ করা যায়। তবে সাপ্লিমেন্ট ডাক্তারি পরামর্শে গ্রহণ করা উচিত।

কাঁচা রসুন: ৩৯টি গবেষণা থেকে দেখা গেছে, প্রতিদিন দুই মাসের বেশি কাঁচা রসুন গ্রহণ মোট কোলেস্টেরল প্রায় ১৭ মিলিগ্রাম প্রতি ডেলি কমাতে এবং এডিএল প্রায় ৯ মিলিগ্রাম প্রতি ডেলি কমাতে সাহায্য করে। এটি হার্ট সমস্যা এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। রসুনকে সরাসরি খাবারে, চাটনি বা তড়কা হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কাঁচা রসুন খাওয়ার ক্ষেত্রে একটি রসুন কোয়া ক্রাশ করে কয়েক মিনিট রেখে খাওয়া উপকারী।

উপরের ওইসব প্রাকৃতিক উপায় কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। তবে যে কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা বা ওষুধের সঙ্গে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজকের প্রত্যাশা/কেএমএএ