ক্রীড়া ডেস্ক: নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। ৫০ ওভারে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ খেলবে বাংলাদেশ দল। ২ অক্টোবর কলম্বোয় পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু হবে তাদের। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস-অর্জন নেই। তবে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি জানিয়েছেন, ২০২৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপ স্মরণীয় করতে চান তাঁরা।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আইসিসির প্রকাশিত কলামে ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিজেদের লক্ষ্য ও প্রত্যাশা নিয়ে জ্যোতি বলেন-
আমরা এখন প্রস্তুতি নিচ্ছি আমাদের দ্বিতীয় আইসিসি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার জন্য। আমরা নিশ্চিত এটি হবে একটি দুর্দান্ত টুর্নামেন্ট। আমরা ভীষণ উচ্ছ্বসিত ও আশাবাদী, এবং চাই এবারের আসরটা আমাদের জন্য বিশেষভাবে অর্থবহ হোক।
তিন বছর আগে নিউজিল্যান্ডে আমাদের প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা ছিল দলের জন্য চোখ-খোলা এক উপলব্ধি।
গতবার আমরা ইতিহাস গড়েছিলাম— পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে আমাদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছিলাম। সেই ম্যাচ আমি কোনোদিন ভুলব না।
সেদিন দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছিলেন ফারজানা হক। সে এবারও দলে আছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হিসেবে ফারজানা আমাদের সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেমন গুরুত্বপূর্ণ শারমিন আক্তারও, সে ওপেনিং থেকে তিন নম্বরে নেমে নিজেকে প্রমাণ করেছে। পাকিস্তানে আইসিসি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দলের পক্ষে সর্বাধিক রান করেছিল শারমিন।
আমাদের সাফল্যের বড় অংশজুড়ে ছিল স্পিনারদের অবদান, আর আমি আশা করি ভারতে ও শ্রীলঙ্কাতেও তারা পাকিস্তানের মতোই সাফল্য দেখাবে।
নাহিদা আক্তার আমাদের শীর্ষ উইকেটশিকারি, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি উভয় ফরম্যাটেই। সে দলের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। নাহিদা ২০২২ বিশ্বকাপের স্কোয়াডের সাতজনের একজন, আর প্রত্যেকেই তাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবেন নতুনদের সঙ্গে—যারা এখনো ওয়ানডে বিশ্বকাপে দেশের হয়ে খেলার সম্মান পাননি।
বিশেষ আনন্দের বিষয় হলো, সানজিদা আক্তার মেঘলা এবার প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে। আগের বিশ্বকাপে সে ছিলেন রিজার্ভ।
দলে আরও নতুন মুখ আছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রুবাইয়া হায়দার, সে এখনো ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেকের অপেক্ষায়। দারুণ ব্যাপার হলো, তাঁর অভিষেক হয়তো বিশ্বকাপেই হতে পারে। পাশাপাশি সে আমার সঙ্গে উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্বেও থাকবে।
অভিজ্ঞ রিতু মনির সঙ্গে আমাদের রয়েছে একঝাঁক তরুণ অলরাউন্ডার—স্বর্ণা আক্তার, সুমাইয়া আক্তার আর রাবেয়া খান—যারা ভীষণ সম্ভাবনাময়।
সুমাইয়া ও নিশিতা আক্তার নিশি দুজনই এ বছরের শুরুতে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপ দলের অংশ ছিল। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই নিশিতা এক অসাধারণ প্রতিভা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছে।
আরেকজন আলোচিত নতুন মুখ মারুফা আক্তারও এবার ওয়ানডে বিশ্বকাপে অভিষেক করবে। এরই মধ্যে সে নজর কেড়েছে, আমি চাই সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখুক।
গত কয়েক মাস ধরে আমরা কঠোর পরিশ্রম করে প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করি এই অসাধারণ আসরে আমরা নিজেদের সেরা খেলাটা উপহার দিতে পারব। বাংলাদেশের মানুষ ও বিশ্বের নানা প্রান্তের সমর্থকদের কাছে আমাদের জন্য দোয়া কামনা করছি।
ওআ/আপ্র/১৯/০৯/২০২৫


























