আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিশরে টিনেজ টিকটকারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে পারিবারিক মূল্যবোধ নষ্ট করা থেকে শুরু করে অর্থ পাচারের মতো বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
কিশোর বয়সী যেসব টিকটক ব্যবহারকারীর লাখ লাখ অনুসারী রয়েছে, তারাই মূলত কর্তৃপক্ষের রোষের শিকার হচ্ছে। পুলিশের তরফ থেকে কয়েক ডজন গ্রেফতারের তথ্য দেওয়া হয়েছে এবং অন্তত ১০টি ঘটনায় অবৈধ অর্থোপার্জনের তদন্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৌঁসুলিরা। এছাড়া, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ ফ্রিজ করা এবং ডিভাইস জব্দের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
আটক হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন ১৯ বছর বয়সী মারিয়াম আয়মান, যিনি টিকটকে সুজি এল অর্ডোনিয়া নামে পরিচিত। তার প্রায় ৯৪ লাখ অনুসারী রয়েছেন। অশ্লীল কনটেন্ট প্রকাশ এবং তিন লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের অর্থ পাচারের অভিযোগে আগস্টের শুরুতে তাকে আটক করা হয়। সুজি তার শেষ ভিডিওতে বলেছিলেন, মিশরীয়রা শুধু টিকটকে থাকার কারণে গ্রেফতার হয় না। তার ধারণা, হতাশা প্রকাশ করতে কিছু ভিডিওতে তার শব্দচয়নের কারণে তিনি সরকারি রোষে পড়েছেন। তবে সেসব বক্তব্যে তরুণদের বিপথগামী করার উদ্দেশ্য ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, সুজির পোস্ট নিয়ে তাদের কাছে সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তার ভিত্তিতেই ওই কিশোরীকে আইনের আওতায় আনা হয়।
সুজির আইনজীবী মারওয়ান আল গিন্দি মামলার বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও জানিয়েছেন, অশ্লীলতা বিরোধী আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে। অশ্লীল কাজ ঠেকাতে একটি আইন রয়েছে, সেটা সত্য। তবে এটা প্রয়োগের জন্য নির্দিষ্ট বিধি এবং একটামাত্র প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে না গিয়ে সবার জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
আইনজীবীরা বলেছেন, অশ্লীলতার মাত্রা ও সংজ্ঞা নির্ধারণে অস্পষ্টতা রয়েছে। হয়ত কোনও টিকটকারের পুরো প্রোফাইল ঘেটে তিন বছর আগের এক ভিডিওতে কোনও একটা অশালীন শব্দ পাওয়া গেল, আর তার জেরে ওই ব্যক্তিকে অশ্লীলতা প্রচারের অভিযোগে তার আয়কে অবৈধ ঘোষণা করতে পারে কর্তৃপক্ষ।
সমালোচকরা বলছেন, মিসরে মানুষের মতপ্রকাশ ও চিন্তাধারা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই টিকটকারদের পেছনে পুলিশ লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত প্রথাগত সংবাদমাধ্যমে জনগণের আস্থা কমে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই সবার বিশ্বস্ততা অর্জন করেছে।
সরকারের তরফ থেকে কন্টেন্ট তৈরিতে নৈতিকতা অনুসরণের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে চলমান অভিযানের ফলে সৃজনশীলতার স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হুমকির মুখে পড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। একাধিক ঘটনায় জানা গেছে, অনেকে ফোনে থাকা ব্যক্তিগত কনটেন্টের কারণে আইনি হেনস্থার শিকার হচ্ছেন।
টিকটক দাবি করেছে, তারা নিজস্ব কমিউনিটি গাইডলাইন অনুযায়ী ভিডিও মডারেট করে এবং মিশরে গতকাল তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী ২৯ লাখ ভিডিও মুছে ফেলা হয়েছে।
এসি/আপ্র/৩০/০৮/২০২৫