প্রত্যাশা ডেস্ক: গোটা বিশ্বে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীর সংখ্যা ২০৫০ সাল নাগাদ ৩৮ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও।
সংস্থাটির বিশেষায়িত শাখা ‘ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার’ বা আইএআরসি-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এ রোগে প্রতি বছর মৃত্যুর হার ৬৮ শতাংশ বাড়বে।
বর্তমান স্তন ক্যান্সারের প্রবণতা ঠেকানো না গেলে এ রোগের সংক্রমণ বাড়তেই থাকবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এ গবেষণাপত্রটির ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার মেডিসিন’-এ।
গবেষকরা বলেছেন, স্তন ক্যান্সারের বর্তমান প্রবণতা এভাবেই চলতে থাকলে এ শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বে প্রতি বছর ৩২ লাখ নারী এ রোগে আক্রান্ত হবেন। পাশাপাশি ১১ লাখেরও বেশি নারীর মৃত্যু ঘটবে স্তন ক্যান্সারে।
ডব্লিউএইচও-এর গবেষণা বলছে, “নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই রোগের প্রবণতা বাড়বে। কারণ, এসব দেশে প্রাথমিক অবস্থায় স্তন ক্যান্সার শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ও যত্নের সুযোগ সীমিত পর্যায়ে রয়েছে।”
আইএআরসি’র বিজ্ঞানী ও এ গবেষণার সহ লেখক জোয়ানে কিম বলেছেন, “বিশ্বে প্রতি মিনিটে চারজন নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন ও একজন নারী এ রোগে মারা যাচ্ছেন।”
কিম আরও বলেছেন, বিশ্বজুড়ে নারীদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ক্যান্সার হচ্ছে স্তন ক্যান্সার এবং সার্বিকভাবে দ্বিতীয়।
কেবল ২০২২ সালেই আনুমানিক ২৩ লাখ নতুন নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। যার মধ্যে ৬ লাখ ৭০ হাজার নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ডব্লিউএইচও।
অঞ্চলভেদে ব্যাপকহারে নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের বৈষম্য তুলে ধরা হয়েছে গবেষণায়।
অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, উত্তর আমেরিকা ও উত্তর ইউরোপে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীদের সংখ্যা সর্বোচ্চ রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে এ রোগে আক্রান্তের হার কম দক্ষিণ-মধ্য এশিয়া ও আফ্রিকার কিছু অংশে।
এদিকে, স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর হার সবোর্চ্চ মেলানেশিয়া, পলিনেশিয়া ও পশ্চিম আফ্রিকায়, যেখানে স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত সুযোগের কারণে এ রোগে নারীদের মৃত্যু ঘটছে বেশি।
স্তন ক্যান্সারে নারীদের বেঁচে থাকা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে যে স্পষ্ট সংযোগ রয়েছে তা ফুটে উঠেছে গবেষণায়।
উচ্চ আয়ের বিভিন্ন দেশে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীদের ৮৩ শতাংশ বেঁচে থাকেন। তবে নিম্ন আয়ের বিভিন্ন দেশে এ চিত্রটি একেবারেই ভিন্ন। এসব দেশে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত অর্ধেকেরও বেশি নারী এ রোগে মারা যান।
ডব্লিউএইচও ২০২১ সালে ‘গ্লোবাল ব্রেস্ট ক্যান্সার ইনিশিয়েটিভ’ চালু করে, যার লক্ষ্য প্রতি বছর স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর হার ২.৫ শতাংশ কমানো। এ উদ্যোগে ২০৪০ সালের মধ্যে ২৫ লাখ নারীর মৃত্যু ঠেকানো যেতে পারে।
এ উদ্যোগে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে নারীদের প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার শনাক্ত করা, সময়মত রোগ নির্ণয় ও মানসম্পন্ন চিকিৎসার সুযোগের ওপর।
আইএআরসি’র ক্যান্সার নজরদারি শাখার উপ-প্রধান ইসাবেল সোয়েরজোমাতারাম নিম্নআয়ের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও উন্নত নীতি চালানোর জন্য উচ্চমানের ক্যান্সার ডেটার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে অব্যাহত অগ্রগতি ও চিকিৎসার উন্নত সুযোগ অপরিহার্য। এগুলো স্তন ক্যান্সারের বৈশ্বিক ব্যবধান ঠেকাতে সাহায্য করবে এবং বিশ্বজুড়ে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
এ গবেষণায় শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং ও চিকিৎসার জন্য তহবিল বাড়াতে এবং ব্যয়-কার্যকর প্রতিরোধ নীতি গ্রহণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন গবেষকরা।