ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মোংলা বন্দরের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

  • আপডেট সময় : ০৬:৫৬:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক: বাগেরহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মোংলা বন্দরের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে রোববার (১ ডিসেম্বর) সকালে বন্দর কর্তৃপক্ষের পৌনে ১০টায় মোংলাবন্দর কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তরের সামনে থেকে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমানের নেতৃত্বে শোভাযাত্রা বের করা হয়। বন্দর সড়ক ঘুরে শোভাযাত্রাটি জেটির প্রধান ফটকে এসে শেষ হয়। সেখানে বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বন্দর চেয়ারম্যান। পরে বন্দর জেটির স্টাফিং অ্যান্ড আনস্টাফিং শেডে আলোচনা সভা ও সেরা বন্দর ব্যবহারকারীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান। এ সময় বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ কিবরিয়া হক, সদস্য (অর্থ) (যুগ্মসচিব), কাজী আবেদ হোসেন, সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) (যুগ্মসচিব) ড. এ কে এম আনিসুর রহমান, পরিচালক (বোর্ড) যুগ্ম সচিব কালাচাঁদ সিংহ, পরিচালক (প্রশাসন) উপসচিব মো. নুরুজ্জামান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান, বাগেরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. তৌহিদুল আরিফ বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এদিন বন্দরে সেরা কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবসায়িক শাখা টগি শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকস লিমিটেড (টিএসএলএল) ও বসুন্ধরা মাল্টি ট্রেডিং লিমিটেডকে সম্মাননা দিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন টগি শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকস লিমিটেডের হেড অব শিপ অপারেশন অ্যান্ড এজেন্সি, ক্যাপ্টেন মো. মাহবুবুল আলম।
এছাড়া সেরা কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বন্দরের সব বিভাগ থেকে ৩২ জন কর্মকরতা-কর্মচারীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া দিনটি উপলক্ষে শনিবার (৩০ নভেম্বর) দিনগত রাত ১২টা ০১ মিনিটে বন্দরে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি সব জাহাজে এক মিনিট বিরতিহীন হুইসেল বাজানো হয়। ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর খুলনার চালনা এলাকায় চালনা পোর্ট নামে এ বন্দর স্থাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠার মাত্র তিন বছর পরে ভৌগোলিক কারণে ১৯৫৩ সালে কার্যক্রম স্থানান্তরিত হয় বাগেরহাটের মোংলায়। ১৯৮৭ সালের পোর্ট অব চালনা অথরিটি অ্যাক্ট অনুসারে প্রথমে চালনা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং পরবর্তীতে মোংলা পোর্ট অথরিটি নামে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশি জাহাজ চলাচলের সুবিধার জন্য বন্দর চ্যানেল ৬৯টি নেভিগেশন বয়া স্থাপন করা হয়েছে। জেটি, মুরিং বয়া এবং অ্যাঙ্কোরেজে একই সঙ্গে ৪৭টি জাহাজ নোঙরের সুবিধা রয়েছে এ বন্দরে। এছাড়াও আমদানি-রপ্তানিকারকদের জন্য ট্রানজিট শেড, ওয়্যার হাউজ, কনটেইনার ইয়ার্ড, হিমায়িত খাদ্য সংরক্ষণের জন্য ১৬১টি রিফার প্লাগ পয়েন্ট, কার পার্কিং ইয়ার্ড, ১৩৬টি আধুনিক হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি, টাগবোটসহ ৩২টি সহায়ক জলযানের সুবিধা বিদ্যমান। তিনি আরও বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আরও চারটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। পশুর চ্যানেলের ইনার বারে ড্রেজিং প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরে জেটি পর্যন্ত ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের সুবিধা সৃষ্টি হবে। মোংলা বন্দরের আধুনিক বর্জ্য ও নিসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা, সহায়ক জলযান সংগ্রহ, নিরাপদ চ্যানেল বিনির্মাণ, সমুদ্রগামী জাহাজ সুষ্ঠুভাবে হ্যান্ডলিং এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জরুরি উদ্ধার কার্য পরিচালনাসহ নানা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা ও ব্যবস্থা বাড়বে।
মোংলা বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মোংলা বন্দরের উন্নয়ন ও ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে মোংলা বন্দরের কার্যক্ষমতা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। ফলে ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ আগমনের ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ, কার্গো ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ, কনটেইনার ১৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং গাড়ির ক্ষেত্রে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বর্তমান অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ২৯ লাখ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়েছে। এছাড়া আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহের ফলে প্রথমবারের মতো প্রতি ঘণ্টায় ২৪টিরও বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হচ্ছে এবং জেটির সম্মুখে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের ফলে নাব্যতা বিরাজমান থাকার কারণে পাঁচটি জেটিতে একই সঙ্গে পাঁচটি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হচ্ছে। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল আর ভুটানের ট্রানজিট পণ্য মোংলা বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানির সুসম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। মোংলা বন্দর ব্যবহার করে স্থল, নৌ আর রেলপথের মাধ্যমে রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের পণ্য পরিবহনকে দ্রুততর ও সহজ করবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণপ্রবাহ এ বন্দরটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বর্তমানে খাদ্যশস্য, সিমেন্ট ক্লিংকার, সার, মোটর গাড়ি, মেশিনারিজ, চাল, গম, কয়লা, তেল, পাথর, ভুট্টা, তেলবীজ, এলপিজি গ্যাস আমদানি এবং সাদামাছ, চিংড়ি, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, হিমায়িত খাদ্য, কাঁকড়া, ক্লে টাইলস, রেশমি কাপড় ও জেনারেল কার্গো রপ্তানির মাধ্যমে দেশের চলমান অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছে বলে দাবি বন্দর কর্তৃপক্ষের।

 

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোংলা বন্দরের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

আপডেট সময় : ০৬:৫৬:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৪

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক: বাগেরহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মোংলা বন্দরের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে রোববার (১ ডিসেম্বর) সকালে বন্দর কর্তৃপক্ষের পৌনে ১০টায় মোংলাবন্দর কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তরের সামনে থেকে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমানের নেতৃত্বে শোভাযাত্রা বের করা হয়। বন্দর সড়ক ঘুরে শোভাযাত্রাটি জেটির প্রধান ফটকে এসে শেষ হয়। সেখানে বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বন্দর চেয়ারম্যান। পরে বন্দর জেটির স্টাফিং অ্যান্ড আনস্টাফিং শেডে আলোচনা সভা ও সেরা বন্দর ব্যবহারকারীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান। এ সময় বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ কিবরিয়া হক, সদস্য (অর্থ) (যুগ্মসচিব), কাজী আবেদ হোসেন, সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) (যুগ্মসচিব) ড. এ কে এম আনিসুর রহমান, পরিচালক (বোর্ড) যুগ্ম সচিব কালাচাঁদ সিংহ, পরিচালক (প্রশাসন) উপসচিব মো. নুরুজ্জামান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান, বাগেরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. তৌহিদুল আরিফ বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এদিন বন্দরে সেরা কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবসায়িক শাখা টগি শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকস লিমিটেড (টিএসএলএল) ও বসুন্ধরা মাল্টি ট্রেডিং লিমিটেডকে সম্মাননা দিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন টগি শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকস লিমিটেডের হেড অব শিপ অপারেশন অ্যান্ড এজেন্সি, ক্যাপ্টেন মো. মাহবুবুল আলম।
এছাড়া সেরা কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বন্দরের সব বিভাগ থেকে ৩২ জন কর্মকরতা-কর্মচারীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া দিনটি উপলক্ষে শনিবার (৩০ নভেম্বর) দিনগত রাত ১২টা ০১ মিনিটে বন্দরে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি সব জাহাজে এক মিনিট বিরতিহীন হুইসেল বাজানো হয়। ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর খুলনার চালনা এলাকায় চালনা পোর্ট নামে এ বন্দর স্থাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠার মাত্র তিন বছর পরে ভৌগোলিক কারণে ১৯৫৩ সালে কার্যক্রম স্থানান্তরিত হয় বাগেরহাটের মোংলায়। ১৯৮৭ সালের পোর্ট অব চালনা অথরিটি অ্যাক্ট অনুসারে প্রথমে চালনা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং পরবর্তীতে মোংলা পোর্ট অথরিটি নামে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশি জাহাজ চলাচলের সুবিধার জন্য বন্দর চ্যানেল ৬৯টি নেভিগেশন বয়া স্থাপন করা হয়েছে। জেটি, মুরিং বয়া এবং অ্যাঙ্কোরেজে একই সঙ্গে ৪৭টি জাহাজ নোঙরের সুবিধা রয়েছে এ বন্দরে। এছাড়াও আমদানি-রপ্তানিকারকদের জন্য ট্রানজিট শেড, ওয়্যার হাউজ, কনটেইনার ইয়ার্ড, হিমায়িত খাদ্য সংরক্ষণের জন্য ১৬১টি রিফার প্লাগ পয়েন্ট, কার পার্কিং ইয়ার্ড, ১৩৬টি আধুনিক হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি, টাগবোটসহ ৩২টি সহায়ক জলযানের সুবিধা বিদ্যমান। তিনি আরও বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আরও চারটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। পশুর চ্যানেলের ইনার বারে ড্রেজিং প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরে জেটি পর্যন্ত ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের সুবিধা সৃষ্টি হবে। মোংলা বন্দরের আধুনিক বর্জ্য ও নিসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা, সহায়ক জলযান সংগ্রহ, নিরাপদ চ্যানেল বিনির্মাণ, সমুদ্রগামী জাহাজ সুষ্ঠুভাবে হ্যান্ডলিং এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জরুরি উদ্ধার কার্য পরিচালনাসহ নানা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা ও ব্যবস্থা বাড়বে।
মোংলা বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মোংলা বন্দরের উন্নয়ন ও ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে মোংলা বন্দরের কার্যক্ষমতা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। ফলে ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ আগমনের ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ, কার্গো ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ, কনটেইনার ১৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং গাড়ির ক্ষেত্রে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বর্তমান অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ২৯ লাখ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়েছে। এছাড়া আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহের ফলে প্রথমবারের মতো প্রতি ঘণ্টায় ২৪টিরও বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হচ্ছে এবং জেটির সম্মুখে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের ফলে নাব্যতা বিরাজমান থাকার কারণে পাঁচটি জেটিতে একই সঙ্গে পাঁচটি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হচ্ছে। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল আর ভুটানের ট্রানজিট পণ্য মোংলা বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানির সুসম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। মোংলা বন্দর ব্যবহার করে স্থল, নৌ আর রেলপথের মাধ্যমে রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের পণ্য পরিবহনকে দ্রুততর ও সহজ করবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণপ্রবাহ এ বন্দরটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বর্তমানে খাদ্যশস্য, সিমেন্ট ক্লিংকার, সার, মোটর গাড়ি, মেশিনারিজ, চাল, গম, কয়লা, তেল, পাথর, ভুট্টা, তেলবীজ, এলপিজি গ্যাস আমদানি এবং সাদামাছ, চিংড়ি, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, হিমায়িত খাদ্য, কাঁকড়া, ক্লে টাইলস, রেশমি কাপড় ও জেনারেল কার্গো রপ্তানির মাধ্যমে দেশের চলমান অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছে বলে দাবি বন্দর কর্তৃপক্ষের।