ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

সরকারের পতন ছাড়া ঘরে ফিরবেন না তিন জোটের নেতারা

  • আপডেট সময় : ০২:৫১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০২৩
  • ১৫৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারের পতন ছাড়া বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা ঘরে ফিরে যাবেন না বলে জানিয়েছেন বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত তিন জোটের নেতারা। তারা মনে করেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু হওয়ার নয়।
গতকাল মঙ্গলবার সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের প্রথম যুগপৎ কর্মসূচিতে ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও গণফোরাম-পিপলস পার্টির নেতারা এসব কথা বলেন। কাকরাইলে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে পদযাত্রা শুরু করে ১২ দলীয় জোট। পদযাত্রাটি শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদার পরিচালনায় পদযাত্রায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির (একাংশের) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক। আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব সাবেক সংসদ সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ রওনক ইব্রাহিম ও চাষী এনামুল হক, যুগ্ম মহাসচিব তমিজ উদ্দিন টিটু, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র যুব মহাসচিব আব্দুল মালিক চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি জাকির হোসেন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সিনিয়র সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন প্রধান, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল করিম, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির মহাসচিব অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম, জাস্টিস পার্টির চেয়ারম্যান জাবেদ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনসহ ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংক সংলগ্ন আল রাজি কমপ্লেক্সের সামনে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট পদযাত্রাপূর্ব এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। ওই সমাবেশে সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, ‘এই সরকারের অধীনে কখনও অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। যার সর্বশেষ প্রমাণ ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচন। এছাড়া ২০১৪ সালে বিনা ভোটে এবং ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে ডাকাতি করে তারা ক্ষমতায় এসেছে। তাই জনগণ এই সরকারের অধীনে আর কোনও নির্বাচন হতে দেবে না।’
এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান ও এসএম শাহাদাত, গণদলের এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাপের এমএন শাওন সাদেকী ও ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বারিক, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার ম-ল, বিকল্পধারার শাহ আহমেদ বাদল, এনপিপির নবী চৌধুরী প্রমুখ। সমাবেশ শেষে দুপুর দেড়টার দিকে ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নেতৃত্বে পদযাত্রা শুরু করে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট। যুপগৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে মতিঝিলে পদযাত্রা করেছে গণফোরাম ও পিপলস পার্টি। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা পদযাত্রার আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বাম ঐক্যর পদযাত্রা: বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে পদযাত্রা করেছে গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য। তাদের এ পদযাত্রা প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মৎস্য ভবন প্রদক্ষিণ করে শাহবাগের দিকে যায়।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করে গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সদস্যরা। পদযাত্রায় সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য সংগঠনের আহ্বায়ক ও সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শামসুল আলম। ডা. শামসুল আলম বলেন, বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণকারী বর্তমান ফ্যাসিবাদী, কর্তৃত্ববাদী অবৈধ সরকারের পদত্যাগ ও বিদ্যমান অবৈধ সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে তার অধীনে অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, সকল রাজবন্দির মুক্তি, মিথ্যা-গায়েবি মামলা প্রত্যাহার, ফরমায়েশি সাজা বাতিল এবং সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ১ দফা দাবিতে রাজপথে সক্রিয় বিরোধী রাজনৈতিক জোট ও দলসমূহ যুগপৎ ধারায় ঐক্যবদ্ধ বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তুলবে। জনগণ রাজপথ থেকে খালি হাতে ফিরে যাবে না। তাই এখনও সময় আছে, জনগণের ভাষা বুঝুন। জনগণের ভাষা না বুঝলে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আপনাদের বিদায় হবে। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড হারুন চৌধুরী, সোশ্যাল ডেমোক্রেসি পার্টির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল এর মহাসচিব হারুন আল রশীদ খান প্রমুখ।

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

সরকারের পতন ছাড়া ঘরে ফিরবেন না তিন জোটের নেতারা

আপডেট সময় : ০২:৫১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারের পতন ছাড়া বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা ঘরে ফিরে যাবেন না বলে জানিয়েছেন বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত তিন জোটের নেতারা। তারা মনে করেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু হওয়ার নয়।
গতকাল মঙ্গলবার সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের প্রথম যুগপৎ কর্মসূচিতে ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও গণফোরাম-পিপলস পার্টির নেতারা এসব কথা বলেন। কাকরাইলে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে পদযাত্রা শুরু করে ১২ দলীয় জোট। পদযাত্রাটি শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদার পরিচালনায় পদযাত্রায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির (একাংশের) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক। আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব সাবেক সংসদ সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ রওনক ইব্রাহিম ও চাষী এনামুল হক, যুগ্ম মহাসচিব তমিজ উদ্দিন টিটু, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র যুব মহাসচিব আব্দুল মালিক চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি জাকির হোসেন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সিনিয়র সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন প্রধান, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল করিম, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির মহাসচিব অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম, জাস্টিস পার্টির চেয়ারম্যান জাবেদ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনসহ ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংক সংলগ্ন আল রাজি কমপ্লেক্সের সামনে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট পদযাত্রাপূর্ব এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। ওই সমাবেশে সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, ‘এই সরকারের অধীনে কখনও অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। যার সর্বশেষ প্রমাণ ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচন। এছাড়া ২০১৪ সালে বিনা ভোটে এবং ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে ডাকাতি করে তারা ক্ষমতায় এসেছে। তাই জনগণ এই সরকারের অধীনে আর কোনও নির্বাচন হতে দেবে না।’
এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান ও এসএম শাহাদাত, গণদলের এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাপের এমএন শাওন সাদেকী ও ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বারিক, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার ম-ল, বিকল্পধারার শাহ আহমেদ বাদল, এনপিপির নবী চৌধুরী প্রমুখ। সমাবেশ শেষে দুপুর দেড়টার দিকে ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নেতৃত্বে পদযাত্রা শুরু করে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট। যুপগৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে মতিঝিলে পদযাত্রা করেছে গণফোরাম ও পিপলস পার্টি। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা পদযাত্রার আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বাম ঐক্যর পদযাত্রা: বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে পদযাত্রা করেছে গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য। তাদের এ পদযাত্রা প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মৎস্য ভবন প্রদক্ষিণ করে শাহবাগের দিকে যায়।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করে গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সদস্যরা। পদযাত্রায় সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য সংগঠনের আহ্বায়ক ও সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শামসুল আলম। ডা. শামসুল আলম বলেন, বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণকারী বর্তমান ফ্যাসিবাদী, কর্তৃত্ববাদী অবৈধ সরকারের পদত্যাগ ও বিদ্যমান অবৈধ সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে তার অধীনে অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, সকল রাজবন্দির মুক্তি, মিথ্যা-গায়েবি মামলা প্রত্যাহার, ফরমায়েশি সাজা বাতিল এবং সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ১ দফা দাবিতে রাজপথে সক্রিয় বিরোধী রাজনৈতিক জোট ও দলসমূহ যুগপৎ ধারায় ঐক্যবদ্ধ বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তুলবে। জনগণ রাজপথ থেকে খালি হাতে ফিরে যাবে না। তাই এখনও সময় আছে, জনগণের ভাষা বুঝুন। জনগণের ভাষা না বুঝলে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আপনাদের বিদায় হবে। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড হারুন চৌধুরী, সোশ্যাল ডেমোক্রেসি পার্টির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল এর মহাসচিব হারুন আল রশীদ খান প্রমুখ।