ঢাকা ১০:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত চলনবিলের শ্রমিকরা

  • আপডেট সময় : ১২:৪২:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ নভেম্বর ২০২২
  • ২২৩ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা: দেশের উত্তরাঞ্চলের মৎস্য ভা-ার খ্যাত চলনবিলে শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের তিন শতাধিক শুঁটকি চাতালে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর, নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বির্স্তীণ এলাকার বিভিন্ন স্থানে শুঁটকি উৎপাদনে চাতাল তৈরি করেছেন ব্যবসায়ীরা। সরজমিনে দেখা যায়, দেশীয় প্রজাতির টেংরা, পুঁটি, খলসে, বাতাসি, চেলা, মলা, টাকি, বাইম, শোল, গুতম, বোয়াল, গজার, মাগুর, শিং, নন্দই, বেলেসহ নানা প্রজাতির সুস্বাদু মাছের শুঁটকি করা হচ্ছে। শুঁটকি উৎপাদনের সময় সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। এসময় শুঁটকি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন মাছের আড়তের আশপাশে চাতাল তৈরি করে এসব শুঁটকি উৎপাদন করেন। প্রতি চাতালে ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। এদের মধ্যে অবশ্য সংখ্যায় নারী শ্রমিক বেশি। এসব চাতালে তৈরি শুঁটকি এলাকার চাহিদা মেটানোর পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। প্রতিমণ কাঁচা মাছ সাত হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা দরে কেনা হয়। পরে প্রতি ৩ কেজি কাঁচা মাছ থেকে ১ কেজি শুঁটকি তৈরি করা হয়। এসব শুঁটকি মাছ প্রকারভেদে ২ হাজার টাকা থেকে ১৬ হাজার টাকা মণ দরে পাইকারি বিক্রি করেন তারা। শুঁটকি ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে চলনবিলে প্রচুর পরিমাণে মাছ ধরা পরে। সকালে কিংবা বিকেলে এসব মাছ স্থানীয় আড়ত থেকে কিনে আনেন তারা। পরে চাতালে নিয়ে শুঁকিয়ে শুঁটকি করেন। তবে শহরাঞ্চলে এর দাম একটু বেশি। চলনবিলে শুঁটকি তৈরি শুরু হলেও তা বাজারজাত করতে আরও মাসখানেক সময় লাগে। তারা শুঁটকি তৈরি করে প্যাকেট জাতও করেন। তারপর শুস্ক মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে থাকেন। আবার কেউ কেউ চাতালে তৈরি শুঁটকি মাছগুলো ১০-১৫ দিনের ব্যবধানে চাতাল থেকেই পাইকারদের নিকট বিক্রি করে দেন। তাড়াশ উপজেলার মান্নানগর এলাকার শামছুল আলমসহ কয়েক জেলে জানান, শুকনো মৌসুমে তারা ক্ষেতে-খামারে মজুর খেটে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে বর্ষা মৌসুমে কাজ না থাকায় রাতভর খড়া জাল দিয়ে চলনবিল থেকে মাছ শিকার করেন। অনেকে মাছ শিকারের পর আড়তে বিক্রি করেন। আবার কেউ কেউ মাছগুলো শুঁটকি বানিয়ে চাতালে বিক্রি করেন। তাড়াশ উপজেলা মৎস্য অফিসার মশগুল আজাদের সাথে কথা হলে তিনি জানান, শুধু গতবছরে তাড়াশ উপজেলাতেই ৯৫ মেট্রিকটন শুঁটকি উৎপাদন হয়। এবছর বিলে যেহেতু পানি বেশি আছে সেহেতু শুঁটকির উৎপাদন গত বছরের চেয়ে বেশি হবে বলে আশা করছি।

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত চলনবিলের শ্রমিকরা

আপডেট সময় : ১২:৪২:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ নভেম্বর ২০২২

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা: দেশের উত্তরাঞ্চলের মৎস্য ভা-ার খ্যাত চলনবিলে শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের তিন শতাধিক শুঁটকি চাতালে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর, নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বির্স্তীণ এলাকার বিভিন্ন স্থানে শুঁটকি উৎপাদনে চাতাল তৈরি করেছেন ব্যবসায়ীরা। সরজমিনে দেখা যায়, দেশীয় প্রজাতির টেংরা, পুঁটি, খলসে, বাতাসি, চেলা, মলা, টাকি, বাইম, শোল, গুতম, বোয়াল, গজার, মাগুর, শিং, নন্দই, বেলেসহ নানা প্রজাতির সুস্বাদু মাছের শুঁটকি করা হচ্ছে। শুঁটকি উৎপাদনের সময় সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। এসময় শুঁটকি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন মাছের আড়তের আশপাশে চাতাল তৈরি করে এসব শুঁটকি উৎপাদন করেন। প্রতি চাতালে ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। এদের মধ্যে অবশ্য সংখ্যায় নারী শ্রমিক বেশি। এসব চাতালে তৈরি শুঁটকি এলাকার চাহিদা মেটানোর পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। প্রতিমণ কাঁচা মাছ সাত হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা দরে কেনা হয়। পরে প্রতি ৩ কেজি কাঁচা মাছ থেকে ১ কেজি শুঁটকি তৈরি করা হয়। এসব শুঁটকি মাছ প্রকারভেদে ২ হাজার টাকা থেকে ১৬ হাজার টাকা মণ দরে পাইকারি বিক্রি করেন তারা। শুঁটকি ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে চলনবিলে প্রচুর পরিমাণে মাছ ধরা পরে। সকালে কিংবা বিকেলে এসব মাছ স্থানীয় আড়ত থেকে কিনে আনেন তারা। পরে চাতালে নিয়ে শুঁকিয়ে শুঁটকি করেন। তবে শহরাঞ্চলে এর দাম একটু বেশি। চলনবিলে শুঁটকি তৈরি শুরু হলেও তা বাজারজাত করতে আরও মাসখানেক সময় লাগে। তারা শুঁটকি তৈরি করে প্যাকেট জাতও করেন। তারপর শুস্ক মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে থাকেন। আবার কেউ কেউ চাতালে তৈরি শুঁটকি মাছগুলো ১০-১৫ দিনের ব্যবধানে চাতাল থেকেই পাইকারদের নিকট বিক্রি করে দেন। তাড়াশ উপজেলার মান্নানগর এলাকার শামছুল আলমসহ কয়েক জেলে জানান, শুকনো মৌসুমে তারা ক্ষেতে-খামারে মজুর খেটে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে বর্ষা মৌসুমে কাজ না থাকায় রাতভর খড়া জাল দিয়ে চলনবিল থেকে মাছ শিকার করেন। অনেকে মাছ শিকারের পর আড়তে বিক্রি করেন। আবার কেউ কেউ মাছগুলো শুঁটকি বানিয়ে চাতালে বিক্রি করেন। তাড়াশ উপজেলা মৎস্য অফিসার মশগুল আজাদের সাথে কথা হলে তিনি জানান, শুধু গতবছরে তাড়াশ উপজেলাতেই ৯৫ মেট্রিকটন শুঁটকি উৎপাদন হয়। এবছর বিলে যেহেতু পানি বেশি আছে সেহেতু শুঁটকির উৎপাদন গত বছরের চেয়ে বেশি হবে বলে আশা করছি।