ঢাকা ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীতে জমে উঠছে শীতবস্ত্রের পসরা, বিক্রি বেশি ফুটপাতে

  • আপডেট সময় : ০১:২০:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২২
  • ১৪৮ বার পড়া হয়েছে

বাণিজ্য ডেস্ক :রাজধানীতে শীত এখনও আসেনি বললেই চলে। তবে শীত না এলেও শীতের কাপড় বিক্রির প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এখন ফুটপাতে আগে থেকেই শীতবস্ত্রের পসরা সাজিয়ে বসতে শুরু করেছেন তারা। এরই মধ্য বিক্রিও শুরু হয়ে গেছে। মঙ্গলবার ও বুধবার (১৫ ও ১৬ নভেম্বর) সরেজমিন ঢাকার মিরপুর, পল্টন, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এই চিত্র চোখে পড়েছে। মিরপুরের কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, প্রত্যেক দোকানেই দেশি এবং চায়না জ্যাকেট সাজিয়ে রেখেছে। তবে ক্রেতা ছিল কম। দোকানগুলোতে জিন্সের জ্যাকেট ১২০০ টাকা, প্যাটিন (লেদার) জ্যাকেট ১৬০০ টাকা ও এক্সপোর্টের জ্যাকেট ২৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর চায়না জ্যাকেট বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে ২২০০ টাকার। এছাড়াও নারীদের শীতের পোশাক ৭০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রিপন নামে এক দোকানি বলেন, ‘এবার শীতকে টার্গেট করে প্রায় ছয় লাখ টাকার কাপড় উঠিয়েছি। এখন একটা দুইটা করে জ্যাকেট বিক্রি হয়। আশা করছি সামনের মাস থেকেই বিক্রি বাড়বে।’ আরেক দোকানি শাওন ডিসেম্বরে বিক্রি বাড়ার প্রত্যাশা রেখে বলেন, ‘এক মাস আগে থেকেই মাল উঠানো শুরু করছি। অল্প কিছু করে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রি বাড়লে সব মাল দোকানে তোলার নিশ্চয়তা পাওয়া যায়।’ এছাড়াও নিউ মার্কেটের দোকানদার সাব্বির জানান, ‘শীত এখনও ওইরকম আসে নাই ঢাকায়। গ্রামগুলোতে শীত পড়ে গেছে। কিন্তু সবখানেই এখন মার্কেট আছে। একই কারখানা থেকে শীতের কাপড় যায়। তাই আগে গ্রামের কাস্টমার পাইলেও এখন শুধু ঢাকার কাস্টমারই আমাদের মূল ক্রেতা।’ তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে ফুটপাতগুলোতে। সব এলাকার ফুটপাতে শীতের কাপড়ের ভ্যানগুলোতে ক্রেতাদের জটলা। সবাই শীতের কাপড় নেড়েচেড়ে দেখছেন। ফুটপাতের বিক্রেতারা জানান, শীত উপলক্ষে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার শীতের কাপড় কিনে রাখেন একেকজন। প্রতিদিনই বিক্রি হচ্ছে। সামনের দিনগুলাতে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা রাখছেন তারা। মিরপুর-১০ এর গোলচক্কর এলাকার ফুটপাতের দোকানদার হান্নান মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিনই কাপড় আনি, প্রতিদিনই বিক্রি হচ্ছে। অনেকে গ্রামে যাবে। তাই অগ্রিম শীতের কাপড় কিনে রাখে। ইয়াং পোলাপাইনের কাছে এখন হালকা শীতের গেঞ্জি, ফুলহাতা পাতলা জ্যাকেট এগুলার বেশি চাহিদা। এগুলা বিক্রি করছি, পরে আরও ভারী শীতের কাপড়, হুডি এগুলা বিক্রি শুরু হবে।’ বিক্রি ভালো চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমার এইখানে ৩০০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে সব রকমের শীতের জামা পাওয়া যায়। মানুষও এখন কমে দেখতে ভালো জামা পায়। তাই কম-বেশি করে কিনছে।’ ঢাকা কলেজের সামনে ভ্যানে বিভিন্ন মানের শীতের কাপড়ের পসরা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। মোটামুটি মানে এক্সপোর্ট কোয়ালিটির জ্যাকেটের প্রতি আগ্রহ ক্রেতাদের। সেখানেও ৩০০ থেকে ৭০০ টাকায় শীতের কাপড় বিক্রি হচ্ছে। এ বিষয়ে বিক্রেতা ফয়সাল বলেন, ‘আমরা লটে কাপড় কিনে রাখছি। প্রতিদিনই ভালো বিক্রি হচ্ছে। সামনে আরও বিক্রি বাড়বে।’ মার্কেট আর ফুটপাত ছাড়াও দেশের বিভিন্ন ব্যান্ডের কাপডের দোকান ইতোমধ্যে শীতের কাপড় ডিসপ্লে করা শুরু করেছে। অনলাইনেও শীতের পোশাকের প্রচারণা জমে উঠেছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শীতের পোশাকের দাম তিন হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা রাখা হচ্ছে। গুলিস্তান, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটে কম্বল বিক্রিও জমে উঠতে শুরু করেছে।

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

রাজধানীতে জমে উঠছে শীতবস্ত্রের পসরা, বিক্রি বেশি ফুটপাতে

আপডেট সময় : ০১:২০:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২২

বাণিজ্য ডেস্ক :রাজধানীতে শীত এখনও আসেনি বললেই চলে। তবে শীত না এলেও শীতের কাপড় বিক্রির প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এখন ফুটপাতে আগে থেকেই শীতবস্ত্রের পসরা সাজিয়ে বসতে শুরু করেছেন তারা। এরই মধ্য বিক্রিও শুরু হয়ে গেছে। মঙ্গলবার ও বুধবার (১৫ ও ১৬ নভেম্বর) সরেজমিন ঢাকার মিরপুর, পল্টন, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এই চিত্র চোখে পড়েছে। মিরপুরের কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, প্রত্যেক দোকানেই দেশি এবং চায়না জ্যাকেট সাজিয়ে রেখেছে। তবে ক্রেতা ছিল কম। দোকানগুলোতে জিন্সের জ্যাকেট ১২০০ টাকা, প্যাটিন (লেদার) জ্যাকেট ১৬০০ টাকা ও এক্সপোর্টের জ্যাকেট ২৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর চায়না জ্যাকেট বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে ২২০০ টাকার। এছাড়াও নারীদের শীতের পোশাক ৭০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রিপন নামে এক দোকানি বলেন, ‘এবার শীতকে টার্গেট করে প্রায় ছয় লাখ টাকার কাপড় উঠিয়েছি। এখন একটা দুইটা করে জ্যাকেট বিক্রি হয়। আশা করছি সামনের মাস থেকেই বিক্রি বাড়বে।’ আরেক দোকানি শাওন ডিসেম্বরে বিক্রি বাড়ার প্রত্যাশা রেখে বলেন, ‘এক মাস আগে থেকেই মাল উঠানো শুরু করছি। অল্প কিছু করে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রি বাড়লে সব মাল দোকানে তোলার নিশ্চয়তা পাওয়া যায়।’ এছাড়াও নিউ মার্কেটের দোকানদার সাব্বির জানান, ‘শীত এখনও ওইরকম আসে নাই ঢাকায়। গ্রামগুলোতে শীত পড়ে গেছে। কিন্তু সবখানেই এখন মার্কেট আছে। একই কারখানা থেকে শীতের কাপড় যায়। তাই আগে গ্রামের কাস্টমার পাইলেও এখন শুধু ঢাকার কাস্টমারই আমাদের মূল ক্রেতা।’ তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে ফুটপাতগুলোতে। সব এলাকার ফুটপাতে শীতের কাপড়ের ভ্যানগুলোতে ক্রেতাদের জটলা। সবাই শীতের কাপড় নেড়েচেড়ে দেখছেন। ফুটপাতের বিক্রেতারা জানান, শীত উপলক্ষে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার শীতের কাপড় কিনে রাখেন একেকজন। প্রতিদিনই বিক্রি হচ্ছে। সামনের দিনগুলাতে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা রাখছেন তারা। মিরপুর-১০ এর গোলচক্কর এলাকার ফুটপাতের দোকানদার হান্নান মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিনই কাপড় আনি, প্রতিদিনই বিক্রি হচ্ছে। অনেকে গ্রামে যাবে। তাই অগ্রিম শীতের কাপড় কিনে রাখে। ইয়াং পোলাপাইনের কাছে এখন হালকা শীতের গেঞ্জি, ফুলহাতা পাতলা জ্যাকেট এগুলার বেশি চাহিদা। এগুলা বিক্রি করছি, পরে আরও ভারী শীতের কাপড়, হুডি এগুলা বিক্রি শুরু হবে।’ বিক্রি ভালো চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমার এইখানে ৩০০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে সব রকমের শীতের জামা পাওয়া যায়। মানুষও এখন কমে দেখতে ভালো জামা পায়। তাই কম-বেশি করে কিনছে।’ ঢাকা কলেজের সামনে ভ্যানে বিভিন্ন মানের শীতের কাপড়ের পসরা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। মোটামুটি মানে এক্সপোর্ট কোয়ালিটির জ্যাকেটের প্রতি আগ্রহ ক্রেতাদের। সেখানেও ৩০০ থেকে ৭০০ টাকায় শীতের কাপড় বিক্রি হচ্ছে। এ বিষয়ে বিক্রেতা ফয়সাল বলেন, ‘আমরা লটে কাপড় কিনে রাখছি। প্রতিদিনই ভালো বিক্রি হচ্ছে। সামনে আরও বিক্রি বাড়বে।’ মার্কেট আর ফুটপাত ছাড়াও দেশের বিভিন্ন ব্যান্ডের কাপডের দোকান ইতোমধ্যে শীতের কাপড় ডিসপ্লে করা শুরু করেছে। অনলাইনেও শীতের পোশাকের প্রচারণা জমে উঠেছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শীতের পোশাকের দাম তিন হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা রাখা হচ্ছে। গুলিস্তান, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটে কম্বল বিক্রিও জমে উঠতে শুরু করেছে।