নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার এফডিসি রেলগেইট এলাকায় ‘গাঁজা বিক্রির সময়’ যানজটে আটকা এক ভ্লগারের হেলমেটে ক্যামেরা দেখে মাদক কারবারিরা তাকে মারধর করেছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি কাজী আবুল কালাম বলেন, মাদক কারবারিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। অভিযোগকারী ভ্লগার ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার মাহমুদুল হাসান বলেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে তিনি হাতিরঝিলের দিকে যাচ্ছিলেন। এফডিসি রেলগেইট এলাকায় যখন যানজটে পড়েন তখনও হেলমেটে বসানো ক্যামেরা চালু ছিল। সেসময় সড়কের পাশেই তিনি এক তরুণকে পলিথিনে করে গাঁজা বিক্রি করতে দেখেন, তার সঙ্গে কথাও বলেন। এর কিছুক্ষণ পরই আরেক তরুণ হেলমেটে ক্যামেরা বুঝতে পেরে সংঘবদ্ধ হামলা চালান। ওই ঘটনার ভিডিও ধরা পড়েছে মাহমুদুলের ক্যামেরায়। এতে দেখা যায়, নীল টিশার্ট পড়া এক তরুণ পলিথিন হাতে ঘুরে ঘুরে গাঁজার পোটলা বিক্রি করছেন। মাহমুদুল তাকে জিজ্ঞেস করেন- ভাই গাঁজা কী এভাবে ওপেনে বিক্রি করেন? জবাবে বিক্রেতা তরুণ বলেন, ‘ওপেনে’। এ ছাড়া ভ্লগার মাহমুদুল দাম জানতে চাইলে ওই তরুণ উত্তর দেন- “প্রতি পোটলা ৬০ টাকা। কয়টা লাগব?”
এরপরই আরেক তরুণ চীৎকার করে বলেন, ‘ওই ওই চাপা, ভিডিও করতাছে। ওই যে, ওইটা ভিডিও ক্যামেরা’ৃ। কথা বলতে বলতেই ওই তরুণ ছুটে এসে ক্যামেরায় থাবা দেন। এরপর ধস্তাধস্তির শব্দ শোনা যায় ভিডিওতে। মিনিট দশেক পর আবার ভিডিও চালু করেন মাহমুদুল, ততোক্ষণে তিনি একদফা মারধরের শিকার হয়েছেন বলে জানান। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে সেখান থেকে সরে যেতে বলছিলেন। মাহমুদুল বলেন, “ওদের হাতে ক্ষুর ছিল। লোকজন না ঠেকাইলে তো ওরা ক্ষুর মেরে দিত। আমার ক্যামেরাটা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আপ্রাণ চেষ্টা করে ক্যামেরাটা রক্ষা করেছি। ক্যামেরায় তো ওদের ফুটেজ রয়েছে। ওটা চলে গেলেতো আমি কাউকে দেখাতে পারব না।” ঘটনাস্থল থেকে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কল দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “২৮ মিনিট পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। কিন্তু তার আগেই মাদক কারবারিরা পালিয়ে যায়।”
হেলমেটে ক্যামেরা দেখে ভ্লগারকে মারধরে মাদক বিক্রেতারা
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ





















