বিদেশের খবর ডেস্ক : দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে হেফাজতে রাখার সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এর বিরুদ্ধে লড়তেই গতকাল শনিবার প্রথম আদালতের শুনানিতে হাজিরা দিয়েছেন ইউন।
বুধবার ইউনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেদিন সকালে তাকে গাড়িতে করে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
রয়টার্স জানিয়েছিল, গ্রেফতারের পর কর্তৃপক্ষ ইউনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ৪৮ ঘণ্টা সময় পাবে। এরপর তাকে ২০ দিন পর্যন্ত আটক রাখা বা তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আদালতের পরোয়ানা চাইতে হবে।
কিন্তু গ্রেফতারের পর তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকার করেন ইউন। তাই আরও ২০ দিন তাকে হেফাজতে রাখার জন্য শুক্রবার আর্জি জানান তদন্তকারীরা। ইউনের আইনজীবী জানিয়েছেন, এর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য শনিবার আদালতের শুনানিতে উপস্থিত হন তিনি। শুনানি শেষে ইউন সিউল ডিটেনশন সেন্টারে ফিরে গেছেন এবং আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ইউন গতবছর ৩ ডিসেম্বর হঠাৎ সামরিক আইন জারি করে সবাইকে হতভম্ব করে দেন। জনগণ ও পার্লামেন্টের চাপে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সামরিক আইন তুলে নিলেও দক্ষিণ কোরিয়া গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়ে যায়।
সামরিক আইন জারির পর ফৌজদারি মামলার তদন্তে বুধবার দেশটির প্রথম ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে গ্রেপ্তার হন ইউন। ইউনের আইনজীবী ইউন কাব কেউন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “নিজের সম্মান পুনরুদ্ধারের জন্যই তদন্তকারীদের হেফাজতের সময় বৃদ্ধির আর্জির শুনানিতে আদালতে উপস্থিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ইউন।” এমনকি তিনি উপস্থিত হয়ে, সামরিক আইন জারির বৈধতা সরাসরি ব্যাখ্যা করেছেন এবং দেশদ্রোহের অভিযোগকে ভুল প্রমাণের চেষ্টা নিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন ইউনের আইনজীবী। একটি ভিডিও তে দেখা গেছে, প্রায় ডজনখানেক গাড়ি ও পুলিশের মোটরবাইকের বহর ইউনকে কড়া নিরাপত্তা দিয়ে আদালতে নিয়ে যায়।
রয়টার্স জানিয়েছে, সকালে সিউল ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের গেট অবরোধ করে রাখা ইউনের সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। পরবর্তীতে, হাজার হাজার সমর্থক শুনানি শুরু হওয়ার পর দুপুর ২টার দিকে আদালতে পুলিশ বাসের ব্যারিকেডের সামনে জড়ো হয়ে ‘ প্রেসিডেন্টকে মুক্তি দিন’ বলে স্লোগান দেয়।