ঢাকা ০৯:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

নিরাপত্তার আশায় হাসপাতালে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার নারী

  • আপডেট সময় : ০৮:২৪:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৮ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল- ছবি সংগৃহীত

মানিকগঞ্জ সংবাদ দাতা: মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গিয়ে এক গৃহবধূ দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা দুই আনসার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন—শাহাদাত হোসেন (২৯), টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং আবু সাঈদ (২৫), কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার স্বামী নারায়ণগঞ্জে বসবাস করেন। রোববার দুপুরে তারা ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে মানিকগঞ্জে নানাবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ভ্যানের চার্জ শেষ হয়ে যায়। গভীর রাতে রাস্তার তুলনায় হাসপাতাল চত্বরকে নিরাপদ মনে করে তারা মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে আশ্রয় নেন।

এ সময় ডিউটিরত আনসার সদস্য শাহাদাত হোসেন ও আবু সাঈদ নিরাপত্তার কথা বলে দম্পতিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের ভেতরে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, তারা স্বামীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিচতলায় আটকে রেখে গৃহবধূকে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

বর্তমানে ভুক্তভোগী গৃহবধূ মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গণমাধ্যমের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী বলেন, ‘নিরাপত্তার আশায় হাসপাতালে এসে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

গৃহবধূর স্বামী জানান, আনসার পোশাকধারীরা ভয় দেখিয়ে তার স্ত্রীকে নিয়ে যায় এবং এই জঘন্য অপরাধ করে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্তদের শনাক্ত করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. ইকরাম হোসেন জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ওআ/আপ্র/১২/১২০২৬

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

নিরাপত্তার আশায় হাসপাতালে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার নারী

আপডেট সময় : ০৮:২৪:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

মানিকগঞ্জ সংবাদ দাতা: মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গিয়ে এক গৃহবধূ দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা দুই আনসার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন—শাহাদাত হোসেন (২৯), টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং আবু সাঈদ (২৫), কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার স্বামী নারায়ণগঞ্জে বসবাস করেন। রোববার দুপুরে তারা ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে মানিকগঞ্জে নানাবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ভ্যানের চার্জ শেষ হয়ে যায়। গভীর রাতে রাস্তার তুলনায় হাসপাতাল চত্বরকে নিরাপদ মনে করে তারা মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে আশ্রয় নেন।

এ সময় ডিউটিরত আনসার সদস্য শাহাদাত হোসেন ও আবু সাঈদ নিরাপত্তার কথা বলে দম্পতিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের ভেতরে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, তারা স্বামীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিচতলায় আটকে রেখে গৃহবধূকে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

বর্তমানে ভুক্তভোগী গৃহবধূ মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গণমাধ্যমের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী বলেন, ‘নিরাপত্তার আশায় হাসপাতালে এসে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

গৃহবধূর স্বামী জানান, আনসার পোশাকধারীরা ভয় দেখিয়ে তার স্ত্রীকে নিয়ে যায় এবং এই জঘন্য অপরাধ করে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্তদের শনাক্ত করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. ইকরাম হোসেন জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ওআ/আপ্র/১২/১২০২৬