এসএম ফরিদ রানা, খুলনা : মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবনে অপহৃত ২ পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে দস্যুদের কবল থেকে উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। শ্বাসরুদ্ধকর এই যৌথ অভিযানে আটক করা হয়েছে ৫ দস্যুকে। কোস্টগার্ড পশ্চিমজোনের কর্মকর্তা কমান্ডার আবরার হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, ২ জানুয়ারি দুপুরে সুন্দরবন সংলগ্ন গোলকানন রিসোর্ট হতে পর্যাটকরা নৌকাযোগে ভ্রমণে বের হন। পর্যটকরা সুন্দরবনের কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় গেলে রিসোর্ট মালিকসহ ৭ ব্যক্তিকে বনদস্যু মাসুম মৃধার নেতৃত্বাধীন ডাকাতদল জিম্মি করে।
ডাকাতদল ৩ জন পর্যটক ও মাঝিকে মুক্তি দিলেও পর্যটক জাহিদুল ইসলাম জনি ও সোহেল এবং রিসোর্টের মালিক শ্রীপতি বাছাড়কে জিম্মি করে সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং ৪০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি কোস্ট গার্ডকে অবহিত করা হয়। রিসোর্ট মালিকের পরিবার থেকে দাকোপ থানায় মামলাও দায়ের করা হয়। এদিকে উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় পড়ে পর্যটকদের পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের অক্ষত ফিরে পেতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে ছুটাছুটি শুরু করে।
এরপর কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে দুই দফায় আটক করা হয় বনদস্যু মাসুমের সহযোগী দস্যু কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মোঃ সালাম বক্স (২৪) মেহেদী হাসান (১৯), আলম মাতুব্বর (৩৮) অয়ন কুন্ডকে (৩০)।
গত ৪ জানুয়ারি রাতের কোনো এক সময় সুন্দরবন থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় রিসোর্ট মালিক ও পর্যটকদের। এদিকে মুক্তিপণের প্রাপ্ত টাকা বিকাশের মাধ্যমে উত্তোলনকালে ডাকাত মাসুমের মা জয়নবী বিবিকে (৫৫) আটক করা হয়। বনদস্যু মাসুম মৃধাকে আটকে কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান চলমান রয়েছে।
উদ্ধারকৃত পর্যটকদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আটককৃত ডাকাত সহযোগী দস্যুদের খুলনার দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সানা/ওআ/আপ্র/৫/১/২০২৬




















