নিজস্ব প্রতিবেদক : সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি খুনের প্রায় সাড়ে ১১ বছর হতে চললেও প্রকৃত অপরাধীদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি। এ কারণে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে গতকাল সোমবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব কথা বলেন। এর আগে সোমবার সকালে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য র্যাবকে ১০০তম বার সময় দিয়েছেন আদালত।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত আমরা অনেক আন্তরিকতার সঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে করছি। এ জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানিতে ডিএনএ স্যাম্পল পাঠিয়েছি। খুব কম হত্যাকা-ের ক্ষেত্রে এমনটি হয়েছে। সেখান থেকে আসা প্রতিবেদনে সন্দেহভাজন দুজনের নমুনা পাওয়া গিয়েছে। দুজনকে এখনো শনাক্ত করতে পারিনি। তাঁদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে সাংবাদিক দম্পতি সাগর–রুনি হত্যা মামলার তদন্ত করছে র্যাব। আমরা যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব, এখানে যেন কোনোভাবেই কোনো নির্দোষ ব্যক্তি ভিকটিমাইজ (ভুক্তভোগী) না হন, সেই চেষ্টা থাকবে।’
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘সম্ভাব্য দুজন অপরাধীকে শনাক্তে আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। এই দুজনকে শনাক্ত করার পর আমরা বলতে পারব যে, আর কত দিন লাগবে।’ ১০০ বার তদন্ত প্রতিবেদন পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক কি না, প্রশ্ন করা হলে খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘এখানে স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিকের বিষয় নয়। আমাদের মূল উদ্দেশ্য, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করা। কেউ যেন এখানে ভুক্তভোগী না হন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো ব্যক্তি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না থাকার পরও আদালতে প্রতিবেদনে তাঁর নাম চলে যায়। আবার অনেকে আছেন, যিনি ঘটনার সম্পর্কে কিছুই জানেন না, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জেলে আছেন। আমরা এই ধরনের বিতর্কে জড়াতে চাচ্ছি না। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত শেষ করতে বেশি সময় লাগে।’ দুজন সম্ভাব্য অপরাধীকে শনাক্ত করতে র্যাবের জন্য অনেক কঠিন হচ্ছে জানিয়ে খন্দকার আল মঈন বলেন, হত্যার পর আলামত সংগ্রহ করা অনেক কঠিন কাজ ছিল। এই সাংবাদিক দম্পতি অনেক জনপ্রিয় ছিলেন। ঘটনার পর সেখানে অনেক মানুষ গিয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত র্যাব–পুলিশ যতজনকে গ্রেপ্তার করেছে তাঁদের মধ্যে ওই দুজন সন্দেহভাজন ছিলেন কিনা, প্রশ্ন করা হলে খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহ আমরা ২৫ জনের আলামত ডিএনএর পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছিলাম। সেখান থেকে আসা প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে আমরা দুজন সন্দেহভাজন পেয়েছি।’ ওই ২৫ জনের বিষয়ে খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যে তদন্ত হয়েছে তাতে আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তারা সুনিশ্চিত না হত্যার সঙ্গে ওই ২৫ জনের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না।’
রাজধানীর শেরেবাংলা থানাধীন পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। সেদিন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন (প্রয়াত) বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করা হবে। খুনের দুই দিন পর পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহামুদ খন্দকারও বলেছিলেন, তদন্তের ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে এই জোড়া খুনের সাড়ে ১১ বছরেও তদন্তের অগ্রগতি নেই। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাত ঘুরে এই তদন্তভার এখন র্যাবের কাছে। এ বিষয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি খুনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ১০০তম বার সময় নেওয়া অগ্রহণযোগ্য এবং দুঃখজনক ঘটনা। তদন্ত সংস্থারই দায়িত্ব, যত দ্রুত সম্ভব আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া।