ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬

সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রীসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

  • আপডেট সময় : ০৪:২১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: নামসর্বস্ব কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও এমডিসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) গ্রহণ করে চট্টগ্রাম সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এই আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। আসামিদের মধ্যে আব্দুল আজিজ, উৎপল পাল, জাহাঙ্গীর আলম ও মো. সুমন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বাকি ৩২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামের একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া ঋণ অনুমোদন করিয়ে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে চার্জশিট অনুমোদন দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান খান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। শুরুতে আসামি ৩১ জন থাকলেও তদন্ত শেষে চার্জশিটে আসামির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ জনে। এর মধ্যে ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক এফএভিপি মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল ও কাজী মোহাম্মদ দিলদার আলম মারা যাওয়ায় তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

চার্জশিটভুক্ত অন্য উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন– সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, ইউসিবি ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আরিফ কাদরী, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বজল আহমেদ বাবুল, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর, এবং সাবেক পরিচালক ইউনুছ আহমদ, হাজী আবু কালাম ও নুরুল ইসলাম চৌধুরীসহ ব্যাংকের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউসিবি ব্যাংকের পোর্ট শাখা থেকে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামের অস্তিত্বহীন একটি প্রতিষ্ঠানকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত সাইফুজ্জামান চৌধুরীর একজন কর্মচারীকে মালিক সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই অর্থ আলফা ট্রেডিং, ক্লাসিক ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের মতো বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়, যেগুলোর মালিকানায় ছিলেন সাবেক মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ কর্মচারীরা।

পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এসি/আপ্র/০৭/০১/২০২৫

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রীসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

আপডেট সময় : ০৪:২১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: নামসর্বস্ব কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও এমডিসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) গ্রহণ করে চট্টগ্রাম সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এই আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। আসামিদের মধ্যে আব্দুল আজিজ, উৎপল পাল, জাহাঙ্গীর আলম ও মো. সুমন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বাকি ৩২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামের একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া ঋণ অনুমোদন করিয়ে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে চার্জশিট অনুমোদন দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান খান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। শুরুতে আসামি ৩১ জন থাকলেও তদন্ত শেষে চার্জশিটে আসামির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ জনে। এর মধ্যে ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক এফএভিপি মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল ও কাজী মোহাম্মদ দিলদার আলম মারা যাওয়ায় তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

চার্জশিটভুক্ত অন্য উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন– সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, ইউসিবি ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আরিফ কাদরী, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বজল আহমেদ বাবুল, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর, এবং সাবেক পরিচালক ইউনুছ আহমদ, হাজী আবু কালাম ও নুরুল ইসলাম চৌধুরীসহ ব্যাংকের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউসিবি ব্যাংকের পোর্ট শাখা থেকে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামের অস্তিত্বহীন একটি প্রতিষ্ঠানকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত সাইফুজ্জামান চৌধুরীর একজন কর্মচারীকে মালিক সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই অর্থ আলফা ট্রেডিং, ক্লাসিক ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের মতো বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়, যেগুলোর মালিকানায় ছিলেন সাবেক মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ কর্মচারীরা।

পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এসি/আপ্র/০৭/০১/২০২৫