আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ববাজারে সর্বকালের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছে সোনা ও রুপা। যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কম থাকায় সুদ কমানোর জল্পনা জোরদার হওয়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা সোনা–রুপার প্রতি বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১৫ মিনিট) স্পট সোনার দাম এক শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৩২ দশমিক ০৩ ডলার। এর আগে লেনদেনের একপর্যায়ে সোনা সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৪২ ডলারে পৌঁছায়। ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহযোগ্য যুক্তরাষ্ট্রের সোনার ফিউচারও ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৫০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
এদিন আরো বেশি উত্থান হয়েছে রুপার দামে। স্পট রুপা ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৯০ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছেছে, যা ইতিহাসে প্রথমবার। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে।
কেন বাড়ছে সোনা-রুপার দাম
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআইয়ের সর্বশেষ তথ্য বিনিয়োগকারীদের আশাবাদ বাড়িয়েছে। ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বার্ষিক ভিত্তিতে ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ, যা প্রত্যাশার চেয়ে কম। মাসিক ভিত্তিতে মূল সিপিআই বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ২ শতাংশ, যেখানে বাজারের পূর্বাভাস ছিল ০ দশমিক ৩ শতাংশ।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, মূল্যস্ফীতির এই তুলনামূলক শান্ত চিত্র বিনিয়োগকারীদের আরো শিথিল মুদ্রানীতির প্রত্যাশা জিইয়ে রেখেছে।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের প্রতি সুদহার ‘গুরুত্বপূর্ণভাবে’ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও পাওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যাংকার ও সাবেক ফেড চেয়ারম্যানরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলারসহ যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের ওপর আস্থার প্রশ্ন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা আরো বাড়িয়েছে। বাজারে ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরে দুই দফায় ০ দশমিক ২৫ শতাংশ করে সুদ কমানো হতে পারে, যার প্রথমটি হতে পারে জুনে।
কম সুদের পরিবেশ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় সুদহীন সম্পদ যেমন- সোনা ঐতিহ্যগতভাবে লাভবান হয়। এএনজেড ব্যাংক বলছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই সোনার দাম প্রতি আউন্স পাঁচ হাজার ডলারের ওপর উঠতে পারে।
রুপার ক্ষেত্রেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। গোল্ডসিলভার সেন্ট্রালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রায়ান ল্যানের মতে, রুপার পরবর্তী বড় লক্ষ্য হতে পারে প্রতি আউন্স ১০০ ডলার।
অন্যদিকে, বুধবার প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৩৮৬ দশমিক ৬০ ডলারে উঠেছে। প্যালাডিয়ামের দামও ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৫৪ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এসি/আপ্র/১৪/০১/২০২৬



















