প্রত্যাশা ডেস্ক: প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় শাকসবজি রাখা অত্যাবশ্যক। শাকসবজি শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের চাহিদা পূরণ করে। নিয়মিত শাকসবজি গ্রহণ শুধু অপুষ্টি দূরই করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। এই শাকের মধ্যে পুদিনাপাতা ও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই সবুজ পাতা আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পুদিনাপাতার সহজলভ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ ও স্বাস্থ্যরক্ষায় কার্যকর। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে সপ্তাহে ২-৩ বার খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীরের জন্য উপকারী। এটি প্রকৃত সবুজ ওষুধ হিসেবে কাজ করে। পুদিনাপাতার দেশে-বিদেশে বহুল ব্যবহৃত। এর কোমল পাতা ও ডাঁটায় রয়েছে ভিটামিন, খনিজ ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যআঁশ।
পুদিনাপাতারর পুষ্টি উপাদান: ১০০ গ্রাম পুদিনাপাতারয় পুষ্টির (প্রায়) পরিমাণ হলো ক্যালোরি ৪৫ কিলোক্যালরি, প্রোটিন ৩.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৮ গ্রাম, ফ্যাট ০.৮ গ্রাম, ডায়েটারি ফাইবার, ৬.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৬৫ মিলিগ্রাম, আয়রন ৮ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ৮০ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৭৫৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৩১.৮ মিলিগ্রাম ও ভিটামিন এ ১৫০০-২০০০ আইইউ। পুষ্টি অনুযায়ী দেখা গেছে, পুদিনাপাতায় আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘সি’ উল্লেখযোগ্য। এটি রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ, হাড়ের স্বাস্থ্য, ত্বক ও চুলের যত্ন এবং ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে কার্যকর।
পুদিনাপাতার উপকারিতা: পুদিনাপাতারর মেন্টল অন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় ও হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং শ্বাসনালি ও শীতজনিত সমস্যা কমায়। পুদিনার তাজা গন্ধ কফ ও কাশির শ্লেষ্মা সরিয়ে দেয়। ফলে শ্বাস নেওয়া সহজ হয়। এ ছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পুদিনাপাতারয় থাকা ভিটামিন ‘সি’ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। এটি ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষা: পুদিনার অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য মুখের ব্যাকটেরিয়া কমাতে এবং শ্বাসকে ফ্রেশ রাখতে সহায়ক।
ত্বক ও চুলের যত্ন: অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য ফুসকুড়ি ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ত্বককে সতেজ রাখে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক।
মানসিক সতেজতা ও স্ট্রেস কমায়: পুদিনার গন্ধ মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং মনোযোগ বৃদ্ধি করে।
হৃদরোগ ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদযন্ত্র সুরক্ষা দেয় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
কফ ও কাশি কমে: শীতে বা অ্যালার্জির সময় পুদিনা চা বা পুদিনা পানি সেবন করলে কফ ও কাশির উপশম ঘটে।
লিভারের জন্য উপকারী: পুদিনায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের কোষকে সুরক্ষা দেয় এবং ডিটক্সিফিকেশনে সহায়তা করে।
পুদিনাপাতা খাওয়ার পদ্ধতি-
পুদিনা চা: পুদিনাপাতার গরম পানিতে ভিজিয়ে চা তৈরি করা হয়। চাইলে লেবুর রস বা সামান্য মধু যোগ করা যায়। এতে হজম শক্তি বৃদ্ধি, শ্বাসনালির স্বস্তি, স্ট্রেস কমানো এবং ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য উন্নত করা। সাধারণভাবে খাওয়ার সময় দিনে ১-২ কাপ।
সালাদ ও চাটনি বা ভর্তা: কাঁচা পাতা সালাদে যোগ করা বা পুদিনা ভর্তা বা চাটনি বানিয়ে ভাত-রুটির সঙ্গে খাওয়া। এতে খাবারের স্বাদ বাড়ায় এবং হজম ও পেটের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
পুদিনা শরবত বা পানি: পুদিনাপাতা ও ঠান্ডা পানি মিশিয়ে শরবত তৈরি করা হয়। গরমকালে শরীর ঠান্ডা রাখতে কার্যকর। এতে গরমের তাপ কমানো, শরীর ও মনকে সতেজ রাখা।
রান্নায় স্বল্প ব্যবহার: সবজি, ডাল, মাছ বা মাংসের রেসিপিতে সামান্য পুদিনাপাতার কুচি করে যোগ করা। এটি স্বাদ বৃদ্ধির পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ‘সি’ সরবরাহ করে।
যাদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী: কোষ্ঠকাঠিন্যপ্রবণ ব্যক্তি, লিভার সমস্যা থাকা ব্যক্তি, শ্বাসনালি বা কফ-কাশিতে ভোগা ব্যক্তি, মানসিক চাপ কমাতে চাওয়া ব্যক্তির জন্য পুদিনাপাতা বিশেষভাবে উপকারী।
সতর্কতা: অতিরিক্ত পুদিনা খেলে অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিক সমস্যা হতে পারে। শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী বা বিশেষ ওষুধ গ্রহণকারীরা ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে ভালো। তেলে বেশি ভাজা হলে পুষ্টিমান নষ্ট হতে পারে। অতিরিক্ত তাপে রান্না করলে ভিটামিন ‘সি’ ও অন্যান্য পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়।
আজকের প্রত্যাশা/কেএমএএ






















