ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সমাবেশে মির্জা ফখরুল

সরকার নিজেই ভোট ব্যাহত করার অবস্থা তৈরি করছে

  • আপডেট সময় : ০৬:৩৭:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ৭৬ বার পড়া হয়েছে

শুক্রবার ঢাকার নয়া পল্টনে এক সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তী সরকার নিজেই ভোট ব্যাহত করার মতো ‘অবস্থা তৈরি করছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) ঢাকার নয়া পল্টনে এক সমাবেশে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যাকে আমরা সম্পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছি, তারা আজ নিজেরাই একটা অবস্থা তৈরি করছে, যেন নির্বাচন ব্যাহত হয়। ওই রাজনৈতিক দলগুলো, যে কয়েকটা দল গণভোটের চাপ দিচ্ছে, তারাও আজ খুব পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, নির্বাচনকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে।

ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের দাবি পুনর্ব্যাক্ত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা খুব স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, গণভোট হলে নির্বাচনের দিনই হতে হবে। ‘আর নির্বাচন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই হতে হবে। অন্যথায় দেশের মানুষ মেনে নেবে না।
৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালনের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি। সমাবেশের পরে হয় শোভাযাত্রা।
শোভাযাত্রাটি শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার ও বাংলামোটর হয়ে সোনারগাঁও হোটেলের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় দলের মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খাসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা গণতন্ত্রের চেতনা, আমাদের বিএনপির জন্ম হয়েছে সংস্কারের মধ্য দিয়ে। আমাদের নেতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংস্কারের সূচনা করেছেন; আর আজ তারেক রহমান নতুন সংস্কারের ৩১ দফা দিয়ে জাতিকে সামনে এগিয়ে দেওয়ার একটা ম্যাগনাকাটা দিয়েছেন। আমরা সেই লক্ষে এগিয়ে যাব, আমরা এই নির্বাচনে অংশ নেব। ইনশাআল্লাহ এই নির্বাচনে জয়যুক্ত হয়ে আমরা একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

তাহলে ৭ মাস ঐক্যেমত্যের আলোচনার কী হলো: গণভোট নিয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত এবং কয়েকটি দলের দাবির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা দেখলাম হঠাৎ করে উপদেষ্টা পরিষদের একজন সদস্য সংবাদ সম্মেলন করে বললেন, তাদের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, সাতদিন সময় দেওয়া হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে। তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। তাহলে এতদিন ধরে, সাত মাস ধরে যে জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করার জন্য ঐকমত্য কমিশন বসলেন, সমস্ত সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে আলাপ আলোচনা করলেন, তাহলে সেটা কীভাবে হলো? অসংখ্য টাকা খরচ করে আপনারা যেটা করলেন, সেটায় রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো সমাধান হয়নি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে সংসদ নির্বাচনের আগে নভেম্বরেই গণভোটের দাবি তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মভিত্তিক আটটি দল। কিন্তু কেন গণভোট আগে হতে হবে, সেই প্রশ্ন তুলে ফখরুল বলেন, আজকে একটা রাজনৈতিক দল কয়েকটা দলকে নিয়ে জোট বানিয়েছে, তারা চাপ সৃষ্টি করছে বিভিন্নভাবে যে নির্বাচনের আগেই গণভোট হতে হবে। কেন নির্বাচনের আগে গণভোট হতে হবে? আমরা বলেছি যে, আমরা গণভোট মানছি, সেই গণভোট নির্বাচনের দিনই হতে হবে। কারণ দুটো ভোট করতে গেলে অনেক টাকা খরচ হবে। তাছাড়া মূল যে নির্বাচন জাতীয় নির্বাচন, সেটা ক্ষুন্ন হয়ে যাবে।

বিএনপি মহাসচিবের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ও উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক বক্তব্য রাখেন।

আবারও গণতন্ত্র ধ্বংসের চক্রান্ত: গণঅভ্যুত্থানের পর ‘আবারও গণতন্ত্র ধ্বংসের চক্রান্ত হচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই মন্তব্য করেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পরে আজ বাংলাদেশে বিভিন্ন রকমভাবে একটা প্রচেষ্টা চলছে, একটা চক্রান্ত চলছে গণতন্ত্রকে আবারও ধ্বংস করার জন্যে।’ তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, সেই পথেই যেতে হবে। যে পথে সত্যিকার অর্থেই আমরা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করতে পারবো, একটা সমৃদ্ধ রাষ্ট্র নির্মাণ করতে পারবো, জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবো, বিচারের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবো, সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, বিএনপি এগিয়ে যাবে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।’

জামায়াতের আলোচনার প্রস্তাব প্রসঙ্গে: জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গণভোট প্রশ্নে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার যে প্রস্তাব দিয়েছেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য গতকাল দলের স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত খুব পরিষ্কার করে আপনাদের জানিয়ে দিয়েছি। ওটাই আমাদের বক্তব্যে।’

স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপি দৃঢ়ভাবে মনে করে দীর্ঘ আলোচনায় উপনীত ঐকমত্যকে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ থাকবে এবং কোনোমতেই নিত্য-নতুন প্রশ্ন উত্থাপন কিংবা সংকট সৃষ্টি করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আয়োজিতব্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধা সৃষ্টি করবে না। বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জুলাই জাতীয় সনদের যেসব বিষয় ঐকমত্য হয়েছে তার আইনানুগ বাস্তবায়নের জন্য এবং যথাসময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আন্তরিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপি মহাসচিব দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহ উদ্দিন আহমদ, এজেডএম জাহিদ হোসেনকে নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে যান এবং পুষ্পমাল্য অর্পণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময়ে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম আজাদসহ মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু, তানভীর আহমেদ রবিনসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির পুষ্পস্তবক অপর্ণের পরে মহানগর বিএনপি, মুক্তিযোদ্ধা দল, মহিলা দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ড্যাব, এ্যাব, ছাত্রদল, তাঁতী দল, মস্যজীবীদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা আলাদাভাবে জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অপর্ণ করে।

জিয়া সমৃদ্ধির ভিত্তি নির্মাণ করেছেন: ৭ নভেম্বরের পটভূমি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সৈনিক এবং দেশপ্রেমিক মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে আধিপত্যবাদের চক্রান্তকে বানচাল করে দেয় এবং এই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং মহানায়ক, রাষ্ট্রনায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে গৃহবন্দি থেকে উদ্ধার করে নিয়ে এসে রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করে। এটা ছিল বাংলাদেশের অগ্রগতির একটা টার্নিং পয়েন্ট। তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান একদলীয় ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফেরত নিয়ে আসেন। মাল্টি পার্টি ডেমোক্রেসি তিনি চর্চা করেন, তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করেন এবং জনগণের গণতান্ত্রিক যে অধিকার সে অধিকারকে নিশ্চিতের চেষ্টা করেন। রাষ্ট্র পরিচালনার মাত্র চার বছরের মধ্যে তিনি বাংলাদেশে একদিকে রাষ্ট্র ব্যবস্থার, রাজনৈতিক অবস্থার, অন্যদিকে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার সাধন করেন এবং একদলীয় বাকশাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে নিয়ে আসেন।’

দেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু করে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে উন্নয়নে অগ্রযাত্রা সূচনা করেন উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশকে সুখী, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র নির্মাণের ভিত্তি নির্মাণ করেছিলেন তিনি। সেই ভিত্তি পরবর্তীকালে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।’

সানা/ওআ/আপ্র/০৭/১১/২০২৫

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সমাবেশে মির্জা ফখরুল

সরকার নিজেই ভোট ব্যাহত করার অবস্থা তৈরি করছে

আপডেট সময় : ০৬:৩৭:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তী সরকার নিজেই ভোট ব্যাহত করার মতো ‘অবস্থা তৈরি করছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) ঢাকার নয়া পল্টনে এক সমাবেশে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যাকে আমরা সম্পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছি, তারা আজ নিজেরাই একটা অবস্থা তৈরি করছে, যেন নির্বাচন ব্যাহত হয়। ওই রাজনৈতিক দলগুলো, যে কয়েকটা দল গণভোটের চাপ দিচ্ছে, তারাও আজ খুব পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, নির্বাচনকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে।

ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের দাবি পুনর্ব্যাক্ত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা খুব স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, গণভোট হলে নির্বাচনের দিনই হতে হবে। ‘আর নির্বাচন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই হতে হবে। অন্যথায় দেশের মানুষ মেনে নেবে না।
৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালনের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি। সমাবেশের পরে হয় শোভাযাত্রা।
শোভাযাত্রাটি শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার ও বাংলামোটর হয়ে সোনারগাঁও হোটেলের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় দলের মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খাসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা গণতন্ত্রের চেতনা, আমাদের বিএনপির জন্ম হয়েছে সংস্কারের মধ্য দিয়ে। আমাদের নেতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংস্কারের সূচনা করেছেন; আর আজ তারেক রহমান নতুন সংস্কারের ৩১ দফা দিয়ে জাতিকে সামনে এগিয়ে দেওয়ার একটা ম্যাগনাকাটা দিয়েছেন। আমরা সেই লক্ষে এগিয়ে যাব, আমরা এই নির্বাচনে অংশ নেব। ইনশাআল্লাহ এই নির্বাচনে জয়যুক্ত হয়ে আমরা একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

তাহলে ৭ মাস ঐক্যেমত্যের আলোচনার কী হলো: গণভোট নিয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত এবং কয়েকটি দলের দাবির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা দেখলাম হঠাৎ করে উপদেষ্টা পরিষদের একজন সদস্য সংবাদ সম্মেলন করে বললেন, তাদের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, সাতদিন সময় দেওয়া হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে। তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। তাহলে এতদিন ধরে, সাত মাস ধরে যে জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করার জন্য ঐকমত্য কমিশন বসলেন, সমস্ত সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে আলাপ আলোচনা করলেন, তাহলে সেটা কীভাবে হলো? অসংখ্য টাকা খরচ করে আপনারা যেটা করলেন, সেটায় রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো সমাধান হয়নি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে সংসদ নির্বাচনের আগে নভেম্বরেই গণভোটের দাবি তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মভিত্তিক আটটি দল। কিন্তু কেন গণভোট আগে হতে হবে, সেই প্রশ্ন তুলে ফখরুল বলেন, আজকে একটা রাজনৈতিক দল কয়েকটা দলকে নিয়ে জোট বানিয়েছে, তারা চাপ সৃষ্টি করছে বিভিন্নভাবে যে নির্বাচনের আগেই গণভোট হতে হবে। কেন নির্বাচনের আগে গণভোট হতে হবে? আমরা বলেছি যে, আমরা গণভোট মানছি, সেই গণভোট নির্বাচনের দিনই হতে হবে। কারণ দুটো ভোট করতে গেলে অনেক টাকা খরচ হবে। তাছাড়া মূল যে নির্বাচন জাতীয় নির্বাচন, সেটা ক্ষুন্ন হয়ে যাবে।

বিএনপি মহাসচিবের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ও উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক বক্তব্য রাখেন।

আবারও গণতন্ত্র ধ্বংসের চক্রান্ত: গণঅভ্যুত্থানের পর ‘আবারও গণতন্ত্র ধ্বংসের চক্রান্ত হচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই মন্তব্য করেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পরে আজ বাংলাদেশে বিভিন্ন রকমভাবে একটা প্রচেষ্টা চলছে, একটা চক্রান্ত চলছে গণতন্ত্রকে আবারও ধ্বংস করার জন্যে।’ তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, সেই পথেই যেতে হবে। যে পথে সত্যিকার অর্থেই আমরা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করতে পারবো, একটা সমৃদ্ধ রাষ্ট্র নির্মাণ করতে পারবো, জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবো, বিচারের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবো, সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, বিএনপি এগিয়ে যাবে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।’

জামায়াতের আলোচনার প্রস্তাব প্রসঙ্গে: জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গণভোট প্রশ্নে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার যে প্রস্তাব দিয়েছেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য গতকাল দলের স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত খুব পরিষ্কার করে আপনাদের জানিয়ে দিয়েছি। ওটাই আমাদের বক্তব্যে।’

স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপি দৃঢ়ভাবে মনে করে দীর্ঘ আলোচনায় উপনীত ঐকমত্যকে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ থাকবে এবং কোনোমতেই নিত্য-নতুন প্রশ্ন উত্থাপন কিংবা সংকট সৃষ্টি করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আয়োজিতব্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধা সৃষ্টি করবে না। বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জুলাই জাতীয় সনদের যেসব বিষয় ঐকমত্য হয়েছে তার আইনানুগ বাস্তবায়নের জন্য এবং যথাসময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আন্তরিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপি মহাসচিব দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহ উদ্দিন আহমদ, এজেডএম জাহিদ হোসেনকে নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে যান এবং পুষ্পমাল্য অর্পণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময়ে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম আজাদসহ মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু, তানভীর আহমেদ রবিনসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির পুষ্পস্তবক অপর্ণের পরে মহানগর বিএনপি, মুক্তিযোদ্ধা দল, মহিলা দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ড্যাব, এ্যাব, ছাত্রদল, তাঁতী দল, মস্যজীবীদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা আলাদাভাবে জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অপর্ণ করে।

জিয়া সমৃদ্ধির ভিত্তি নির্মাণ করেছেন: ৭ নভেম্বরের পটভূমি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সৈনিক এবং দেশপ্রেমিক মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে আধিপত্যবাদের চক্রান্তকে বানচাল করে দেয় এবং এই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং মহানায়ক, রাষ্ট্রনায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে গৃহবন্দি থেকে উদ্ধার করে নিয়ে এসে রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করে। এটা ছিল বাংলাদেশের অগ্রগতির একটা টার্নিং পয়েন্ট। তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান একদলীয় ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফেরত নিয়ে আসেন। মাল্টি পার্টি ডেমোক্রেসি তিনি চর্চা করেন, তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করেন এবং জনগণের গণতান্ত্রিক যে অধিকার সে অধিকারকে নিশ্চিতের চেষ্টা করেন। রাষ্ট্র পরিচালনার মাত্র চার বছরের মধ্যে তিনি বাংলাদেশে একদিকে রাষ্ট্র ব্যবস্থার, রাজনৈতিক অবস্থার, অন্যদিকে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার সাধন করেন এবং একদলীয় বাকশাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে নিয়ে আসেন।’

দেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু করে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে উন্নয়নে অগ্রযাত্রা সূচনা করেন উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশকে সুখী, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র নির্মাণের ভিত্তি নির্মাণ করেছিলেন তিনি। সেই ভিত্তি পরবর্তীকালে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।’

সানা/ওআ/আপ্র/০৭/১১/২০২৫